সীমান্তের এই মসজিদে একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন বাংলাদেশ-ভারতের মানুষ

১০:৩৫ পূর্বাহ্ন | বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২০ ফিচার
মসজিদে নামাজ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- রাষ্ট্র ভাগ হলেও ছিন্ন হয়নি সম্পর্ক। প্রায় ২শ বছর আগে ব্রিটিশ শাসন আমলে পূর্ব পুরুষেরা তৈরি করেছিল একটি মসজিদ। ব্রিটিশ শাসকরা চলে গেছে। ভাগ হয়েছে বাংলাদেশ-ভারত। কাঁটাতার দিয়ে ঘেরা হয়েছে সীমান্ত। তবু সম্প্রীতির বন্ধন ভাগ হয়নি। একটি মসজিদকে ঘিরেই মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে বাংলাদেশ-ভারতের নাগরিকদের।

দেশ ভাগ হলেও কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের বাঁশজানি ঝাকুয়াটারী গ্রামে অবস্থিত মসজিদটি এখনো ইতিহাসের স্বাক্ষী। ২০০ বছরের পুরাতন মসজিদটিতে সীমান্তের দুই পাড়ের মানুষ এক সাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন। দীর্ঘদিনের এই সম্প্রীতির বন্ধন এখনো অটুট রয়েছে।

সীমান্ত জুড়ে নানা অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম হলেও এখানকার মানুষ আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

গ্রামটি আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার দিয়ে ভাগ হলেও ভাগ হয়নি তাদের সমাজ। এই এলাকাটিতে বাংলাদেশের বাঁশজানি ঝাকুয়াটারী গ্রামে ৪৫টি পরিবারের তিন শতাধিক এবং ভারতের গাঁড়ালঝাড়া গ্রামে ৪৫টি পরিবারের প্রায় আড়াইশ মানুষের বসবাস। ১৫শতক জমির উপর অবস্থিত মসজিদটিই এখনও দুই বাংলার মেলবন্ধন হয়ে রয়েছে।

বাংলাদেশী নাগরিকরা জানান, দেশভাগ হলেও সমাজ এবং মসজিদ ভাগ হয়নি। দুই দেশের আইনি জটিলতার প্রভাব পড়েনি। ঐতিহ্যবাহী এই সীমান্ত মসজিদ দেখতে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরাও আসেন। অনেকেই এই মসজিদে নামাজ পড়ে কালের স্বাক্ষী হচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন তারা।

ভারতীয় নাগরিকরা জানান, সীমান্তের এই মসজিদ প্রায় ২শ বছরের পুরনো হলেও অবকাঠামোগত কোন উন্নতি হয়নি। সীমান্তে অবকাঠামো নির্মাণে আন্তর্জাতিক আইনি জটিলতা থাকায় এটি সম্ভবও হচ্ছে না। দুই বাংলার মানুষেরা যৌথভাবে আর্থিক সহায়তা দিয়ে অস্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ ও মেরামত করে থাকেন। শিশুদেরও মাঝে গড়ে উঠছে পূর্ব পুরুষের দেখিয়ে দেয়া পথ। দুই দেশের শিশুরা মিলেমিশে খেলাধুলা করে আসছে অনায়সে।

এ ব্যাপারে ঝাকুয়াটারী জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন নজরুল ইসলাম জানান, আযানের ধ্বনিতে দুই বাংলার মুসিল্লরা ছুটে আসেন নামাজ পড়তে। এক সাথেই আদায় করেন নামায। একাকার হয়ে যায় একে অপরের প্রীতি ভালোবাসা। মসজিদ থেকে বেড়িয়ে কোলাকুলি করেন দুই বাংলার মানুষ। নিজেদের মধ্যে বিনিময় করেন কুশলাদি। শুক্রবার জুম্মার নামাযের দিন সীমান্তে এই মসজিদটি আরো বেশি প্রাণবন্ত হয়ে উঠে। বাংলাদেশ ও ভারতের মুসল্লিরা পাতিল-বালতি ভরে নিয়ে আসেন তবারক। তারা সীমান্তে একে অপরের মাঝে দু:খ বেদনা ও সুখের কথা আদান প্রদান করে থাকেন। একই সমাজভূক্ত হওয়ায় একে অপরের বিপদে-আপদে ছুটে আসেন বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরন্নবী চৌধুরী বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকে মসজিদটি দাঁড়িয়ে আছে সম্প্রতির প্রতীক হয়ে। ঐতিহাসিক এই মসজিদটির মাধ্যমে দারিদ্র্যপীড়িত জেলা কুড়িগ্রামকে তুলে ধরার জন্য এই মসজিদ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে প্রকল্প নেয়া হবে।