ফরাসিদের সাজা দেয়ার অধিকার মুসলমানদের আছে: মাহাথির

৬:৫৮ অপরাহ্ন | শুক্রবার, অক্টোবর ৩০, ২০২০ আন্তর্জাতিক
mahathir

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ বলেছেন, ‘অতীতের গণহত্যার কারণে লাখ লাখ ফরাসিকে হত্যা করার অধিকার মুসলমানদের আছে, কিন্তু মুসলমানরা তা করেনি।'

তিনি বলেন, যেহেতু আপনারা (পশ্চিমা বিশ্ব) একজন ক্ষুদ্ধ ব্যক্তি কী করেছেন, সেটার জন্য সব মুসলমান ও মুসলমানদের ধর্মের ওপর দোষ চাপিয়ে যাচ্ছেন, তাই মুসলমানদেরও ফরাসিদের শাস্তি দেওয়ার ‍অধিকার আছে। বেশিরভাগ মুসলমান প্রতিশোধ নিতে ‘চোখের বদলে চোখ’ উপড়ে নেওয়ার আইন প্র্রয়োগ করে না। মুসলমানরা এটা করে না। তাই ফরাসিদের এটা করা উচিত হবে না।

বৃহস্পতিবার ব্লগে এ মন্তব্য করেন তিনি। নিজের টুইটার একাউন্টেও একই মন্তব্য পোস্ট করেছিলেন মাহাথির। অবশ্য, টুইটার কর্তৃপক্ষ তাদের বিদ্বেষ বিরোধী নীতি লঙ্ঘন করার মাহাথিরের এই টুইট মুছে দিয়েছে।

তবে টুইটে ‘ফরাসিদের শাস্তি’ দেওয়ার কথা বললেও ফ্রান্সের বিদ্রুপাত্মক ম্যাগাজিন শার্লি এবদুতে ছাপা হওয়া মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর ব্য‍াঙ্গচিত্র ক্লাসে দেখানোর কারণে এক ফরাসি শিক্ষককে হত্যার ঘটনা তিনি কোনো ভাবেই সমর্থন করেন না বলেও জানিয়েছেন এ নেতা।

সম্প্রতি বাক স্বাধীনতা নিয়ে ক্লাসে নবী মোহাম্মদ (সাঃ) এর ব্যাঙ্গচিত্র দেখানোয় চলতি মাসেই ফ্রান্সের ওই শিক্ষককে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ফ্রান্স ওই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে দেশজুড়ে ব্যাঙ্গচিত্রগুলোর প্রদর্শনী করছে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ পরে বলেছেন, ফরাসি মূল্যবোধকে দমিয়ে রাখতে চেষ্টা করা রক্ষণশীল ইসলামী মূল্যবোধকে ঠেকাতে তিনি তার প্রচেষ্টা কয়েকগুণ বাড়াবেন। তার এ বক্তব্য বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মুসলমানকে ক্ষুব্ধ করে তোলে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোয়ান ফরাসি প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে ম্যাক্রোঁর ‘মানসিক স্বাস্থ্যের পরীক্ষা করা দরকার’ বলে মন্তব্য করেন। যার প্রতিক্রিয়ায় শার্লি এবদুতে এরদোয়ানের ব্যাঙ্গচিত্রও আঁকা হয়।

এদিকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স)-কে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউনাইটেড নেশনস এন্টি-এক্সট্রারেমিজম (জাতিসংঘের ধর্মীয় স্থাপনার সুরক্ষা ও ধর্মীয় সহিষ্ণুতা বিষয়ক সংস্থা)।

সংস্থাটির প্রধান মিগুয়েল এঞ্জেল মোরাটিনস বলেছেন, ওইসব ব্যঙ্গচিত্রের পুনঃপ্রকাশ বিশ্বের বহু মুসলমানের জন্য অপমানজনক ও ভয়াবহ আক্রমণাত্মক। ধর্ম ও পবিত্র ধর্মীয় প্রতীকগুলোর অবমাননা ঘৃণা উসকে দেয় এবং সহিংস উগ্রবাদ সমাজকে মেরুকরণ ও খণ্ডিত হওয়ার দিকে ঠেলে দেয়।