নোয়াখালী সুবর্ণচরে গৃহবধূকে পিটিয়ে আহত

৫:০২ অপরাহ্ন | বুধবার, নভেম্বর ১১, ২০২০ চট্টগ্রাম, দেশের খবর
মারধর

মোঃ ইমাম উদ্দিন সুমন, নোয়াখালী প্রতিনিধি- নোয়াখালী সুবর্ণচরে এক গৃহবধূকে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহতের অভিযোগ পাওয়া গেছে, ভুক্তভোগী ঐ নারী বর্তমানে সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্ব্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছে।

নির্যাতিতা নারী ২ নং চরবাটা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের চরমজিদ গ্রামের বাসিন্দা, ৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা মোঃ সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদাউস (৩৫)। এ ঘটনায় একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান নির্যাতিতার স্বামী মোঃ সিরাজুল ইসলাম।

ঘটনাটি ঘটে সুবর্ণচর উপজেলার ২ নং চরবাটা ইউনিয়নের চরমজিদ গ্রামে।

ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করে বলেন, একই গ্রামের শাজাহানে পুত্র স্বাধীন (২২), সফিউল্যাহর পুত্র বেলাল উদ্দিন (৪৬), বেলাল উদ্দিনের পুত্র রিয়াজ (২১), আবাদুস সোবহান ওরপে লাদেন, ২ নং চরবাটা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আলেয়া বেগমের নেতৃত্বে অজ্ঞাত ৫/৭ জনের একদল সন্ত্রাসী ১১ নভেম্বর মঙ্গলবার সকাল ৯টায় একদল লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে তার বসবাসকৃত জায়গায় জোর পূর্বক দখল করতে গেলে উপরোক্ত অভিযুক্তরা জান্নাতুল ফেরদৌসিকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করে। তার শৌরচিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্ব্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।

নির্যাতিতা ঐ নারী আরো বলেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে তার বাড়ি ঘর এবং জায়গাজমি দখল করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এ ঘটনায় মোঃ সিরাজুল ইসলাম নোয়াখালী জজকোর্টে একটি মামলা করেন মামলা নং ২৯০/২০।

ভুক্তভোগির স্বামী সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি সরকার থেকে বন্দবস্ত নিয়ে ২০ বছর যাবত বসবাস করে আসছি গত ১ বছর ধরে স্থানীয় সাবেক আলেয়া মেম্বার আমার জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে, প্রতিবাদ করতে গেলে আমাকে মারধর হুমকিসহ গুম খুনের হুমকি দিয়ে আসছে।

এসব হুমকি ধমকির বিষয়ে গত জুন মাসে ৫ তারিখে চরজব্বার থানায় একটি সাধারন ডায়রি করি জিডি নং ৬৪৮/২০। সেই থেকে তারা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে আমার উপর একের পর এক হামলা করে যাচ্ছে, একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় সে এসব অপকর্ম করে যাচ্ছে, আমি ঘটনার সাথে জড়িদের দৃষ্টান্ত শাস্তি চাই।

অভিযুকক্ত আলেয়া মেম্বার বলেন, আজকে আমার জায়গায় বালু ভরাট করার সময় ফেরদৌসি বাধা দেয় আমার ছেলে স্বাধীন সেখানে উপস্থিত ছিলো, তাকে আমরা মারধর করিনি।

স্থানীয় মহিলা মেম্বার বলেন, আমি ঘটনাটি শুনে ঘটস্থলে গিয়ে দেখি ফেরদৌসি বেগমের পুরো শরীর মারধরের দৃশ্য।

৮নং ওয়ার্ড মেম্বার সাহানাজ বলেন, মারধরের ঘটনা আমি শুনেছি তবে এই জায়গার প্রকৃত মালিক সিরাজুল ইসলাম, উনি এই জায়গা নিয়ে দির্ঘদিন ধরে কস্ট করে যাচ্ছে।

২ নং চরবাটা ইউনিয়ন আওয়ামি লীগের সাধারন সম্পাদক আলা উদ্দিন বলেন, সিরাজুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে তার জায়গা জমিতে বসবাস করে যাচ্ছি সম্প্রতি আলেয়া মেম্বার একটা ভুয়া নথি করে সিরাজের জায়গা দখলের চেষ্টা করে যাচ্ছে, এর আগে সিরাজের পুকুরে পানি পেলার নাম করে তার পুকুর থেকে সব মাছ নিয়ে গেছে , আজকেও সিরাজের জায়গায় আলেয়া মেম্বার বালু পেলতে গেলে আলেয়া এবং তার ছেলে স্বাধীন সিরাজের স্ত্রীকে মারধর করে।

গৃহবধূকে মারধর করার বিষয়ে জানতে চাইলে চরজব্বার থানার অফিসার (ওসি) সাহেদ উদ্দিন বলেন, নির্যাতিতা নারী থানায় এসে আমাকে বিষয়টি অবহিত করেছে, লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।