• আজ ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
  • f

মুসলিম দেশগুলোতে হস্তক্ষেপ বন্ধ করুন: ফ্রান্সকে রুহানি

⏱ ৫:৪৭ অপরাহ্ন | বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২০ 📂 আন্তর্জাতিক
রুহানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি বলেছেন, ফ্রান্সসহ পাশ্চাত্যের দেশগুলো মুসলিম দেশগুলোতে হস্তক্ষেপ করছে। মানব সমাজে শান্তি, ভ্রাতৃত্ব ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার যে স্লোগান তারা দেয় সে ব্যাপারে আন্তরিকতা থাকলে তাদের উচিৎ মুসলিম দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বন্ধ করা।

আজ (বুধবার) তেহরানে মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি এ কথা বলেছেন।

হজরত মুহাম্মাদ (স.)-কে অবমাননার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, অবমাননা কোনো শিল্প হতে পারে না বরং এটা হচ্ছে নীতি-নৈতিকতা পরিপন্থী কাজ। এর মাধ্যমে শত শত কোটি মুসলমানসহ অসংখ্য মানুষের হৃদয়ে আঘাত করা হচ্ছে, সহিংসতায় উসকানি দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, যারা এই ভুল পথে পা বাড়িয়েছে তাদের উচিৎ অবিলম্বে পথ পরিবর্তন করে সত্য ও ন্যায়ের পথে ফিরে আসা এবং ঐশী ধর্মগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা।

ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ইউরোপীয়রাসহ প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের প্রতিটি মানুষ মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (স.) এর কাছে ঋণী। কারণ তিনি হলেন গোটা মানবতার শিক্ষক। এটা খুব বিস্ময়কর যে, যারা নিজেরা মুখে মুক্তি, স্বাধীনতা, ন্যায়-নীতি ও আইনের কথা বলে তারাই একে অপরকে অবমাননার জন্য জনগণকে উসকানি দিচ্ছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনসহ কয়েক জন ইউরোপীয় কর্মকর্তার অবমাননাকর বক্তব্যের বিরুদ্ধে গোটা মুসলিম বিশ্বের প্রতিবাদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এর মধ্যদিয়ে এটাই স্পষ্ট হয়েছে যে মুসলিম বিশ্ব কখনোই মহানবী (স.)'র পথ থেকে দূরে সরে যাবে না।

উল্লেখ্য, ফ্রান্সে স্যামুয়েল প্যাটি নামের এক ইতিহাস শিক্ষক ক্লাসে বাকস্বাধীনতা বিষয়ে পাঠদানের সময় নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর কার্টুন দেখান। যার জেরে গত ১৬ অক্টোবর চেচেন বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তি ছুরি হাতে ওই শিক্ষককে আক্রমণ করে এবং তার শিরশ্ছেদ করে। চেচনিয়া মুসলমান অধ্যুষিত দেশ।

এ ঘটনা ফ্রান্সে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে। অনেক ফরাসি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। দেশটির প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ ফরাসি মূল্যবোধ সুরক্ষিত রাখা এবং ইসলামি মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অঙ্গীকার করেন। ম্যাক্রোঁর এ বক্তব্য পছন্দ হয়নি তুরস্কের।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোয়ান ম্যাক্রোঁর ‘মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা দরকার’ বলে মন্তব্য করেন। যার ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়, ফ্রান্স তুরস্কে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে নেয়। যার জাবাবে এরদোয়ান তুর্কিদের ফরাসি পণ্য বর্জনের ডাক দেন।

এরদোয়ানের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও ম্যাক্রোঁ কঠোর সমালোচনা করে বলেন, নবী মুহাম্মদের (সা.) ব্যাঙ্গচিত্র প্রদর্শনকে উৎসাহিত করে ম্যাক্রোঁ ‘ইসলামকে আক্রমণ’ করছেন। ইরানও এ ঘটনায় ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

সৌদি আরব মুহাম্মদ (সা.) এর ব্যাঙ্গচিত্র আঁকা নিয়ে সমালোচনা করেছে। যদিও তারা ফরাসি পণ্য বর্জনের ডাক দেওয়ার পক্ষে নয়।