• আজ ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

এবার ভারতের মানচিত্র থেকে কাশ্মীর এবং লাদাখকে বাদ দিল সৌদি আরব

⏱ ৫:০৫ অপরাহ্ন | শুক্রবার, অক্টোবর ৩০, ২০২০ 📂 আন্তর্জাতিক
soudi

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ জি-২০ সম্মেলনকে সামনে রেখে নতুন নোট ছেপেছে সৌদি আরব। কিন্তু তাতে বেশ চটেছে ভারত। তারা বলছে, সৌদির নতুন এই ব্যাংক নোটে ভারতের ভুল মানচিত্র ছাপা হয়েছে। সেখানে জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। আর এতেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এ বছর জি২০ বৈঠকের আয়োজক দেশ সৌদি আরব। সেই উপলক্ষে দেশের মানিটারি অথরিটি একটি ব্যাঙ্ক নোট তৈরি করেছে। যেখানে জি২০ সদস্য দেশ হিসেবে ভারতের ম্যাপ দেয়া হয়েছে। সেই ম্যাপে জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখকে বাদ দিয়ে দেয়া হয়েছে। গত ২৪ অক্টোবর ওই নোটটি প্রকাশিত হয়েছে। সেটি দেখার পরেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত।

শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, নতুন দিল্লির সৌদি আরব দূতাবাস এবং রিয়াধে আরবের প্রতিনিধিদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। দ্রুত ভুল স্বীকার করে তারা যাতে ভারতের ম্যাপ সংশোধন করে নেয়, তার আবেদন করা হয়েছে। একই বিবৃতিতে ভারত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ কথা সকলকে মনে রাখতে হবে।

কিছুদিন আগেই নেপাল প্রথম মানচিত্র বিতর্কের জন্ম দেয়। নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি ওলি সংসদে একটি নতুন মানচিত্র পেশ করেন। সেখানে ভারত- নেপাল সংলগ্ন কয়েক অঞ্চল নেপালের অংশ বলে দেখানো হয়। যদিও ভারতের দাবি ওই এলাকাগুলো ভারতের। দীর্ঘদিন ধরেই তা ভারতের মানচিত্রে আছে। বিষয়টি নিয়ে বহু জলঘোলা হয়।

এরই মধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান একটি বিতর্কিত মানচিত্র পেশ করেন। সেখানে দেখা যায় কাশ্মীর, লাদাখের কিছু অংশ এবং গুজরাতের কিছু অংশ পাকিস্তানের মানচিত্র ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের ওই মানচিত্র নিয়েও ভারত তীব্র প্রতিবাদ জানায়। আন্তর্জাতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

সম্প্রতি মস্কোয় একটি অধিবেশনে পাকিস্তান ওই একই মানচিত্র দেখালে ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান।

এবার সেই একই বিতর্কে শুরু হলো সৌদি আরবকে নিয়েও। যদিও বিশেষজ্ঞদের একাংশের বক্তব্য, নেপাল বা পাকিস্তানের মতো ইচ্ছাকৃতভাবে সৌদি এ কাজ নাও করে থাকতে পারে।

উল্লেখ্য, পাকিস্তানকে চাপে রাখতে সৌদির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করে চলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত বছর সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে স্বাগত জানাতে প্রোটোকল ভেঙে দিল্লি বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন তিনি। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবেও আখ্যা দেয়া হয়েছিল।