• আজ ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

কাদের মোল্লাকে ‘শহীদ’ লেখার মামলায় রুহুল আমিন গাজী গ্রেপ্তার

⏱ ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২০ 📂 আলোচিত
রুহুল আমিন গাজী

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- ফাঁসিরদণ্ড কার্যকর হওয়া যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লাকে শহীদ ও মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং প্রাপ্ত উল্লেখ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় দৈনিক সংগ্রামের চিফ রিপোর্টার মো. রুহুল আমিন গাজীকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানিয়েছেন ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

তিনি বলেন, দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার চীফ রিপোর্টার মো. রুহুল আমিন গাজী তার দুজন সহযোগীর সাথে পরস্পর যোগসাজসে গত ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসের ১১ তারিখে কলাম জুড়ে বোল্ড লেটারে শহীদ 'আব্দুল কাদের মোল্লার ৬ষ্ঠ শাহাদৎ বাষির্কী আজ' শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এই প্রতিবেদনে তিনি যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লাকে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিংপ্রাপ্ত আখ্যা দিয়ে ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ মুক্তিযুদ্ধা কমান্ডার জেসিও মফিজুর রহমানের ডাকে এলাকার বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পড়ুয়া ছাত্রদের সাথে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিংয়ে অংশগ্রহণ করেন বলে উল্লেখ করেন।

তিনি আরো বলেন, গ্রেফতার রুহুল আমিন গাজী মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আঘাত করার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিকে ক্ষেপিয়ে তুলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঘোলাটে করার লক্ষ্যে এ উসকানিমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লাকে ‘শহীদ’ অভিহিত করে প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য রাষ্ট্রদ্রোহের যে মামলায় সংগ্রাম পত্রিকার সম্পাদক আবুল আসাদ ১০ মাসের বেশি কারাবন্দি আছেন, সেই মামলার আসামি রুহুল আমিন গাজীও।

সংগ্রামের প্রধান প্রতিবেদক রুহুল আমিন গাজী রুহুল আমিন গাজী বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের সভাপতি।

উল্লেখ্য, একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর ফাঁসি কার্যকর করা হয় ‘মিরপুরের কসাই’ খ্যাত কাদের মোল্লার। সেই দিনের স্মরণে গত বছর ১২ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীর মুখপত্র হিসেবে পরিচিত দৈনিক সংগ্রামের প্রথম পাতায় ‘শহীদ আবদুল কাদের মোল্লার ৬ষ্ঠ শাহাদাত বার্ষিকী আজ’ শিরোনামে ওই প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

এর প্রতিবাদে পরদিন ১৩ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ সমাবেশ করে সংগ্রাম পত্রিকার কয়েকটি কপি পোড়ান ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। বিকালে দৈনিক সংগ্রামের কার্যালয় ঘেরাও ও ভাংচুর করে বিক্ষুব্ধরা।

দৈনিক সংগ্রামের কার্যালয়টি জামায়াত-শিবিরের অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে অভিযোগ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পত্রিকাটির ‘ডিক্লারেশন’ বাতিলের দাবি জানানো হয় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামের একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে।

ওই ঘটনার পর সংগ্রামের সম্পাদক আবুল আসাদকে ওই রাতেই হাতিরঝিল থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ আফজাল ওই থানায় মামলা দায়ের করেন।

দণ্ডবিধির রাষ্ট্রদ্রোহের ধারা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা এ মামলায় আবুল আসাদ ও রুহুল আমিন গাজী ছাড়াও পত্রিকাটির বার্তা সম্পাদক সাদাত হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনকে আসামি করা হয় মামলায়।