পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ডব্লিউটিওতে নালিশ করবে বাংলাদেশ

১০:০৬ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, নভেম্বর ১০, ২০২০ অর্থনীতি
bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিকৃত হাইড্রোজেন পার অক্সাইডের ওপর এন্টি ডাম্পিং শুল্কারোপ করেছে পাকিস্তান, যেটিকে অন্যায্য বলে মনে করছে সরকার। এখন বিষয়টি নিয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)-তে নালিশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

পাকিস্তানের অভিযোগ বাংলাদেশের ব্যাবসায়ীরা উৎপাদন খরচের চেয়ে কম মূল্যে পণ্য রপ্তানি করছে। ফলে তাদের অভ্যন্তরীণ শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাকিস্তানের হাইড্রোজেন পার অক্সাইড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ২০১৬ সালে তাদের সরকারের কাছে আবেদন জানালে দেশটির ন্যাশনাল ট্যারিফ কমিশন এই শুল্কারোপ করে।

সে সময় বাংলাদেশ এর প্রতিবাদ করে এ ধরনের এন্টি ডাম্পিং শুল্কারোপ বন্ধে পাকিস্তান সরকারকে চিঠি দেয়। কিন্তু পাকিস্তান সরকার চিঠি চালাচালির মধ্যেই গত ২৬ আগস্ট একটি নোটিস জারি করে। এতে বাংলাদেশ থেকে আমদানিকৃত হাইড্রোজেন পার অক্সাইডের ওপর এন্টি ডাম্পিং শুল্কারোপ করে। তাই এবার বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা'র ধারস্থ হচ্ছে বাংলাদেশ।

পাকিস্তানের শুল্কারোপের বিষয়টি নিয়ে গত ১৩ অক্টোবর একটি সভা করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ওই সভায় বাংলাদেশ থেকে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড রপ্তানি করে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র ডিজিএম জানান, পাকিস্তানের আপিল ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে মাত্র দুই মাসের মধ্যে রিভিউ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। বিক্রয়মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে এমন সময় বেছে নিয়েছে যখন বাংলাদেশে পণ্যটির বিক্রয়মূল্য কম ছিল।

'আবার এমন একটি সময়ে উৎপাদন মূল্য নিয়েছে যখন বাংলাদেশে পণ্যটির উৎপাদন খরচ বেশি। ফলে তারা এটি দেখাতে পেরেছে যে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা উৎপাদন মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড রপ্তানি করছে।'

এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, ‘রফতানিকারকরা এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে একটি আবেদন করার কথা আছে। যেন সরকার উদ্যোগ নিয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যায়। তাদের আবেদনটি আসলে আমরা বিবেচনা করব। এটা মোটামুটি বাংলাদেশের পক্ষে আছে।’

পাকিস্তান চাইলেই এভাবে শুল্ক আরোপ করতে পারে কিনা এম প্রশ্নের জবাবে হাফিজুর রহমান বলেন, ‘পারে, তবে এখানে যেভাবে করা হয়েছে তা ভুলভাবে করেছে বলেই মনে করি। তাই বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাতে গেলে আমরা জিতব।’

জানা গেছে, খুব শিগগিরই বাংলাদেশ এ আবেদন করবে। ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে আবেদন পেলেই যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করবে মন্ত্রণালয়।