• আজ ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আজারবাইজান-আর্মেনিয়া যুদ্ধে অন্তত পাঁচ হাজার নিহত: পুতিন

⏱ ১:২২ অপরাহ্ন | শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২০ 📂 আন্তর্জাতিক
armenia

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আজারবাইজান এবং আর্মেনিয়ার মধ্যে চলমান যুদ্ধে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বৃহস্পতিবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এমনটি দাবি করেন।

আজারবাইজান এবং আর্মেনিয়া দুটি দেশের সঙ্গেই প্রতিদিন যোগাযোগ রাখছেন তিনি। দিনে একাধিকবার ফোনে কথা হচ্ছে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে। তার বক্তব্য, এই যুদ্ধে কোনো পক্ষকেই সমর্থন করছেন না তিনি। যুদ্ধ যাতে দ্রুত থামে তার জন্য সবরকম প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। এ দিনের বিবৃতিতে পুতিন আমেরিকাকেও রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতা আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

শুক্রবারই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক হওয়ার কথা। বৃহস্পতিবার তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

নাগোরনো-কারাবাখের স্বাধীন প্রশাসন যুদ্ধে ক্ষতির একটি হিসাব দিয়েছে। তাদের বক্তব্য– বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৮৭৪ জন সেনা এবং ৩৭ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে শুধু কারাবাখে।

আজারবাইজান জানিয়েছে, সেখানে ৬১ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে সেনা মৃত্যুর কোনো সংখ্যা জানানো হয়নি। আর্মেনিয়া কিছু দিন আগে জানিয়েছিল, যুদ্ধে হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

পুতিন জানিয়েছেন, তার কাছে যা খবর, তাতে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। কারণ দুই দেশই যুদ্ধবিরতি মানতে চাইছে না।বৃহস্পতিবার পুতিন যখন এ বিষয়ে কথা বলছেন, তখনও দুই দেশের মধ্যে তীব্র যুদ্ধ হয়েছে।

আজারবাইজান জানিয়েছে, আর্মেনিয়া তিনটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে আজারি শহর লক্ষ্য করে। অন্যদিকে আর্মেনিয়ার অভিযোগ, মারতুনি শহর ও সংলগ্ন গ্রামে গোলাবর্ষণ করেছে আজারবাইজান।

উল্লেখ্য নাগোরনো-কারাবাখ নিয়ে আজ়ারবাইজান ও আর্মেনিয়ার বিবাদ দীর্ঘদিনের। ১৯৯৪ সালে অস্ত্রবিরতির আগে আজ়ারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যকার যুদ্ধে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ওই লড়াইয়ের পর থেকে নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল আর্মেনিয়ার মদতে দখল করে নেয় আর্মেনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা।

২০১৬ সালেও ওই এলাকায় সংঘর্ষে ১১০ জন নিহত হয়েছিলেন। গত ২৭ সেপ্টেম্বর এই অঞ্চল নিয়ে নতুন করে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। সম্প্রতি দেশ দুটি একাধিকবার সাময়িক যুদ্ধ বিরতিতে রাজি হলেও বাস্তবে সেটি কার্যকর হয়নি।