যুবককে পিটিয়ে-পুড়িয়ে হত্যা : খাদেমসহ ৩ জনের দায় স্বীকার

৯:৩৭ পূর্বাহ্ন | রবিবার, নভেম্বর ৮, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক: দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচিত লালমনিরহাটের বুড়িমারীতে কোরআন অবমাননার গুজব ছড়িয়ে গণপিটুনি দিয়ে শহিদুন্নবী জুয়েলকে হত্যার পর মরদেহ পোড়ানোর ঘটনায় দায় স্বীকার করে মসজিদের খাদেমসহ তিনজন আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় তিন দিনের রিমান্ড শেষে খাদেমসহ দুজন আমলি আদালত ৩-এর বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম ফেরদৌসী বেগমের আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। এ ছাড়া রিমান্ড ছাড়াই জবানবন্দি দিয়েছেন আব্দুল গণি নামে একজন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে খাদেমসহ চার জনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন লালমনিরহাট আমলি আদালত-৩ এর বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফেরদৌসী বেগম।

দায় স্বীকার করে যারা জবানবন্দি দিয়েছেন তারা হলেন- বুড়িমারী বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খাদেম পাটগ্রাম ইউনিয়নের রহমানপুর গ্রামের জোবেদ আলী (৬১), বুড়িমারী ইউনিয়নের কামারেরহাট এলাকার জাহেদুল ইসলামের ছেলে মেহেদী হাসান রাজু (১৯) ও একই এলাকার আব্দুল গণি (৪৫)।

গতকাল শনিবার সকালে আলোচিত এ তিন মামলার প্রধান আসামি আবুল হোসেন ওরফে হোসেন ডেকোরেটরকে ঢাকায় গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশ। এ নিয়ে এ মামলায় ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক। তাদের মধ্যে ৯ জনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

শনিবার দ্বিতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ড শেষে চারজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। যার মধ্যে খাদেমসহ দুজন দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। এর আগে রিমান্ড ছাড়াই একজন দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় ৯ আসামির রিমান্ড শেষে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

কোরআন অবমাননার গুজব ছড়িয়ে শহিদুন্নবী জুয়েলকে হত্যার অভিযোগে নিহতের চাচাত ভাই সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে শনিবার (৩১ অক্টোবর) একটি মামলা করেন। একই ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে পাটগ্রাম থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) শাহজাহান আলী বাদী হয়ে এবং ইউনিয়ন পরিষদ ভাঙচুরের অভিযোগে অপর একটি মামলা করেন বুড়িমারী ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ নেওয়াজ নিশাত। বহুল আলোচিত তিন মামলায় জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখাকে (ডিবি) তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

ঘটনাস্থল তদন্ত করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও জেলা প্রশাসনের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি কোরআন অবমাননার কোনো সত্যতা পাননি বলে জানান। এটি গুজব বলেও তদন্ত কমিটিগুলোর দাবি।

ঘটনাস্থলের ভিডিও দেখে আসামি শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত সবাই বুড়িমারী এলাকার বাসিন্দা বলে জানায় পুলিশ।