বিএনপি ১২ বছর ধরে দেশকে অন্ধকারে নেয়ার চেষ্টা করছে: তথ্যমন্ত্রী

১০:৫১ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, নভেম্বর ১০, ২০২০ জাতীয়
hasan

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে দেশকে যেভাবে অন্ধকারে নিয়েছে গত এক যুগেও তারা একই অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে কীভাবে দেশকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে গিয়েছিল, সেটা সবাই জানে। পরবর্তীতে জনগণ যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রায় দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে, তখনও তারা অব্যাহতভাবে গত ১২ বছর ধরে দেশকে অন্ধকারের দিকেই নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।’

মঙ্গলবার রাজধানীর মিন্টু রোডে সরকারি বাসভবনে চলচ্চিত্র প্রযোজক ও প্রদর্শক সমিতির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপির অভিযোগ, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে, নির্বাচন কমিশনকে দলীয়করণ করেছে। এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপির এসব গৎবাধা অভিযোগ আমরা এক যুগ ধরে শুনে আসছি। বিএনপি যে জনগণকে নিয়ে ভাবে না, সেটারই বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে তাদের বক্তৃতা-বিবৃতি, আন্দোলন-সংগ্রাম; সবই নির্বাচন কমিশন আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারকেন্দ্রিক। আর বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করেছে বিএনপি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকাকালে বিএনপি কীভাবে দেশকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে গিয়েছিল তা সবাই জানে। তখন দেশ দুর্নীতিতে পরপর পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন, চারবার একক একবার যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন। হাওয়া ভবনে সমান্তরাল সরকার পরিচালনা আর খোয়াব ভবনে ছিল আমোদ-ফুর্তি। তখন বাংলাভাই, শাইখ আব্দুর রহমানের মতো জঙ্গির উত্থান ঘটেছিল। দেশে আদালতে বোমা, রাজপথে বোমা, ৬৩টি জেলায় পাঁচশ’র বেশির স্থানে একযোগে বোমা, এগুলো বিএনপির আমলেই হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, তারা (বিএনপি) গণতন্ত্র ধ্বংস করার জন্য শুধু নির্বাচন বর্জনই নয়, নির্বাচন বানচালের জন্য পেট্রলবোমা মেরে শত শত মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে এবং নির্বাচনী কর্মকর্তাকে বোমা মেরে, পুড়িয়ে হত্যা করেছে। সভ্য দুনিয়ার কোথাও এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। সে কারণে কানাডার আদালতের রায়ের মধ্যে বিএনপিকে একটি সন্ত্রাসী দল বলা হয়েছে। সুতরাং আন্তর্জাতিকভাবে আদালতে সন্ত্রাসী দল হিসেবে স্বীকৃত বিএনপির মুখে এসব কথা শোভা পায় না।’

এ সময় ১৯৮৭ সালের এ দিনে শহীদ নূর হোসেন স্মরণে ড. হাছান বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক জীবন্ত পোস্টার হিসেবে সবসময় নূর হোসেনের নাম রক্তাক্ষরে লিপিবদ্ধ থাকবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যখন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে, এক্ষেত্রে নূর হোসেনের অবদান চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে বাংলাদেশে আসার পর থেকেই গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন। যে গণতন্ত্র বারবার জিয়াউর রহমান, এরশাদ সরকারের হাতে বন্দি ও ভূলুণ্ঠিত হয়েছে, সেই গণতন্ত্রকে তিনি ফিরিয়ে এনেছেন।

চলচ্চিত্র প্রযোজক এবং হল মালিক সমিতির নেতাদের সাথে বৈঠক প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গত মাসের ১৬ তারিখ থেকে সিনেমা হলগুলো খুলে দেয়া হয়েছে। করোনাসহ নানাবিধ কারণে বিশেষ করে নতুন ছবি মুক্তি পায়নি, সে কারণে সিনেমা হলে আশানুরূপ দর্শক হচ্ছে না। এ পরিস্থিতি উত্তরণে নতুন সিনেমা মুক্তি দেয়াসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু, সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা সুদীপ্ত কুমার দাস ও আইন সম্পাদক আরএম ইউনুস রুবেল এ সময় উপস্থিত ছিলেন।