• আজ ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সালথায় কালের সাক্ষী ৩০০ বছরের প্রাচীন বটবৃক্ষ

৭:১০ অপরাহ্ন | রবিবার, নভেম্বর ১৫, ২০২০ ঢাকা, দেশের খবর
বটবৃক্ষ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল এক বটবৃক্ষ। ভীষণ মমতাময়ী এক নাম। অজস্র শাখা-প্রশাখা আর শতসহস্র পাতাজুড়ে কালের বিশাল ইতিহাস।

আর সেই বিশাল ইতিহাসের সাক্ষী ফরিদপুরের সালথার খোয়াড় গ্রামের মাঝে রয়েছে প্রায় তিন শত বছরের পুরোনো বটবৃক্ষ। আর এই বৃক্ষকে ঘিরে রয়েছে নানান উপকথা। প্রকৃতি এই অবাক শিল্প উপভোগ করার পাঁশাপাশি গল্প শুনেও আনন্দ পাওয়া যায়। এখনো ওই এলাকার বয়োবদ্ধদের কাছে শোনা যায় এর ইতিহাস।

উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের খোয়াড় গ্রামটি বেশ পরিচিত সবার কাছে। গ্রামটি বহু আগে থেকেই ধান-পাট ও পেঁয়াজের জন্য বিখ্যাত ছিল। তাছাড়া ধর্মীয় দিক থেকেও বেশ এগিয়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম রানা বলেন, আমরা শুনেছি প্রায় ৩০০ বছর আগে আমাদের গ্রামে এ বট গাছটি জন্মে। কারো কারো মতে প্রায় ৪০০বছর আগের গল্প হবে, আবার কেউ কেউ একটু আগ বাড়িয়ে ঘটনার শুরু প্রায় ৫০০ বছর আগের কথাও বলে থাকেন।

দীর্ঘ ৩০০ বছর সেও কম না। এত বছর আগে এখানে জনপদের সন্ধান পাওয়া যায়। এখন যে বট গাছটি রয়েছে এক সময় এখানে ফাঁকা জায়গা যা মাঠের মতো ছিল। এখানে যে গাছটি জন্মে, ডালপালায় আভাস দেয় সেটি একটি বটগাছ। ফাঁকা মাঠে গরু ছাগল চড়ানো হয়।

যেহেতু বট গাছ তাইতো অযতেœ বা অবহেলায় হলেও দিন দিন তা বেড়ে ওঠতে লাগলো। গাছটি ডালপালা ছড়াতে থাকে আর তার বিস্তৃতি বাড়তে থাকে। তারপর একদিন গাছটি ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়। হাজারো মানুষ গাছের নিচে বিশ্রাম নেয়।

স্থানীয় আরফিন মাতুব্বর বলেন, আমরা এই বটগাছের কথা আমার বাবার কাছে শুনেছি। একসময় ধূধূ মাঠ ছিল। দিনের বেলায় মুরব্বিরা গাছের আশে পাঁশে আসতে দিত না। আমরাও তার কিছুটা দেখেছি। কিন্তু এখন জামানা পাল্টে গেছে। দিন রাত বলতে কোন কথা নেই, সারা রাত মানুষ যাতায়াত করে থাকে। কোন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় না।

খোয়াড় গ্রামের সেই বট গাছকে ঘিরে একসময় কয়েকটি দোকান ছিলো। জনসমাগম ছিলো। মেলা বসতো। তবে সেটা স্থানীয় রাজনীতির কারণে বন্ধ রয়েছে। তারপরও গাছটি নিয়ে কোন জটিলতা নেই।

এলাকাবাসী বলেন, বিশাল আকারের বটগাছ। ছাঁয়াঘেরা শীতল পরিবেশ চারপাঁশে। ডানে বামে সামনে পেছনে যেদিকে তাকাই বট ছাড়া কিছু নেই। যার দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্যে আমরা তো বটেই যে কেউ মোহিত হবেন। এখন গাছটি শুধু ছায়াই দিয়ে যায়। শত শত মানুষ গাছটির নিচে বসে বিশ্রাম নেয়।

এদিকে, গাছটি নিয়ে কথা বলতেই ধীরে ধীরে মানুষ জমায়েত হয়। কেউ এর কথা বাবার কাছে আবার কেউ দাদার কাছে শুনেছে এমনটা বলতে থাকে। তবে স্থানীয় বা দোকানদারের কাছে বটবৃক্ষ নিয়ে মজার মজার সব গল্প শুনা যায়।

তবে প্রায় ৩ শত বছরের পুরাতন বটবৃক্ষকে বাঁচিয়ে রাখা ও তার সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। এর ইতিহাস অনেক। খোয়াড় গ্রামের বটবৃক্ষটি আজও দাঁড়িয়ে থেকে হাজারো মানুষকে ছায়া দিয়ে আসছে।