সংবাদ শিরোনাম

ভোট জালিয়াতির প্রমাণ মেলেনি, পেনসিলভানিয়ার মামলায়ও হারলেন ট্রাম্প | কুমিল্লায় কাভার্ডভ্যান চাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত | সঞ্জয় দত্তকে দেখতে গেলেন কঙ্গনা, নাখোশ ভক্ত সমর্থকরা | ঘরে বসেই তৈরি করুন মজাদার চিকেন রোল | চাঁদপুরে লঞ্চে অনৈতিক কার্যক্রম রোধে নিয়মিত টহলে থাকবে নৌ-পুলিশ | বিমানের টিকিটের জন্য জমানো টাকায় তরুণকে ইজিবাইক কিনে দিলেন সুমন | মৌলবাদী গোষ্ঠী ধর্মীয় সংগঠন করে রাজনৈতিক খায়েশ মেটাচ্ছে: শিক্ষা উপমন্ত্রী | ‘আওয়ামী লীগ-বিএনপি লড়াই নাই, দেশের মানুষ ভাই ভাই'- বাবুনগরী | নাগরিকদের বিনামূল্যে করোনা ভ্যাকসিন দেবে মালয়েশিয়া | ছেলের নামে টুর্নামেন্টের আয়োজন করে খেলোয়াড়দের পেটালেন ইউএনও! |

  • আজ ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বিশেষ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো শেরপুরের তীর্থ উৎসব

৮:৩৮ অপরাহ্ন | শুক্রবার, অক্টোবর ৩০, ২০২০ ময়মনসিংহ
serpur

মিজানুর রহমান, শেরপুর প্রতিনিধিঃ ‘দীক্ষিত ও প্রেরিত, মঙ্গলবাণী সাক্ষ্যদানে ফাতেমা রাণী মা মারিয়া’ এ শ্লোগানে শেরপুরের নালিতাবাড়ীর বারমারী সাধু লিওর খিস্টধর্মপল্লীতে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে বার্ষিক ফাতেমা রাণীর তীর্থ উৎসব।

রোমান ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের এ উৎসবকে ঘিরে ভারতের মেঘালয় সীমান্তবর্তী পাহাড়ি জনপদ উৎসবমুখর হয়ে উঠে। তবে মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে দুইদিনের অনুষ্ঠান মাত্র ছয় ঘন্টায় শেষ করতে হয়েছে।

সকাল সাড়ে নয়টায় আলোক শোভাযাত্রা ও সাড়ে এগারোটায় খ্রিস্টযাগের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানমালা। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় এ তীর্থে প্রতিবছর দেশ বিদেশের প্রায় ৫০ হাজার তীর্থযাত্রী অংশ গ্রহণ করলেও এবার প্রতিটি ধর্মপ্রদেশের ধর্মপল্লী থেকে মাত্র ১২ জন করে স্থানীয় প্রতিনিধিসহ প্রায় সহস্রাধিক তীর্থযাত্রী অংশ গ্রহণ করেছেন।

তীর্থ উদযাপন কমিটির সমন্বয়ক রেভারেন্ট ফাদার মনিন্দ্র মাইকেল চিরান জানান, শুক্রবার সকালে তীর্থস্থানের ৪৮ ফুট উচু মা মারিয়ার মূর্তির পাদদেশে স্থাপিত প্রার্থনা মঞ্চে পাপ স্বীকার, আলোক শোভাযাত্রা এবং পবিত্র খ্রিষ্টযাগের (বিশেষ প্রার্থনা) মধ্যদিয়ে শুরু হয় তীর্থোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।

পরে দুপুরে জীবন্ত ক্রুশের পথ পরিভ্রমণ ও মহাখ্রিষ্টযাগের (সমাপনী প্রার্থনা) মাধ্যমে বেলা সাড়ে তিনটায় এ তীর্থোৎসবের সমাপ্তি ঘটে। সমাপনী খ্রিষ্টযাগে পৌরহিত্য করেন ময়মনসিংহ খ্রিষ্টধর্ম প্রদেশের বিশপ পনেন পৌল কুবি সিএসসি।

বারোমারী ধর্মপল্লীর ভাইস চেয়ারম্যান ও নালিতাবাড়ী ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মি. লুইস নেংমিনজা বলেন, তীর্থেৎসবে খ্রিষ্টভক্তরা নিজেদের পাপমোচনে মোমবাতি জ্বালিয়ে আলোর মিছিলে অংশ গ্রহণ করে। নির্মল হৃদয়ের অধিকারীনি, ঈশ্বর জননী, খ্রিষ্টভক্তের রাণী, স্নেহময়ী মাতা ফাতেমা রাণীর প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা জানায় ও তার অকৃপন সাহায্য প্রার্থনা করে থাকে। এ বছর করোনা থেকে মুক্তির জন্যও বিশেষ প্রার্থনা করা হয়েছে।

শেরপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (নালিতাবাড়ী সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে এবারের তীর্থ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। তীর্থ অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে করতে পুলিশের পক্ষ থেকে এবার তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ১৯৪২ সালে প্রায় ৪২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় বারোমারী সাধু লিওর ধর্মপল্লী। ময়মনসিংহ ধর্ম প্রদেশের প্রয়াত বিশপ ফ্রান্সিস এ গমেজ ১৯৯৮ সালে এ ধর্মপল্লীকে ফাতেমা রাণীর তীর্থস্থান হিসেবে ঘোষণা করেন।

এখানে পর্তুগালের ফাতেমা নগরীর আদলে ও অনুকরণে পাহাড় ঘেরা মনোরম পরিবেশে গড়ে তোলা হয় ‘ফাতেমা রানীর তীর্থস্থান’। সেই থেকে খ্রিষ্টমন্ডলীর সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতিবছর ভিন্নভিন্ন মূলসুরের উপর ভিত্তি করে এখানে অক্টোবর মাসের শেষ বৃহস্পতি ও শুক্রবার দু’দিনব্যাপী বার্ষিক তীর্থ উৎসব পালিত হয়ে আসছে।