রায়হান হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৮ সদস্য করোনা আক্রান্ত

⏱ ১০:১৩ অপরাহ্ন | সোমবার, নভেম্বর ২, ২০২০ 📂 আলোচিত বাংলাদেশ
rihan

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ সিলেটের বন্দর বাজার ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে মারা যাওয়া রায়হান হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) আট সদস্য করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তা মুহিদুল ইসলামসহ পাঁচজন পুলিশ পরিদর্শক ও তিন জন কনস্টেবল রয়েছেন।

সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পুলিশ সুপার খালেদ উজ জামান জানান, রোববার রাতে তাদের করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষার ফলাফল পজেটিভ আসে।

তিনি আরও জানান, রায়হান হত্যা মামলার তদন্তের কারণে এরা সকলেই বিভিন্ন যায়গায় গিয়েছেন ও অনেকের সাথে মিশেছেন। তাই ধারণা করা হচ্ছে তারা এভাবেই আক্রান্ত হয়েছেন।

এদিকে এ মামলায় গ্রেফতার হয়ে রিমান্ডে থাকা এএসআই আশেক-ই এলাহি জিজ্ঞাসাবাদের সময় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) তাকে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে নিশ্চিত করেন পিবিআই পুলিশ সুপার (এসপি) খালেদ উজ জামান।

তিনি জানান, শনিবার আশেক- ই এলাহি জিজ্ঞাসাবাদের সময় হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন তার বুকে ব্যথা শুরু হয়। পরে তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা যায়। একইসাথে তার উচ্চ রক্তচাপও ধরা পরে। বর্তমানে তিনি সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

রায়হান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এএসআই আশেক-ই এলাহিকে গত ২৯ অক্টোবর অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জিয়াদুর রহমান ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে ২৮ অক্টোবর রাতে পুলিশ লাইন্স থেকে আশেক-ই এলাহিকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি বন্দরবাজার ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন। রায়হান হত্যার পর তাকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য গত ১১ অক্টোবর মধ্যরাতে রায়হানকে ধরে নিয়ে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নির্যাতন করলে তিনি মারা যান। নির্যাতনের সময় এক পুলিশের মুঠোফোন থেকে পরিবারকে ফোন করে ১০ হাজার টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠে। ঘটনার শুরুতে ছিনতাইকারীর গণপিঠুনিতে রায়হান নিহত হন বলে প্রচার চালায় ওই ফাঁড়ির পুলিশ। কিন্তু সেখানে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরায় ওই রকম কোনো দৃশ্য দেখা যায়নি।

এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগ এনে মামলা করেন। পরে পুলিশের তদন্তে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চারজনকে বরখাস্ত ও তিনজনকে ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে মামলাটি পিবিআই‘র কাছে হস্তান্তর হয়।