• আজ ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বরেন্দ্রের লালমাটিতে দার্জিলিং কমলা চাষ

⏱ ১০:১৬ পূর্বাহ্ন | শুক্রবার, নভেম্বর ৬, ২০২০ 📂 রাজশাহী
lal

অসীম কুমার সরকার, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ ক্ষরতাপময় বরেন্দ্র অঞ্চল। বরেন্দ্র অঞ্চলের শষ্যভান্ডার খ্যাত তানোর উপজেলা। ধান এখানে প্রধান ফসল হলেও এই লালমাটিতে এখন দেখা মিলছে বিদেশী ফল চাষ।

সম্প্রতি ড. সুবোধ কুমার সরকারের বাগানবাড়িতে দেখা মিললো দার্জিলিং কমলা। ১৪০ গ্রাম ওজনের কমলা সুমিষ্টি ও সুস্বাদু। গাছজুড়ে শোভাবর্ধন করে আছে এই দার্জিলিং কমলা।

সুবোধ সরকার নোয়াখালি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং ওই বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত আছেন। দীর্ঘ একযুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি দেশীয় ফলজ বৃক্ষের পাশাপাশি বিদেশী ফল চাষ করে চলছেন নিজ বাগানবাড়িতে।

তানোর পৌরশহরের আকচা গ্রামে সুবোধ সরকারের তিন বিঘার বাগানবাড়ি। বাগান আর বাড়ির ছাদজুড়ে দেশি ফল-ফুলের পাশে শোভাবর্ধন করে আছে নানান সব বিদেশী ফল।

সরজমিন দেখা গেছে, তার বাগনবাড়িতে রয়েছে জাপানের পিচফল, ব্রাজিলের চেরী, দারজিলিং লাল কলমা, তুরস্কের খেজুর, অ্যাভোগ্রেডো, নাসপাতি, ড্রাগন, আগুর,আপেলসহ নানান ফলগাছ।

শুধু বিদেশী নয়, দেশীফল গাছও ছড়িয়ে আছে বাগানজুড়ে। মালটা, জামরুল, লিচু, পেঁয়ারা ও তিন প্রজাতির জাম। রয়েছে মসলা জাতীয় গাছ- লং, দারুচিনি, তেজপাড়া, এলাচ। এছাড়া ঔষধি গাছ- শ্বেত চন্দন, রক্ত চন্দন, হরতকি, বহেড়া, তুলশীসহ বিভিন্ন গাছ।

ড. সুবোধ কুমার জানান, তিনি একবছর আগে ঢাকা থেকে দার্জিলিং কমলা গাছ এনে লাগান। এ বছর অল্প সংখ্যক ধরলেও এবার গাছ জুড়ে কমলা ধরেছে। অনেকগুলো কমলা গাছে পেকেছে। এটা মিষ্টি ও সুস্বাদু। স্বাদ আর গন্ধও দারুণ।

তিনি আরো জানান, গাছগুলো পরিচর্চা করেন তার বাবা সুবোল সরকার ও মা কল্যাণী সরকার। বরেন্দ্রের লাল মাটিতে বিদেশী ফল চাষ হওয়া সম্ভব। এতে বিদেশ থেকে ফল আমদানী করতে হবে না। তার এইসব বিদেশী ফলগাছ দেখতে অনেকেই বাগানে আসছেন। অনেকে উৎসাহিত হচ্ছেন বিদেশী ফল গাছ লাগানোর জন্য।

এ নিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শামিমুল ইসলাম বলেন, বরেন্দ্রের মাটিতে দার্জিলিং কলমা চাষ করা সম্ভব। তবে অন্যান্য বিদেশীফল যদি এইমাটিতে ভালো হয় তাহলে এলাকায় সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উন্নত জাতের বিদেশি ফল দেশেই উৎপাদন করা গেলে আমদানিনির্ভরতা কমবে, আমদানিতে যে অর্থ খরচ হয়, তা সাশ্রয় হবে বলে মনে করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এসএ হায়দার।

তিনি জানান, প্রতিদিনই কমলা, মাল্টা, বেদানার চাহিদা বাড়ছে। এগুলোর চাষ দেশে বাড়লে আমদানিনির্ভরতা কমবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে।