সংবাদ শিরোনাম

বগুড়া আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপিপন্থীদের জয় | বাংলাদেশকে আফগানিস্তান-পাকিস্তান হতে দেবো না: নওফেল | টি-টোয়েন্টিতে ৫ হাজার রানের মাইলফলকে সাকিব | শেষপর্যন্ত ভেঙে গেলো অভিনেত্রী শবনম ফারিয়ার সংসার | মৌলবাদ-ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকুন: তথ্যমন্ত্রী | আরব সাগরে ভেঙে পড়ল ভারতীয় যুদ্ধবিমান | ধর্মপ্রাণ প্রধানমন্ত্রী যখন ক্ষমতায়, এ দেশে ইসলামবিরোধী কোনো কার্যক্রম হবে না: কাদের | কুড়িগ্রামে নারিকেল দেয়ার কথা বলে শিশু ধর্ষণ, ধর্ষক গ্রেপ্তার | প্রবাসী স্বামীকে ছেড়ে প্রেমিককে বিয়ে, কাবিনের 'টাকার চাপে' স্ট্রোক করে বৃদ্ধ বাবার মৃত্যু | রাস পূজায় অংশ নিতে দুবলার পথে তীর্থযাত্রী ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা |

  • আজ ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ভাগ্নের সাথে ঝগড়াই কাল হলো শিশু হামজার!

১১:৩৫ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৫, ২০২০ সিলেট
hamza

মতিউর রহমান মুন্না, নবীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে ভাগ্নের সাথে ঝগড়ারই কাল হয়েছে শিশু আমীর হামজার। সামান্য এ ঝগড়ার জের ধরেই তাকে হত্যার পর বস্তাবন্দি করে লাশ গুমের চেষ্টা করেছে চাচাতো ভাই ও বোন। সার্কেল এএসপির তৎপরতায় বেড়িয়ে এসেছে ঘটনার মূল রহস্য।

হত্যাকান্ডের বিষয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে নিহতের চাচাতো ভাই জুনাইদ আহমদ (২০) ও বোন রোজিনা বেগম (২৫)। আদালতে তারা হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা।

তিনি জানান, ওই উপজেলার দাউদপুর গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে আমীর হামজা (৩) এর সাথে প্রায়ই তার চাচাতো বোন রোজিনা বেগমের ২ বছর বয়সী মেয়ে সুমাইয়ার ঝগড়া হতো। বিষয়টি সহ্য করতে পারেনি রোজিনা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন তিনি। এক পর্যায়ে নিজের ভাই জুনাইদ আহমদকে নিয়ে চাচাতো ভাই শিশু আমীর হামজাকে হত্যার পরকল্পনা করেন।

২ নভেম্বর বিকেলে পরিকল্পনা অনুযায়ী আমীর হামজাকে ডেকে নিয়ে মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে বালিশ চাপা দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ বস্তাবন্দি করে নিজের ঘরে খাটের নিচে ফেলে রাখা হয়। এদিকে আমির হামজার মা বাবা তাকে না পেয়ে খোঁজাখুজি শুরু করেন। কেউ যাতে সন্দেহ না করে তাই জুনাইদও খোঁজাখুজিতে অংশ নেয়।

রাতে রোজিনা খাটের নিচ থেকে মৃত আমীর হামজার বস্তাবন্দি মরদেহ বের করে বাড়ির সিএনজি অটোরিকশা গ্যারেজে ফেলে রাখেন। ওই রাতেই খরব পেয়ে পুলিশ গিয়ে সেখান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (নবীগঞ্জ-বাহুবল সার্কেল) পারভেজ আলম চৌধুরীর নেতৃত্বে নবীগঞ্জ থানার ওসি আজিজুর রহমানসহ পুলিশের একটি টিম রহস্য উদঘাটনে তৎপরতা চালায়।

সন্দেহভাজন হিসেবে জুনাইদ আহমদকে আটক করে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এক পর্যায়ে সে হত্যাকান্ডের বিষয়টি স্বীকার করে। এর প্রেক্ষিতে পুলিশ রোজিনাকে আটক করে। পরে তারা ঘটনার বিষয়টি স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তি দিতে দিতে আগ্রহ প্রকাশ করে।

এর প্রেক্ষিতে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিনা বেগমের আদালতে তাদের স্বীকারোক্তি রেকর্ড করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার পারভেজ আলম চৌধুরী ও নবীগঞ্জ থানার ওসি আজিজুর রহমান।

এর আগে এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুর রশিদ বাদি হয়ে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।