মির্জাপুরে অ্যাসাইনমেন্ট ও মাসিক বেতনের টাকা আদায়ের অভিযোগ

৫:৪৬ অপরাহ্ন | বুধবার, নভেম্বর ১১, ২০২০ ঢাকা
Tangail Mirzapur

মো. সানোয়ার হোসেন, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ সারাদেশে দেশে করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটির কারণে এর ক্ষতি পূরণের জন্য সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের আলোকে গত রবিবার (২৭ অক্টোবর) থেকে শুরু হয়েছে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা।

পাঠদান শুরুর পর সাপ্তাহিক অ্যাসাইনমেন্টের (কাজ) ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত করার নির্দেশনা থাকলেও সেই নির্দেশনাকে অমান্য করে, সুযোগ কাজে লাগিয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার অধিকাংশ বিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে অ্যাসাইনমেন্ট ও মাসিক বেতনের টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে বিপাকে পড়েছে হাজারো শিক্ষার্থীর পরিবার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার আটিয়ামামুদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, যারা অ্যাসাইনমেন্ট ও বকেয়া বেতনের টাকা দিবে না তাদের পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত করা হবেনা বলে হুমকি দিয়েছে অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আ. রাজ্জাক ও অন্যান্য শিক্ষকরা।

আটিয়ামামুদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আ. রাজ্জাকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, টাকা আদায়ের ব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা। আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ্য। এক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, মাত্র ১০ টাকা কম দিছিলাম তাও নেয় নাই পুরো টাকাই দিতে হয়ছে।

মির্জাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়ের কাছে অ্যাসাইনমেন্ট ও বকেয়া বেতন বাবদ ২৫শ টাকা দাবি করা হয়েছে। আমি মাতাব্বর ধরে কিছু টাকা কমিয়ে তা পরিশোধ করেছি।

এছ্ড়াাও উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের গেড়ামারা গোহাইলবাড়ি সবুজসেনা উচ্চ বিদ্যালয়, হাটফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়সহ অধিকাংশ বিদ্যালয়েই মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের দেয়া নির্দেশনা অমান্য করেই শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করে টাকা আদায় করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. হারুন-অর-রশিদ বলেন, অ্যাসাইনমেন্ট বাবদ কোনো প্রতিষ্ঠানই টাকা উত্তোলন করতে পারবে না এই নির্দেশনা ইতিমধ্যে সকল প্রতিষ্ঠানে জানিয়ে দেয়া হয়েছে এবং বিদ্যালয়ের (টিউশন ফি) বেতনের টাকাও উত্তোলন করার কোনো উপায় নেই। ইতিমধ্যে যারা বেতনের টাকা উত্তোলন করেছে সেইসকল প্রতিষ্ঠান প্রধানকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর যদি কোনো প্রতিষ্ঠান নির্দেশনা অমান্য করে অ্যাসাইনমেন্ট ও বকেয়া বেতন বাবদ টাকা আদায় করে তাহলে তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক জানান, নির্দেশনা অমান্য করে টাকা আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। যদি এমনটি হয়ে থাকে তাহলে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে বিষয়টি তদন্ত করে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে সঠিক তথ্য প্রদান করতে বলা হয়েছে।