সংবাদ শিরোনাম

বিমানের টিকিটের জন্য জমানো টাকায় তরুণকে ইজিবাইক কিনে দিলেন সুমন | মৌলবাদী গোষ্ঠী ধর্মীয় সংগঠন করে রাজনৈতিক খায়েশ মেটাচ্ছে: শিক্ষা উপমন্ত্রী | ‘আওয়ামী লীগ-বিএনপি লড়াই নাই, দেশের মানুষ ভাই ভাই'- বাবুনগরী | নাগরিকদের বিনামূল্যে করোনা ভ্যাকসিন দেবে মালয়েশিয়া | ছেলের নামে টুর্নামেন্টের আয়োজন করে খেলোয়াড়দের পেটালেন ইউএনও! | ভাস্কর্য আমার বাবার হলেও টেনেহিঁচড়ে ফেলে দেবো: বাবুনগরী | মাহফিলে বক্তব্য না দিয়েই ঢাকায় ফিরে গেলেন মামুনুল হক | ঝিকরগাছায় ধানের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে খুশির ঝিলিক | অনলাইনে ১৬ লাখ টাকার ফ্যান কিনে পেলেন ঝুট কাপড় ও ইট! | সন্ত্রাসী হামলায় ইরানের জ্যেষ্ঠ পরমাণুবিজ্ঞানী নিহত |

  • আজ ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

এক শিশু দিয়ে টানা একাধিক রাত তৃপ্তি খুঁজে পান না তিনি!

১২:০৫ পূর্বাহ্ন | বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ
নাছির উদ্দিন

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ চট্টগ্রামের কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের পেশা শিক্ষকতা হলেও নেশা তার ভিন্ন। ছোট ছেলেশিশুদের প্রতি প্রবলভাবে যৌনাসক্ত তিনি। বিকৃত এই যৌন কামনা চরিতার্থের ক্ষেত্রেও আবার অদ্ভুত তরিকা তার। এক শিশু দিয়ে টানা একাধিক রাত তৃপ্তি খুঁজে পান না। প্রতিরাতের জন্যই চাই নতুন মুখ, ভিন্নভিন্ন শিশু।

বিকৃত রুচির এই বলাৎকারকারী (৩৫) শিক্ষকতার মহান পরিচয়ের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ করে আসছেন মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশুনা করতে আসা কমবয়সী ছেলেশিশুদেরকে। কোনো ছাত্র রাজি না হলে বা প্রতিবাদ করলেই তার ওপর নেমে আসতো ‘হুজুরের’ নির্যাতনের খড়গ। নানা অজুহাতে ক্রমাগত মারপিটের শিকার হবার পর বাধ্য হয়েই হুজুরের শয্যাসঙ্গী হতে রাজি হয়ে যেত কোমলমতি শিশুরা।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আনোয়ার হোসেন তার ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাসে তুলে ধরেছেন এসব তথ্য।

তিনি লিখেছেন, ‘নাছিরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ফিরিস্তি শুনলে এ মায়াবাক্যাকে আপনার কাছে পরিহাসই মনে হবে। মাদ্রাসার হোস্টেলের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্বে থাকার সুযোগ নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে অনেক শিশু ছাত্রকেই নিয়মিত বিছানার সঙ্গী করে সে। ঘটনা সংক্রান্তে প্রাথমিক অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে যা বের হয়ে আসে, তাতে শিউরে উঠবেন যেকোনো মানুষই।

ধর্ষণ করার জন্য মূলত দশ বছরের নিচে বয়সী ছেলেশিশুদেরকেই টার্গেট করত সে। কোন শিশু তার আহ্বানে সাড়া না দিলে তাকে বাধ্য করার জন্য কারণে অকারণে তাকে বেধড়ক মারধর করা হতো। যেহেতু সেখানে বেশিরভাগ শিশুই এতিম/দরিদ্র পরিবার থেকে আসা, শেষ পর্যন্ত তার পক্ষে হুজুরের প্রস্তাবে হ্যাঁ বলা ভিন্ন কোনো উপায় থাকতো না। নাছিরের ছেলেশিশু আসক্তি এমন পর্যায়ে উন্নীত হয়েছিলো যে, বিষয়টি টের পেয়ে তার স্ত্রী তিন বছরের সন্তানকে নিয়ে তাকে ছেড়ে চলে যান।

নির্যাতনের শিকার ওইসব শিশুর প্রতি সহমর্মি হবার পাশাপাশি নাছির আবার ভীষণ রকম নিয়মনিষ্ঠও। বিশৃঙ্খলা তার একদমই অপছন্দ। তাই তো তিনি একেবারে রুটিন করে দিয়েছেন, ওস্তাদের খেদমতে কবে কখন কোন শিশু হাজির হবে। যেন সেই গল্পের অত্যাচারী সিংহের মতো, যে কিনা বনের পশুদের সাথে চুক্তি করেছিল যে, প্রতিদিন একটি করে প্রাণী খাবার হিসেবে তার নিকট চলে আসলে সে আর যার তার ওপর অত্যাচার করবে না। এই করে বেশ ভালমতোই চলে আসছিল শিক্ষকতার আড়ালে তার বেপরোয়া বিকৃত যৌনজীবন। ছাত্ররাও মারধর, হুমকি ধামকির ভয়ে নীরবে নিশ্চুপে সব সয়ে যাচ্ছিল।

ঝামেলা শুরু হয় সোমবার(১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায়। এক অভিভাবকের কাছ থেকে প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়ার পর বিশদ অনুসন্ধানে উঠে আসে বলাৎকারকারী নাছিরের গোপন বিকৃত যৌনজীবনের অবিশ্বাস্য সব খতিয়ান। তারপর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের এবং মধ্যরাতে পরিচালিত অভিযানে গ্রেফতার করা হয় ভণ্ড হুজুর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনকে।

কিন্তু গ্রেফতারের পর রীতিমতো ভোল পালটে ফেলে সে। বারবার পুলিশের নিকট দাবি করতে থাকে, তিনি নাকি কাউকে জোর করে বিছানায় নিতেন না, ছাত্ররাই নাকি স্বেচ্ছায় তার সঙ্গ নিতে আসতো। যদিও গরিব ঘরের অসহায় ছেলেগুলোর সাথে দিনের পর দিন কোন কৌশলে, কি কি ঘটিয়েছে নরপশু নাছির সেটা বলেনি।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে আদালতে পাঠানো হলে নাছির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে তার বিরুদ্ধে আনীত বলাৎকারের অভিযোগ স্বীকার করেছে। পাশাপাশি বলাৎকারের শিকার শিশুদের মধ্যে চারজনও আদালতে উপস্থিত হয়ে তাদের ওপর চালানো নির্মমতার বর্ণনা দেয়।

নাছির উদ্দিনের ভাষ্য, ‘স্যার, ওরা তো খুব ছোট। তাই আমি সবসময় চেষ্টা করি, যেন ওরা বেশি ব্যথা না পায়। আমি তো ওদের শিক্ষক, ওরা ব্যথা পেয়ে কান্নাকাটি করলে আমার খুব কষ্ট লাগে’!