• আজ সোমবার, ৩১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৪ জুন, ২০২১ ৷

সিরাজদিখানে দূর্গা মন্ডপের তিনটি প্রতিমা ভাঙচুর করেছে দূর্বৃত্তরা

siraj
❏ সোমবার, নভেম্বর ৯, ২০২০ ঢাকা

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সিরাজদিখানের মধুপুরে পঞ্চায়েত দূর্গামন্ডপের তিনটি প্রতিমা ভাঙচুর করেছে দূর্বৃত্তরা। গত সোমবার ভোররাতে সিরাজদিখান রাজানগর ইউনিয়নের মধুপুর ঋষিপাড়া মন্দিরে ঘটনাটি ঘটে। কোন কারণ ছাড়া অজ্ঞাতনামা দূর্বৃত্তরা এসব প্রতিমা ভাঙচুর করে।

এ ঘটনায় সিরাজদিখান শেখরনগর তদন্তকেন্দ্রে একটি জিডি করা হয়েছে। দূর্গা মন্ডপে ভাঙচুরের এই ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে আসন্ন কালীপূজা নিয়ে উত্কন্ঠা দেখা দিয়েছে।

সিরাজদিখান উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ সাধারণ সম্পাদক তপন রাজবংশী জানান, এ ঘটনায় সনাতন(হিন্দু) সম্প্রদায়ের লোকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এর আগে এমন ঘটনা ঘটেনি। তাই প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনাটি আসন্ন কালীপূজা(দিপাবলী) নিয়ে আমাদের সম্প্রদায়ের মাঝে উত্কন্ঠার সৃষ্টি করেছে।

মন্দির পঞ্চায়েত পূজা কমিটির সভাপতি পন্ডিত দাস, নন্দরাজ দাস, বিশখা রানী দাস, স্বপন দাস, সত্যরঞ্জন দাস, সাগর দাস ও গ্রামবাসীরা জানায়, সিরাজদিখান উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা রাজানগর ইউনিয়নের মধুপুর ঋষিপাড়া গ্রামের কালিমন্দিরে প্রায় ১৫ বছর ধরে দূর্গাপূজা হয়ে আসছে। সোমবার ভোররাতে কে বা কারা ওই দূর্গামন্ডপের দূর্গা, অশুর ও লক্ষি প্রতিমার মাথা ভেঙ্গে ফেলে। পরে আজ সকালে ওই দূর্গামন্দির ও পূজা দিতে এসে দূর্গামন্ডপের তিনটি প্রতিমা ভাঙচুর করা অবস্থায় দেখতে পান মন্দিরের পূজারী (সেবায়েত) জীবনী রানী দাস।

এ ঘটনাটি স্থানীয় ৫নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আব্দুল রশিদ মিয়া ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অবগত করা হলে সিরাজদিখান উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) আহম্মেদ সাব্বির সাজ্জাদ, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) রাজিবুল ইসলাম, ও সিরাজদিখান থানার ওসি মুহাম্মদ রিজাউল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে রাজানগর ৫নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আব্দুল রশিদ মিয়া জানান, মধুপুর পঞ্চায়েত ঋষিপাড়া কালিমন্দিরের দূর্গা মন্ডপের তিনটি প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। এটা কোন বখাটেদের কাজ হতে পারে। গতকাল অনেক রাত পর্যন্ত মন্দিরে রাস্তার পাশে লোকজন ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সোমবার ভোররাতের দিকে মূর্তি ভাংচুরের ঘটনা ঘটতে পারে।

সিরাজদিখান থানার ওসি মুহাম্মদ রিজাউল হক সাংবাদিকদের জানান, কারা ও কেন এ কাজ করেছে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়াও প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছেন সিরাজদিখান থানার ওসি মুহাম্মদ রিজাউল হক।