বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলো প্রেমিকা!

১১:৩৭ অপরাহ্ন | শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২০ রাজশাহী
premika

রাজিব আহমেদ রাসেল, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে প্রেমিকের পরিবারের নির্যাতনে ফরিদা খাতুন (৩৫) নামের স্বামী পরিত্যক্তা এক নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

নিহত ফরিদা খাতুন শাহজাদপুর উপজেলার হাবিবুল্লাহ নগর ইউনিয়নের নগরডালা মধ্য পাড়ার মৃত বাবর আলীর মেয়ে।

নিহতের ভাবী রাজিয়া খাতুন জানান, শনিবার বেলা ৩টায় ফরিদা নদীতে গোসল করতে বের হয়। বিকালে লোকমুখে জানতে পারি ফরিদা পার্শ্ববর্তী হামলাকোলা গ্রামের মোঃ সওদাগরের বাড়ির সামনে নিথর হয়ে পড়ে রয়েছে। তিনি জানান সওদাগরের ছেলে আব্দুল মজিদের (২৬) সাথে ফরিদার প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

তিনি আরও জানান, সন্ধ্যার পূর্বে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আ‌ব্দুল বাছেদ ও সওদাগরের ছোট ছেলে ভ্যানগাড়িতে নিস্তেজ ফরিদাকে তারা নিয়ে আসে। পরে সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল বাছেদ ও ফরিদার ভাইয়েরা তাকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। জানা যায় ১২ বছর পূর্বে ফরিদার স্বামীর সাথে ডিভোর্স হয়, তার ১৯ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।

এই বিষয়ে অভিযুক্ত প্রেমিক আব্দুল মজিদের বাড়িতে গেলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয় ফরিদা তাদের বাসায় আসেনি। ফরিদার দেহ রাস্তায় পরেছিল বলে তারা লোক মুখে শুনেছে।

এই বিষয়ে প্রেমিক আব্দুল মজিদের পিতা মোঃ সওদাগরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মেয়েটি বিকাল ৪টায় আমার ছেলের সাথে বিয়ের দাবিতে বাড়িতে এসেছিল। তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখন আমরা সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল বাছেদ কে খবর দিয়ে তার মাধ্যমে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি।

এই বিষয়ে সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল বাছেদ জানান, মেয়েটিকে উদ্ধার করে আমি হাসপাতালে নিয়ে যাই। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় মেয়েটি জানায় আব্দুল মজিদের পরিবারের লোকজন তাকে বেদম মারধর করে। এমনকি শরীরের উপর উঠে পেট বুক এবং গলায় পা দিয়ে আঘাত করে।

শাহজাদপুর থানার ডিউটি অফিসার ফরিদা খাতুনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্দেশ্যে পুলিশের একটি দল রওনা হয়েছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য আগামীকাল রবিবার সিরাজগঞ্জ শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হাসপাতালে পাঠানো হবে।