আক্রমণকারীদের প্রতিহতে অবশ্যই যুদ্ধ জরুরি: চীনা প্রেসিডেন্ট

⏱ ১০:২৬ অপরাহ্ন | শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২০ 📂 আন্তর্জাতিক
xi-jinping

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, চীনের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, উন্নয়ন এবং স্বার্থে আঘাত লাগলে চীনারা অলস বসে থাকবে না। যদি এমন কিছু ঘটে তাহলে চীনারা নিশ্চিতভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। ‘যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন প্রতিহতে যুদ্ধ এবং কোরিয়াকে সহায়তা’ শিরোনামে ১৯৫০ সালে উত্তর কোরিয়ায় যায় চীনা পিপলস আর্মির ভলান্টিয়াররা। দিবসটি স্মরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে শি এ কথা বলেন।

শি জিনপিং বলেন, আক্রমণকারীদের সঙ্গে তাদের ভাষায় জবাব দেয়া জরুরি। আক্রমণকারীদের প্রতিহতে অবশ্যই যুদ্ধ জরুরি। সহিংসতারোধে অবশ্যই সংঘাত জরুরি। তিনি আরো বলেন, চীন কর্তৃত্ব এবং আধিপত্যবাদী নয়। চীন নিশ্চিতভাবে কর্তৃত্ববাদী এবং ক্ষমতার রাজনীতির বিরোধিতা করে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং ভারতের সঙ্গে চীনের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজমান। চীনের উহানে তৈরি করোনা ভাইরাস বেইজিং সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন অভিযোগের পর ওয়াশিটনের সঙ্গে সম্পর্কের আরো অবনতি ঘটে শি প্রশাসনের।

চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে সম্পর্ক থাকায় হুয়াওয়েসহ দেশটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে ওয়াশিংটন।

হিমালয় অঞ্চলের অচিহ্নিত লাদাখ সীমান্তে বেশ কয়েক মাস ধরে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে চীন এবং ভারতের সেনারা। জুনে দু’পক্ষের সংঘাতে ভারতের ২০ সেনা নিহত হয়। সংকট সমাধানে উচ্চ পর্যায়ে দফায় দফায় বৈঠকের পরও কোনো সমাধান আসেনি।

শি সতর্ক করে বলেন, চীনা জাতি কখনোই কোনো হুমকি পেয়ে লেজ গুটিয়ে পালাবে না। নির্যাতন নিপীড়ন সহ্য করবে না।

শি বলেন, একতরফা সিদ্ধান্ত, সুরক্ষাবাদ এবং অতিমাত্রায় অহংবোধ কোথাও কাজে আসে না। ব্ল্যাকমেইল, অবরোধ, উগ্রপন্থা অবলম্বন, সহজ কথায় কোনো কাজেই আসে না। কোনো আক্রমণ, হুমকি কখনোই কাজে আসবে না। এগুলো সর্বোপরি বিনাশের দিকে নিয়ে যাবে।

চীনা পিপলস ভলান্টিয়ারদের উচ্চসিত প্রশংসা করে শি বলেন, তারা সামরাজ্যবাদী আগ্রাসন প্রতিহত করেছে। চীনা পিপলস ভলান্টিয়াদের নতুন চীনের রক্ষাকবচ বলেও আখ্যা দেন তিনি।

শি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধজয় চীনা জাতির মনে চিরস্থায়ী আসন গেড়ে আছে। শান্তি, উন্নয়ন, প্রগতি এবং মানবতার ইসিহাসে সেই যুদ্ধজয়ের ইতিহাস অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, ওই যুদ্ধ চীনাদের শান্তিপূর্ণ জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে। কোরীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল করেছে। এশিয়াসহ সারাবিশ্বের শান্তি সমুন্নত রেখেছে।