সংবাদ শিরোনাম

মাস্ক পরা বাধ্য করতে বাড়তে পারে জরিমানা | সৌদি প্রিন্সের সঙ্গে ‘গোপন বৈঠকে’ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী! | শিগগির আরো দুটি বিসিএসের প্রজ্ঞাপন, নিয়োগ পাবেন ৩৮১৪ জন | বিনামূল্যে জনগণের দ্বারপ্রান্তে করোনার ভ্যাকসিন পৌছে দেওয়া হবে: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী | হাসিনা-মোদির ভার্চুয়াল বৈঠকে হতে পারে ৪ চুক্তি | যারা ভাস্কর্যের পক্ষাবলম্বন করছেন তারা মুর্খ ও জ্ঞানপাপী: ইসলামী আন্দোলন | ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশকে একীভূত করা উচিত: ভারতীয় মন্ত্রী | শান্তিকালীন পদক পেলেন ১২৩ সেনা সদস্য | একই রোল নিয়ে পরের ক্লাসে উঠবে প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা | দুই মুসলিম বিজ্ঞানী দম্পতির হাত দিয়ে করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কার |

  • আজ ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

কোরআন শরীফ অবমাননার অভিযোগে হত্যার পরে যুবকের লাশ পোড়ালো জনতা!

১০:৪০ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২০ রংপুর
agun

লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর কেন্দ্রীয় মসজিদে কোরআন শরীফ অবমাননার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে লাশ পুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা।

মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধির পাঠানো রিপোর্ট-

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে ফাঁকা গুলি করে পুলিশ। সার্বিক পরিস্থিতি সামলাতে ঘটনার পর থেকেই অতিরিক্ত পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে পুরো এলাকায় ।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মাগরিবের নামাজের আগে জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে ঘটে এ ঘটনা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এদিকে ঘটনার পর যুবকের মোটরসাইকেলও পুড়িয়ে দেয়া হয়। আগুন নেভাতে গেলে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের তাড়া করে সরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধরা।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, দু’জন ব্যক্তি আসরের নামাজের সময় মসজিদে ঢোকে। নামাজ শেষে তারা ‘মসজিদে অস্ত্র আছে’ বলে দাবি করে।

এ সময় তারা কোরআন ফেলে দেয় ও অবমাননা করে। এমন অভিযোগে একজনকে ধরে পিটিয়ে হত্যা করে আগুনে পুড়ানো হয়।

অপরজনকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয় থানা পুলিশ। আটক ব্যক্তির নাম রেজা (৩৮) বলে জানা গেছে।

বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘আসরের নামাজ শেষে বুড়িমারী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দুই জন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি আসেন।

মসজিদের খাদেম জুবেদ আলীকে সঙ্গে নিয়ে তাদের একজন মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে কোরআন-হাদিসের বই রাখার তাকে অস্ত্র আছে বলে তল্লাশি শুরু করেন।

হাফিজুল ইসলাম জানান, এক পর্যায়ে মসজিদের সামনে থাকা ৫-৬ জন মুসল্লি মসজিদের প্রবেশ করে ওই ব্যক্তিকে এবং বারান্দায় থাকা অপর ব্যক্তিকে মারধর করেন।

খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই দুই ব্যক্তিকে বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষের ভেতরে ঢুকে তালা লাগিয়ে রক্ষার চেষ্টা করি। তবে মুহূর্তে শত শত লোকজন জড়ো হতে থাকে।

তিনি আরও জানান,  আমি ও স্থানীয় রফিকুল ইসলাম প্রধান নামে এক ব্যক্তি পাটগ্রাম থানার ওসি সুমন কুমার মোহন্ত, ইউএনও কামরুন নাহার, উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমীন বাবুল ও বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম নেওয়াজ নিশাতকে ফোন করে ঘটনাস্থলে আসতে বলি।

এরই মধ্যে উত্তেজিত জনতা কারও কথা না শুনে পরিষদের দরজা-জানালা ভেঙে এক ব্যক্তিকে বাইরে বের করে পিটিয়ে হত্যা করে।

পরে লাশ নিয়ে লালমনিরহাট-বুড়িমারী জাতীয় মহাসড়কের বুড়িমারী প্রথম বাঁশকল এলাকায় কাঠখড়ি ও পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

সেখানে ৫-৬ হাজার উত্তেজিত মানুষ ছিল, কারও কোনও নিয়ন্ত্রণ ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা লোক দুই জনের সঙ্গে কথা বলার সময় পাইনি। তাই পরিচয় নেওয়া সম্ভব হয়নি। এমন কি তাদের ধর্ম সম্পর্কেও জানা সম্ভব হয়নি।’

বুড়িমারী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন আফিজ উদ্দিন বলেন, ‘আমি আসরের নামাজ শেষ করে বাইরে বের হয়ে যাওয়ার সময় দেখতে পাই খাদেম জুবেদ আলীকে দুই জন অপরিচিত ব্যক্তি সালাম দিয়ে হ্যান্ডশেক করে কথা বলছিল।

এরপর তারা মসজিদের ভেতরে ঢুকে যায়। আমিও চলে যাই। পরে ঘটনার কথা এসে শুনেছি। কিন্তু বিস্তারিত কিছু জানি না।’

জানতে চাইলে ওই মসজিদের খাদেম জুবেদ আলী বলেন, ‘আমাকে র‌্যাব ও আর্মির পরিচয় দিয়ে বলা হয় যে, কোরআন শরীফ ও হাদিস রাখার তাকে নাকি অস্ত্র আছে।

এ কথা বলে তাদের একজন খোঁজ শুরু করেন। এক পর্যায়ে সবকিছু তছনছ করেন।

এসময় মসজিদের বাইরে অবস্থানরত হোসেন আলী (৩৫) নামে এক মুসল্লিসহ ৫-৬ জন মুসল্লি মসজিদে প্রবেশ করে দুই জনকে আটক করে বাইরে নিয়ে আসেন।

মসজিদের বারান্দার সিঁড়িতে প্রথম দফায় তাদের মারধর করা হয়। পরে হাফিজুল ইসলাম মেম্বার এসে তাদেরকে নিয়ে যায়। এরপর কী হয়েছে আমি জানি না।’

পাটগ্রাম থানার ওসি সুমন কুমার মোহন্ত বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে ওই যুবকের পরিচয় জানাতে পারেননি তিনি।ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে,  এসপি আবিদা সুলতানা বলেন, ‘ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বিস্তারিত জানানো হবে।

জেলা প্রশাসক আবু জাফর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সেখান সার্বিক পরিস্থিতি এখনই বলার মতো নয়। শুনেছি ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন জায়গায় অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে। একজনকে মেরে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এসব সার্বিক বিষয়ে সরজমিনে জানার জন্য ও পরিস্থিতি বোঝার জন্য ঘটনাস্থলের পথে রয়েছি।