আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শনিবার বসবে পদ্মা সেতুর ৩৫তম স্প্যান

১০:৪৭ অপরাহ্ন | শুক্রবার, অক্টোবর ৩০, ২০২০ ঢাকা
padma

মোঃ রুবেল ইসলাম তাহমিদ, মাওয়া মুন্সীগঞ্জঃ পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে ৩৫ তম স্প্যান বসাতে গিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছেছিল সেতু কর্তৃপক্ষ। চলতি মাসের ৩০ অক্টোবর ৮ ও ৯ নম্বর পিলারের ওপর ২-বি নামের স্প্যানটি বসানোর কথা ছিল। কিন্তু খরস্রোতা পদ্মা নদীর এই দুই পিলারের নিচে আকস্মিক নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে।

এমতাবস্থায় শনিবার (৩১ অক্টোবর) আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে ৮ ও ৯ নম্বার পিলারের ওপর বসানো হবে ৩৫নং স্প্যান। এই স্প্যান বসানো হলে দৃশ্যমান হবে ৫২৫০ মিটার ৫.২৫ কিলোমিটার।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ৩৪নং স্প্যান বসানোর পর বর্তমানে সেতুর ৫১০০ মিটার বা ৫.১০ কিলোমিটার দৃশ্যমান হয়েছে।

উল্লেখ্য, এই মাসের ১১ অক্টোবর ৩২ তম, ১৯ অক্টোবর ৩৩ তম, ২৫ অক্টোবর ৩৪ স্প্যান বসানো হয়েছে। পদ্মা সেতুতে ৩৫নং স্প্যান বসানো হলে বাকি থাকছে ৬টি স্প্যান বসানো। আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই সবগুলোই স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারে প্রথম স্প্যানটি বসানোর মধ্যদিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু। এরপর একে একে বসানো হলো ৩৪টি স্প্যান। প্রতিটি স্পেনের দৈর্ঘ্য ১৫০ মিটার।

এর মধ্যে সবকটি পিলারে কাজ সম্পূর্ণ হয়ে মাথা উচুঁ করে দাড়িয়ে আছে পদ্মার বুক চিরে। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন।

দুটি সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ করেছে বাংলাদেশের আব্দুল মোমেন গ্রুপ লিমিটেড। বহুমুখী এই সেতুর মূল আকৃতি হবে দ্বীতল যা কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে।

পদ্মার সেতুর ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার সেতুতে ৪২টি পিলারের ওপর ৪১টি স্প্যান বসানো হচ্ছে। বর্তমানে সেতুর কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৯০ ভাগেরও বেশি।