• আজ ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

যশোরের মাদকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে চেয়ারম্যানের হামলায় ইউপি সদস্য গুরুতর জখম !

৪:৫২ অপরাহ্ন | বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২০ খুলনা
Jessore

মহসিন মিলন, বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা উপজেলার গোগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং তার দুই ছেলের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও সালিসের টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে ইউপি সদস্য বাবুল হোসেনকে প্রকাশ্যে জনসম্মুখে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার সকালে স্থানীয়রা গুরুতর আহত বাবুল মেম্বারকে উদ্ধার করে  হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় বাধা দেয় চেয়ারম্যান। পরে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের হস্তক্ষেপে তাকে উদ্ধার করে যশোর কুইন্স হসপিটালে ভর্তি করা হয়।

স্থাণীয়রা জানান, গোগা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ নিজেই  চাঁদাবাজি, ও মাদক ব্যবসায় জড়িত।  তারা ছেলে সম্রাট হোসেন একটি মাদক মামলার আসামী। রশিদ চেয়ারম্যানের ছেলে সম্রাট হোসেনের সাথে একই ইউনিয়নের মেম্বার বাবুল মিয়ার মধ্যে বিভিন্ন অপকর্মের ভাগ বাটোয়ারার হয়। সম্রাট হোসেনের একটি ফেনসিডিলের চালান আটকের জের ধরে দুজনের মধ্যে শত্রুতা দেখা দেয়।

ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডভুক্ত হরিশ চন্দ্রপুর গ্রামের বিভিন্ন সালিস, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন উৎস থেকে হাতিয়ে নেওয়া মোটা টাকা বাবুল মেম্বার ও সম্রাটের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা হতো। এ সকল অপকর্মে গ্রামবাসীদের কেউ কেউ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং শেষ পর্যন্ত রশিদ চেয়ারম্যানের কাছে বাবুল মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তবে তারা ভয়ে সম্রাট হোসেনের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেনি।

অভিযোগ পেয়ে রশিদ চেয়ারম্যান বাবুল মেম্বারকে বিভিন্নভাবে নেওয়া এক লাখ ৭৪ হাজার টাকা ফেরত দিতে বলে। তখন বাবুল মেম্বার বলে টাকা পয়সা আমি একা নেয়নি। আপনার ছেলে সম্রাটও আমার সঙ্গে নিয়মিত সমান ভাগ নিয়েছে। টাকার ব্যাপারে অব্যাহত চাপের মুখে বাবুল মিয়া রশিদ চেয়ারম্যানকে ১ লাখ টাকা প্রদান করে এবং বাকি টাকা পরে দেবে বলে জানায়।

এদিকে নির্বাচনের আগে রশিদ চেয়ারম্যান বাবুল মেম্বারের কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ধার করেছিলেন। বাবুল মেম্বার সেই টাকা ফেরত চান। এমনকি এই টাকার বিষয়টি তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিকে অবহিত করেন। সংসদ সদস্য রশিদ চেযারম্যানকে এই টাকা ফেরত দিতে বলেন। এরপরই রশিদ চেয়ারম্যান ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

আজ সকালে বাবুল মেম্বর যখন চায়ের দোকানে বসেছিল ঠিক তখন রশিদ চেয়ারম্যান তার ছেলে সহ সন্ত্রাসী দলবল নিয়ে বাবুল মেম্বারের ওপর হামলা চালায়। সন্ত্রাসী হামলায় বাবুল মেম্বার গুরুতর আহত হন।

গোগা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, রশিদ চেয়ারম্যানের ছেলে সম্রাট একজন চিন্হিত মাদক ব্যবসায়ী। তার নামে মাদক ব্যবসার মামলাও আছে শার্শা থানায়।

বাবুল মেম্বার এর স্ত্রী রাজিয়া খাতুন জানান, আমার স্বামীর মাথায় প্রচন্ড আঘাতের কারণে যশোর কুইন্স হাসপাতাল থেকে সিটি স্ক্যান করার পর যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বদরুল আলম বলেন, আমাদের কাছে এখনো কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।