সবজি চাষে ঝুঁকে পড়ছে ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষক

১১:৫৭ পূর্বাহ্ন | শুক্রবার, নভেম্বর ১৩, ২০২০ রংপুর
Vegetable news

কামরুল হাসান, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ দেশের সর্ব উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁও, এ জেলার বেশিরভাগ মানুষ কৃষির সাথে জরিয়ে রয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ের দিগন্ত জুড়ে আগাম শীতের সবজির সমারোহ। সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন জেলার অনেক কৃষক। তাই এখানকার কৃষকরা ধান চাষের পরিবর্তে সবজি চাষে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে—এ অঞ্চলের সবজি বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। ঠাকুরগাঁও জেলার ৮০ ভাগ মানুষই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। এই জেলায় মানুষের প্রধান উৎপাদনকারী ফসল ছিল ধান, গম, পাট। বিগত কয়েক বছর এই উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় ঐসব ফসল থেকে অনেক কৃষক মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

ঠাকুরগাঁও জেলায় বর্তমানে কৃষক বিকল্প ফসল হিসেবে বেছে নিয়েছে সবজি চাষ। এরই মধ্যে জেলায় সবজি চাষের বিপ্লব ঘটিয়েছে অনেক কৃষক। আর শাক-সবজি চাষাবাদের জন্যই ঠাকুরগাঁও জেলা পরিচিতি লাভ করেছে। তেমনি শহরের পাশেই নারগুন ও ঢোলর হাটকে ঠাকুরগাঁওয়ের সবজি গ্রাম বলা হয়ে থাকে। আর সবজি গ্রাম হিসেবে নারগুন ও ঢোলর হাটকে চিনতে কষ্ট হয় না আশপাশের গ্রাম ও জেলাবাসীর। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সরবরাহ করা হয় এখানে চাষ করা নানা নামের শাক-সবজি। সেই গ্রামের মতো এখন জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কৃষকরা সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। লালশাক, পুঁইশাক, পালংশাক, লাউশাক, বুত্তাশাক, দারাশাক, মুলাশাক ও কলমিশাক আর করলা, বেগুন, বরবটির চাষ তুলনামূলক বেশিই হয়ে থাকে এ গ্রামে। এসব চাষ করেই দরিদ্রতা থেকে মুক্তি পেয়েছে অনেক পরিবার ; স্বাবলম্বী হয়েছে। তাই নিজের জমি না থাকলেও অন্যের জমি বর্গা নিয়ে হলেও শাক-সবজি চাষ করছে মানুষ।

জেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, সারা গ্রাম জুড়ে শুধুই সবজির আবাদ। খামার-খেতে ব্যস্ত কিষান-কিষানীরা। এখানকার সবজি চাষিরা জানান, তারা বরাবরই শাক-সবজি চাষ করে আসছেন। এতে তারা সফলও। তাদের মতামত, সরকারি সংশ্লি¬ষ্ট সংস্থাগুলো যদি তাদের চাষকৃত শাক-সবজির উত্পাদন বাড়াতে আর একটু সতর্ক নজর রাখে তাহলে আরো সফল ও লাভবান হওয়া সম্ভব।

প্রায় ২০ বছর আগে নারগুন ও ঢোলর হাট গ্রামের কৃষকরা সবজি চাষ শুরু করেন। যাদের কোনো কাজ আর জমি ছিল না কিন্তু অভাব ছিল মাথা সমান। তারাই সবজি আবাদে মন দেন ঐ সময়। পরবর্তীতে তাদের সফলতার সিঁড়িতে পা দিয়েছেন অনেক অভাবী যারা এখন সচ্ছল, সফল। তাদের চোখের আশার আলোতে উজ্জ্বল এখন নারগুন গ্রাম।

রবিউল নামে এক কৃষক জানান, ধান, পাট, গমে লোকসান গুনতে গুনতে কৃষক যখন দিশাহারা তখন বিকল্প উপায়ে সবজি চাষে বেছে নিয়েছে। আমরা এখন সবজি চাষ করে অনেক বেশি লাভবান হচ্ছি। আমাদের জেলার সবজি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ও বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। এরই মধ্যে জেলায় শীতের আগমন ঘটেছে। সবজির চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে। ফুলকপি, বাঁধাকপি, মিষ্টি ও চালকুমড়া, ঢেঁড়স, শসা, করলা, ডাঁটা, মিষ্টি আলু, পটল, কাঁকরোল, চিচিঙ্গা, বরবটি, গাজর, মুলা, শালগম, কলা, বেগুনসহ নানান জাতের সবজি চাষে ব্যস্ততার মধ্যদিয়ে দিন পার করছে চাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ঠাকুরগাঁওয়ে সবজি আবাদ হয়েছে ৬ হাজার ২৪৮ হেক্টর। গত বছরের তুলনায় এবছর সবজির আবাদ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রখর রোদে কৃষকরা সবজি খেত পরিচর্যা করছেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা ব্যস্ত সময় পার করেন কাজে । দম ফেলার সময় নেই।উল্লেখঃরুহিয়া থানার বড়দেশ্বরী গ্রামের বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক প্রাপ্ত ও বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনকারী নিরাপদ কৃষি খামারে ‘করলা’ বাজারজাত শুরু করেছেন বলে জানান পদক প্রাপ্ত মো. মেহেদী হাসান উল্লাহ।

তিনি আরো জানিয়েছেন, চার পাঁচ বছর ধরে করলা চাষ করে লাভবান হচ্ছি। আমার দেখাদেখি গ্রামের শতাধিক চাষি করলা চাষে ঝুঁকছেন।

একই এলাকার চাষি মোতাহার হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে ৩৩ শতক জমিতে মাত্র ১২ হাজার টাকা খরচ করে করলা চাষ করেছি। রোগবালাই আক্রমণ না করলে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা পাওয়ার আশা করছি।অন্য দিকে জেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, সারা গ্রাম জুড়ে শুধুই সবজির আবাদ। খামার ক্ষেতে ব্যস্ত কৃষাণ-কৃষাণীরা এখানকার সবজি চাষীরা জানায়, তারা বরাবর শাকসবজির চাষ করে আসছেন। এতে তারা সফল ও। তাদের মতামত সরকারি সংশ্লিষ্ট সংস্থা গুলি যদি তাদের চাষকৃত শাকসবজি উৎপাদন বাড়াতে আর একটু সতর্ক নজর রাখে তাহলে আরো সফল ও লাভবান হওয়া সম্ভব।