রায়হান হত্যাকাণ্ডের সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব: এবার সাংবাদিক নোমান লাপাত্তা

৩:১৬ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ

আবুল হোসেন, সিলেট- সিলেট নগরীর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত রায়হান হত্যাকাণ্ডের সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব হলে ফের আলোচনায় আসে আলোচনায় আসে স্থানীয় সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল নোমানের নাম। নগরীর একটি কম্পিউটার দোকান থেকে নতুন হার্ডডিস্ক কিনে ফুটেজ ধারণকৃত পুরনো হার্ডডিস্কটি মূল অভিযুক্ত এসআই আকবর, সদ্য বরখাস্ত এসআই হাসান ও নোমান মিলে গায়েব করেন। লাপাত্তা হয়ে যায় নির্যাতনের প্রমাণ ধারণ করা মূল হার্ডডিস্ক।

অভিযুক্ত সিলেট ভিউ ডট কম’র প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল নোমান কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বুরিডহর গ্রামের মো. ইছরাইল আলীর ছেলে। তার বাবা কোম্পানীগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্রীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক। আর মা মোছা. বিলকিস আক্তার উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, কোম্পানীগঞ্জের স্বাস্থ্য কর্মী।

মাসখানেক আগেও কোম্পানীগঞ্জে পুলিশের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ে তার নাম আলোচনায় থাকলেও এখন চাঞ্চল্যকর রায়হান হত্যাকাণ্ডের ধারণকৃত নির্যাতনের ফুটেজ গায়েব করে তিনি নিজেও এখন লাপাত্তা। ইতোমধ্যে নোমানের অবস্থান জানতে শুরু হয়েছে গোয়েন্দা তৎপরতা।

জানা যায়, এসআই হাসান উদ্দিন ও স্থানীয় পত্রিকার এক সাংবাদিক মিলে ১১ অক্টোবর বন্দরবাজার ফাঁড়ির সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক পরিবর্তন করে নতুন হার্ডডিস্ক সংযোজন করে। নোমান গ্যালারিয়া শপিং সিটির ফ্রেন্ডস কম্পিউটার নামের এক দোকান থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় ৫০০ গিগাবাইটের একটি হার্ডডিস্ক ক্রয় করে, যার ইনভয়েস নম্বর ২৪৬০২। এরপর নোমান কম্পিউটারের দোকান থেকেই একজনকে নিয়ে যান সেই হার্ডডিস্ক পরিবর্তনের জন্য। সেই মার্কেটের সিসিটিভির ফুটেজও সংগ্রহ করে তদন্ত কমিটি।

ইতোমধ্যে মূল অভিযুক্ত সাময়িক বরখাস্তকৃত এসআই আকবর হোসেন ভুঁইয়াকে পালাতে সহায়তা করার অপরাধে ও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ গায়েব করার কারণে ফাঁড়ির টু-আইসি এসআই হাসান উদ্দিনকে বরখাস্ত করে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখের নির্দেশে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন এসএমপির উপকমিশনার (গণমাধ্যম) বিএম আশরাফ উল্লাহ তাহের।

তদন্ত কমিটির মতে- এসআই হাসান উদ্দিন ওই কাজে সহায়তা করেছেন। এর পাশাপাশি এসআই হাসান উদ্দিন ঘটনার দিন নোমানের সঙ্গে ৪০ বার এবং এর আগের দিন ১৯ বার কথা বলেছেন।

সিলেটে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনে রায়হানের মৃত্যুর পর সারা দেশে তোলপাড় শুরু হলে পালিয়ে যান নির্যাতনের মূলহোতা বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন। এতে সহযোগিতা করেন বন্দরবাজার ফাঁড়ির টু-আইসি এসআই হাসান উদ্দিন।

