রিমান্ডেও অভিনয় করছেন, গ্রীন বাংলার অভিনেতা আকবর!

১১:৪৪ অপরাহ্ন | শনিবার, নভেম্বর ১৪, ২০২০ আলোচিত
AKber

আবুল হোসেন, সিলেট প্রতিনিধি:‘খুন’করার আগে সিলেটী আঞ্চলিক ভাষায় নির্মিত বেলাল আহমদ মোরাদের ’গ্রীন বাংলা’ চ্যানেলে অভিনয় করেছিলেন সিলেট বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক ইনচার্জ (বরখাস্ত) এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া। অথচ আকবর সিলেটী ভাষায় কথা বলাও জানেন না। তবুও তিনি অভিনয় করেছেন। হয়তো সেই সূত্রে তার রক্তে মিশে আছে ‘অভিনয়’। রিমান্ডে থাকা অবস্থায়ও তিনি অভিনয়ের ‘ভান করলেন’ অসুস্থতার। তবে আকবর নিজেকে অসুস্থ দাবি করলেও চিকিৎকরা তার কোনো শারীরিক সমস্যা খুঁজে পাননি।

সিলেট নগরীর বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে রায়হান আহমদের মৃত্যুর ঘটনায় সাত দিনের রিমান্ডে আছেন প্রধান অভিযুক্ত আকবর হোসেন। রিমান্ড চলাকালে শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) রাতে তিনি হঠাৎ নিজেকে ‘অসুস্থ’ দাবি করেন। এরপর তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা কোনো ধরনের অসুস্থতা খুঁজে পাননি। ফলে তাকে আবারও রিমান্ডে নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআই পরিদর্শক আওলাদ হোসেন বলেন, রিমান্ড চলাকালে শুক্রবার রাতে অসুস্থতার কথা জানান আকবর। এরপর রাত নয়টার দিকে তাকে সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা তাকে সুস্থ হিসেবে ঘোষণা করলে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুনরায় তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, সিলেটে আলোচিত রায়হান হত্যাকাণ্ডের ২৮ দিন পর গত ৯ নভেম্বর দুপুরে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ ইউনিয়নের ডোনা সীমান্ত এলাকা থেকে এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে গ্রেফতারের কথা জানায় পুলিশ। ওই দিন বিকেল ৫টা ৫৩ মিনিটে কঠোর নিরাপত্তায় তাকে কানাইঘাট থেকে সিলেট পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। পরে সন্ধ্যায় নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন। রাত পৌনে ৮টার দিকে তাকে পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পরদিন মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) আকবর হোসেন ভূঁইয়ার সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. আবুল কাশেম এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে আকবরকে কড়া নিরাপত্তায় এসআই আকবরকে আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. আওলাদ হোসেন।