লালমনিহাটে পিটিয়ে-পুড়িয়ে হত্যা : প্রধান আসামির স্বীকারোক্তি

১১:০৭ অপরাহ্ন | শনিবার, নভেম্বর ১৪, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক: বহুল আলোচিত লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারীতে গণপিটুনি দিয়ে শহিদুন্নবী জুয়েলকে হত্যার পর মরদেহ পোড়ানোর ঘটনায় প্রধান আসামি বুড়িমারি বন্দর শ্রমিক লীগের সভাপতি আবুল হোসেন ওরফে হোসেন ডেকোরেটর (৪৫) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে আজ শনিবার বিকেলে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফাজ উদ্দিনের আদালত তার জবানবনন্দী গ্রহণ করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লালমনিরহাট জেলা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. মাহমুদুন্নবী। তিনি জানান, ৫ দিনের রিমান্ড শেষে আজ শনিবার জুয়েল হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি আবুল হোসেনকে লালমনিরহাট সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফাজ উদ্দিনের আদালতে তোলা হয়। সেখানে বিচারকের কাছে আবু ইউনুস মো. সহীদুন্নবী জুয়েলকে মসজিদের ভেতরে প্রথমে মারধর ও মসজিদের বাইরে বের করে আনার কথা স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছেন আবুল হোসেন। আদালত তার জবানবন্দী গ্রহণ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জুয়েল হত্যার ঘটনায় মামলা দায়েরের পর গত ৭ নভেম্বর ঢাকায় গ্রেফতার হয় আবুল হোসেন। এরপর গত ৯ নভেম্বর তাকে আদালতে সোপর্দ করে পাঁচ দিনের পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৯ অক্টোবর কোরআন অবমাননার গুজব ছড়িয়ে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার পর আবু ইউনুস মো. সহীদুন্নবী জুয়েল নামে মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহটি টেনে হিঁচড়ে মহাসড়কের ওপর এনে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় উন্মত্ত জনতা। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার, স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও পুলিশ হত্যা মামলাসহ তিনটি মামলা দায়ের করে।