একই সঙ্গে বন্দরবাজার ফাঁড়ির সিসি ক্যামেরার ফুটেজও নষ্ট করার অভিযোগ রয়েছে হাসান উদ্দিন ও এক স্থানীয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে। স্থানীয় ওই সাংবাদিক হলেন- আব্দুল্লাহ আল নোমান। যিনি সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ বিদ্রোহী প্রেসক্লাবের শিক্ষা ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে আসীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় এসআই হাসান উদ্দিনকে বরখাস্ত করে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে পুলিশ হেফাজতে নেয়ার নির্দেশ দেন। তবে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে কিনা- তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলাটির তদন্তভার পিবিআইয়ের কাছে। গ্রেপ্তারের বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। তারা চাইলেই এসএমপি তাদের কাছে হস্তান্তর করবে বলে জানান তিনি।

এর আগে গত ১১ অক্টোবর পুলিশি নির্যাতনে রায়হান নিহতের পর ১২ অক্টোবর পালিয়ে যায় প্রধান সন্দেহভাজন বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর। তার পালিয়ে যাওয়া নিয়ে পরবর্তীতে আরও একটি তদন্ত কমিটি করে এসএমপি।

তদন্ত কমিটির একটি সূত্র জানায়, এসআই হাসান উদ্দিন ও স্থানীয় পত্রিকার এক সাংবাদিক মিলে ১১ অক্টোবর বন্দরবাজার ফাঁড়ির সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক পরিবর্তন করে নতুন হার্ডডিস্ক সংযোজন করে। স্থানীয় একটি পত্রিকার সেই সাংবাদিক গ্যালারিয়া শপিং সিটির ফ্রেন্ডস কম্পিউটার নামের এক দোকান থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় ৫০০ গিগাবাইটের একটি হার্ডডিস্ক ক্রয় করে, যার ইনভয়েস নম্বর ২৪৬০২। সেই মার্কেটের সিসি টিভির ফুটেজও সংগ্রহ করে তদন্ত কমিটি। এরপর সেই সাংবাদিক কম্পিউটারের দোকান থেকেই একজনকে নিয়ে যান সেই হার্ডডিস্ক পরিবর্তনের জন্য।

তদন্ত কমিটির মতে, এসআই হাসান উদ্দিন ওই কাজে সহায়তা করেছেন। এর পাশাপাশি এসআই হাসান উদ্দিন ঘটনার দিন সেই সাংবাদিকের সঙ্গে ৪০ বার এবং এর আগের দিন ১৯ বার কথা বলেছেন। এছাড়া হাসান উদ্দিনের বিরুদ্ধে এসআই আকবরকে পালানোর সহায়তার অভিযোগও পেয়েছে তদন্ত কমিটি।

এদিকে ইতোমধ্যে নোমানের অবস্থান শনাক্ত করতে কাজ শুরু করেছে গোয়েন্দা সংস্থা। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল নোমানের গ্রামের বাড়ি কোম্পানীগঞ্জে গিয়ে নোমানের পরিবারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

অপরদিকে নোমানের সাথে এসআই আকবরের দীর্ঘদিনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে এবং নোমান আকবরকে তার খালাতো ভাই বলে পরিচয় দিতেন। যদিও নোমানের গ্রামের বাড়ি কোম্পানীগঞ্জে। কিন্তু বর্তমানে বসবাস করেন নগরীর হাউজিং এস্টেট এলাকায় ভাড়া বাসায়। বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ আকবরের সাথে নোমান প্রায়ই আড্ডা বসাতেন। সেই আড্ডায় যুক্ত হতেন এসআই হাসান।

গত ১১ অক্টোবরে ভোর রাতে ঘটনাটি ঘটলেও এ ঘটনার ২ দিন পর সিসিটিভি ফুটেজ গায়েবের ক্ষেত্রে নোমানের নাম উঠে আসলে ১৩ অক্টোবর থেকেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান নোমান। একই দিন থেকে এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত এসআই আকবর হোসেন ভুঁইয়াও পলাতক হন।

এদিকে সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব ও আকবরকে পালাতে সহায়তায় করার ক্ষেত্রে সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও বাকি যারা সম্পৃক্ত তাদের ব্যাপারে পিবিআই কাজ করছে বলে জানালেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) বিএম আশিরাফ উল্লাহ তাহের।

তিনি বলেন, ‘আমাদের যার সম্পৃক্ততা পেয়েছি তার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বাকিটা পিবিআই দেখবে। তবে আমরাও কাজ করছি।’