• আজ বৃহস্পতিবার, ৩ আষাঢ়, ১৪২৮ ৷ ১৭ জুন, ২০২১ ৷

ঝুঁকিপূর্ণ বাশের সাঁকোই ১৫ গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা

ঝুঁকিপূর্ণ বাশের সাঁকো
❏ মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২০ ঢাকা, দেশের খবর

খাদেমুল ইসলাম মামুন, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার বংশাই নদীর উপর সেতু না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাশের সাঁকো ব্যবহার করতে হচ্ছে এলাকাবাসীর।

উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের পেঁচারআটা হাট সংলগ্ন স্থানে বংশাই নদীতে সেতুর অভাবে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এলাকাবাসী। বাশের সাঁকো ব্যবহার করে এক বস্তা সার পারাপার করতে কৃষককে গুনতে হয় ২০ টাকা।

স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ ১৫ গ্রামের মানুষের পারাপারের এক মাত্র মাধ্যম এই বাঁশের সাঁকো। সেতু নির্মাণে জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। তাই জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্বেও সাঁকোই একমাত্র ভরসা এলাকাবাসীর।

নদীর পাড় সংলগ্ন সাঁকোর পূর্ব পাশে রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভবন ও উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এরপাশেই পেঁচারআটা বাজার ও রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ ছাড়া নদীর পূর্ব পাড়ে ধলাপাড়া কলেজ, এস ইউপি গণ উচ্চ বিদ্যালয়, চন্দন বালিকা গণ উচ্চ বিদ্যালয় ও মাটি আটা দাখিল মাদ্রাসা।

এসব প্রতিষ্ঠানের নদীর পশ্চিম পাড়ের শিক্ষার্থীদের আসা-যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে এই সাঁকো। এছাড়া ১৫টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের যাতায়াত এ সাঁকো দিয়েই।

উপজেলার পাহাড়ি এ জনপদের অধিকাংশ মানুষ কৃষি কাজের ওপর নির্ভরশীল। অঞ্চলটি সবজির এলাকা হিসেবে খ্যাত। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় উৎপাদিত সবজির ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষক। সেতু না থাকার কারণে এলাকায় এক মণ ধান বা এক বস্তা সার সাঁকো দিয়ে পার করতে কৃষককে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত কুড়ি টাকা। সাঁকোটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১২০ ফুট।

পেঁচারআটা গ্রামের কৃষক আফাজ আলী বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় অনেক সময় ক্ষেতের সবজি ক্ষেতেই পচে নষ্ট হয়ে যায়। স্কুলে যাওয়া-আসার পথে এ পর্যন্ত সাঁকো থেকে পড়ে রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

রঘুনাথপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, একবার এক ছাত্র সাঁকো থেকে পড়ে স্কুলব্যাগ ধরে পানিতে ভাসছিল। পরে তাকে উদ্ধার করি। সাঁকোই আমাদের এক মাত্র ভরসা।

উপজেলা বিআরডিবি চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন বলেন, সেতুটি নির্মাণ করা হলে দ্রুত এলাকার সার্বিক উন্নয়ন হবে।

এলজিইডি প্রকৌশলী মো. ওয়ালিউর রহমান বলেন, বংশাই নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংশ্নিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।