যুদ্ধ চাই না, কিন্তু আক্রমণ মোকাবিলার সক্ষমতা অর্জন করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

৫:৩৮ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৫, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ
pmm

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা যুদ্ধ চাই না। কিন্তু যদি বাংলাদেশ কখনও বহিঃশত্রুর আক্রমণ দ্বারা আক্রান্ত হয় তাকে মোকাবিলা করবার মতো সক্ষমতা আমরা অর্জন করতে চাই।'

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে নৌবাহিনীর জাহাজ ‘বানৌজা ওমর ফারুক’, ‘আবু উবাইদাহ’, ‘প্রত্যাশা’, ‘দর্শক’ এবং ‘তল্লাশী’র কমিশনিং প্রদানকালে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার সমুদ্রসীমা রক্ষার পাশাপাশি সমুদ্র সম্পদ আহরণ করে দেশকে সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে। সমুদ্র সম্পদ অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে। আমাদের সেই সুযোগও রয়েছে। সেগুলোকে ব্যবহার করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’

সমুদ্রসীমা ও সম্পদ রক্ষায় নৌবাহিনীর প্রশংসা করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমাদের নৌবাহিনীর সদস্যরা লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা থেকে শুরু করে সমুদ্র এলাকার নিরাপত্তা বিধান করে যাচ্ছেন। এটা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। নৌবাহিনী শান্তিকামী বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশবাসীর আস্থা ও প্রশংসা অর্জন করেছে। বিশেষ করে এবার করোনাভাইরাসের সময়ে আমাদের নৌবাহিনী যথাযথ ভূমিকা রেখেছে। তাছাড়া যেকোনও প্রাকতিক দুর্যোগেও তারা মানুষের পাশে দাঁড়ায় এবং যথাযথ ভূমিকা রাখে। মানুষকে সাহায্য করে থাকে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু নৌবাহিনী বলে না, আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সবাই অনেক ভালো কাজ করছে। বঙ্গবন্ধু আমাদের প্রতিরক্ষা নীতিমালা করে দিয়ে গিয়েছিলেন ১৯৭৪ সালে। তার আলোকে আমরা ফোর্সেস গোল ২০৩০ প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন শুরু করেছি।’

এ সময় সবাইকে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শীতকাল আসছে। আবার করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে। ইউরোপে ইতোমধ্যে অনেক জায়গায় লকডাউন হয়েছে। আমাদের দেশের মানুষকে আমরা সুরক্ষিত রাখতে চাই। কাজেই এখন থেকেই সচেতন থাকতে হবে। সবাইকে স্বাস্থ্য সুরক্ষার দিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

চট্টগ্রামে বানৌজা ঈসা খান নৌ জেটিতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে জাহাজসমূহের অধিনায়কদের হাতে কমিশনিং ফরমান তুলে দেন নৌবাহিনী প্রধান অ‌্যা এডমিরাল এম শাহীন ইকবাল।

নতুন কমিশনিং পাওয়া দুইটি আধুনিক ফ্রিগেড বানৌজা ওমর ফারুক, আবু উবাইদাহ; একটি করভেট যুদ্ধজাহাজ প্রত্যাশা এবং দুইটি জরিপ জাহাজ বানৌজা দর্শক ও তল্লাশী বাংলাদেশের জলসীমা সুরক্ষায় এবং নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।

যুদ্ধজাহাজগুলো ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৫ নটিক্যাল মাইল বেগে চলতে সক্ষম বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এগুলোতে শত্রু বিমান, জাহাজ এবং স্থাপনায় আঘাত হানতে সক্ষম আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন কামান, ভূমি থেকে আকাশে এবং ভূমি থেকে ভূমিতে উৎক্ষেপণযোগ্য মিসাইল, অত্যাধুনিক থ্রিডি রাডার, ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম, রাডার জ্যামিং সিস্টেমসহ বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধ সরঞ্জামাদিতে সুসজ্জিত।