🌏 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
  • f

কিংবদন্তী অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় আর নেই

⏱ ১:২৬ অপরাহ্ন | রবিবার, নভেম্বর ১৫, ২০২০ 📂 বিনোদন
apuu

বিনোদন ডেস্কঃ লাইফ সাপোর্টে জীবনের সাথে যুদ্ধ করে চলে গেলেন ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্রের খ্যাতিমান অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। রোববার দুপুরে কলকাতার বেলভিউ নার্সিং হোম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় এই গুণী অভিনেতার।

৪০ দিনেরও বেশি সময় ধরে বেলভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন কিংবদন্তি অভিনেতা। করোনা আক্রান্ত হওয়ায় ৬ অক্টোবর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। প্লাজমা থেরাপির পর তাঁর করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছিল। সেইসঙ্গে চিকিৎসাতেও সাড়া দিতে থাকেন তিনি। কিন্তু আচমকাই ফের তাঁর শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে শুরু করে।

চিকিৎসকরা জানান, সৌমিত্রের শরীরে সমস্যার প্রধান কারণ কোভিড এনসেফ্যালোপ্যাথি। তাঁর চেতনার মাত্রা ক্রমশ কমতে থাকে। বুধবার বর্ষীয়ান অভিনেতার ট্র্যাকিওস্টমি করা হয়েছিল। সফলভাবেই তা সম্পন্ন হয়েছিল। বৃহস্পতিবারই আবার তাঁর প্রথম পর্যায়ের প্লাজমাফেরেসিস সম্পন্ন হয়।

আশা করা হয়েছিল প্লাজমাফেরেসিসের পর অভিনেতার আচ্ছন্নভাব ও অসংলগ্নতা অনেকটাই কেটে যাবে। কিন্তু শুক্রবার তার কিছুই হয়নি। উল্টো পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে থাকে।

ডা. কর জানান, এর আগে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের চেতনাস্তর ৯ থেকে ১০-এর মধ্যে ছিল। তা পাঁচ পর্যন্ত নেমে গিয়েছিল। এই স্তর তিনে পৌঁছে গেলে ব্রেন ডেথ হিসেবে ধরে নেওয়া হয়।

শনিবার ডা. কর জানান, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারকে পুরো বিষয়টি জানানো হয়েছে। তাঁরা বিষয়টি বুঝেছেন অবং পরিস্থিতির দাবি মেনে নিয়েছেন। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। কিন্তু, শেষরক্ষা হল না।

উল্লেখ্য সত্যজিৎ রায়ের ‘অপুর সংসার’ ছবির মধ্য দিয়ে ১৯৫৯ সালে চলচ্চিত্রে পা রাখেন সৌমিত্র। এরপর গত ছয় দশক ধরে অভিনয় জগৎকে ঋদ্ধ করে যাচ্ছেন তিনি। অভিনয়ে আসার আগে তিনি রেডিওতে ঘোষক ছিলেন এবং মঞ্চে ছোট চরিত্রে অভিনয় করতেন। ধীরে ধীরে তিনি সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে ১৪টি ছবিতে অভিনয় করেন।

তার অভিনীত চরিত্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পায় ফেলুদা। তিনি সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় সোনার কেল্লা এবং জয় বাবা ফেলুনাথ ছবিতে ফেলুদার ভূমিকায় অভিনয় করেন।

প্রথমে ফেলুদা চরিত্রে তার চেয়েও ভালো কাউকে নেওয়ার ইচ্ছে থাকলেও তার অভিনীত ফেলুদার প্রথম ছবি ‘সোনার কেল্লা’ বের হওয়ার পর সত্যজিৎ রায় স্বীকার করেন যে, তার চেয়ে ভালো আর কেউ ছবিটি করতে পারত না।