• আজ সোমবার, ৩১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৪ জুন, ২০২১ ৷

মিয়ানমারে জাতীয় নির্বাচন আজ, বঞ্চিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী

suci
❏ রবিবার, নভেম্বর ৮, ২০২০ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ রোহিঙ্গাদের ছাড়াই আজ রবিবার মিয়ানমারে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) আবারও জয়ী হবে বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।

নির্বাচনে সু চির দল এনএলডির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি। দলটি ওই দেশের সেনাবাহিনীর সমর্থনপুষ্ট বলে মনে করা হয়। সম্প্রতি ইউএসডিপির নেতা উ থান থে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে রোহিঙ্গাদের নিয়ে মিয়ানমারের দুঃখিত হওয়ার কিছু নেই।

প্রায় ৫০ বছর সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০১০ সালে গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করে মিয়ানমার। গৃহবন্দি অবস্থা থেকে মুক্তি পান দেশটির জনপ্রিয় নেত্রী সু চি।

সেনাবাহিনী তৎকালীন বার্মার ক্ষমতা দখল করে মূলত ১৯৬২ সালে। এরপর ১৯৯০ সালের ২৭ মে সামরিক শাসকদের তত্ত্বাবধানে মিয়ানমারে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে সু চি’র দল জয় পেলেও ২০১১ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনা করে সেনাবাহিনী। ২০০৮ সালে দেশটিতে সংবিধান গৃহীত হয়।

২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত হয় মিয়ানমারের সাধারণ নির্বাচন। ওই নির্বাচনে বড় জয় পায় সু চি’র দল ‘ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি’ (এনএলডি)। কিন্তু রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার শিকার হন সু চি। এমনকি আন্তর্জাতিক আদালতে বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগও ওঠে শান্তিতে নোবেলজয়ী সু চি’র বিরুদ্ধে। তবে আইসিজেতে মামলায় তিনি জেনোসাইডের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের নির্বাচনের দিকে নিবিড় দৃষ্টি রাখছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের নতুন সরকারের মনোভাব কেমন হয় সেটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।

তবে মিয়ানমারে আজকের নির্বাচন কতটা অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হবে, তা নিয়ে এরই মধ্যে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। সংঘাতের আশঙ্কায় সংখ্যালঘু অধ্যুষিত অনেক এলাকায় নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে।

২০১৫ সালে মিয়ানমারের নির্বাচনে নানা ত্রুটি থাকলেও সামরিক শাসন-পরবর্তী প্রথম নির্বাচন হিসেবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়েছিল। এবারের নির্বাচন ২০১৫ সালের চেয়েও ত্রুটিপূর্ণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।