অপরূপ কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পঞ্চগড়ে পর্যটকদের ভিড়

১:৩১ অপরাহ্ন | সোমবার, নভেম্বর ১৬, ২০২০ ফিচার
KANCHENJUNGA

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- নেপাল এবং সিকিম সীমান্তে অবস্থিত বিশ্বের তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার দুর্লভ মায়াবী রূপ বাংলাদেশের পঞ্চগড় থেকে দেখা যাচ্ছে। আকাশ মেঘমুক্ত থাকায় এবং বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ কমে যাওয়ায় এবার আগেভাগেই দেখা যাচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা।

অন্যান্য বছর ভোর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত এবং বিকেল থেকে সন্ধ্যার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত দেখা গেলেও ৮ হাজার ৫৮৬ মিটার উচ্চতার কাঞ্চনজঙ্ঘা এবার দেখা যাচ্ছে একটানা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্তই। খবর- ইউএনবি'র

এর আগে শুধু পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা গেলেও এবছর পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলার কিছু কিছু স্থান থেকেও উপভোগ করা যাচ্ছে প্রকৃতির অনাবিল এই সৌন্দর্য।

কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরুপ দৃশ্য দেখার খবর পেয়ে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যেও দলে দলে পর্যটকরা ভিড় করছেন পঞ্চগড় ও তেঁতুলিয়ায়। তবে সবুজ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের তেঁতুলিয়ায় আবাসন ও ভালো মানের খাবার হোটেলের অভাবে ভোগান্তিতে পড়েছেন পর্যটকরা।

সম্প্রতি কাঞ্চনজঙ্ঘার খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়। এরপরই স্থানীয়সহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে আসতে শুরু করেন পর্যটকরা। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে পর্যটক ও ভ্রমণপিপাসুদের ভিড় সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

এবার জেলার করতোয়া ব্রীজ, অমরখানা মাগুরমারী চৌরাস্তা, মাঝিপাড়া, বাংলা টি কারখানা, তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো, রনচন্ডি, তীরনইহাট, কাশিমগঞ্জ, শালবাহান, আনন্দধারা, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টসহ বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য অবলোকন করেছেন।

তবে বাংলাদেশ আর ভারত সীমান্তের বুক চিরে বয়ে যাওয়া মহানন্দা নদীর পাড় বা ডাকবাংলো এলাকা থেকে কাঞ্চজঙ্ঘার অপূর্ব দুর্লভ মায়াবী দৃশ্য সবচেয়ে সুন্দরভাবে দেখা যাচ্ছে। আর এখানেই সবচেয়ে বেশি ভিড় করছেন পর্যটকরা।

সূর্যদয়ের পর কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়াটি প্রথমে লালচে দৃশ্যমান হয়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে কাঞ্চনজঙ্ঘার রুপ পরিবর্তন হতে থাকে। সোনালী, রূপোলির পর তুষার শুভ্র বরফে ঢাকা কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান হয় পর্যটকদের সামনে। আর বিকালের সূর্যকিরণে তা ধরা দেয় অনিন্দ্য সুন্দর হয়ে।

১৯৫৩ সালের ২৯ মে ব্রিটিশ পবর্তারোহী দলের সদস্য জোয়ে ব্রাউন এবং জর্জ ব্যান্ড সর্বপ্রথম কাঞ্চনজঙ্ঘায় আরোহণ করেন। সুউচ্চ এই চূড়া দেখতে প্রতি বছর অসংখ্য দেশি-বিদেশি পর্যটক ছুটে যান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলা শহরের টাইগার হিল পয়েন্টে। আবার কেউ কেউ সরাসরি নেপালে গিয়েও উপভোগ করে কাঞ্চনজঙ্ঘার মায়াবি রূপ। তবে যাদের এসব সুযোগ মেলে না, সেসব বাংলাদেশি পর্যটক কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ অবলোকন করতে ছুটে আসেন তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধায়। এখানে মেঘমুক্ত আকাশে দিনের প্রথম সূর্যকিরণের সঙ্গে সঙ্গেই চোখে পড়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানায়, নেপাল ও ভারত কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সবচেয়ে আদর্শ জায়গা। নেপাল, ভুটান, ভারত ও চীন তেঁতুলিয়ার কাছাকাছি হওয়ায় দেশের এ এলাকা থেকেই সাধারণত কাঞ্চনজঙ্ঘা স্পষ্ট দেখা যায়। বরফ আচ্ছাদিত নয়নাভিরাম কাঞ্চনজঙ্ঘা ও এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দলে দলে পর্যটকরা এখানে আসতে শুরু করেছেন। ভোরের সূর্য ওঠার আগেই পর্যটকরা মহানন্দা নদীর পাড় ও তেঁতুলিয়া ডাক-বাংলো এলাকায় জড়ো হন।

লকডাউনের কারণে বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ কমে যাওয়া, বৃষ্টি হওয়া ও আকাশে মেঘ না থাকায় পঞ্চগড়সহ আশপাশের জেলাগুলো থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা স্পস্ট ও দীর্ঘক্ষণ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাসেল শাহ্।

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সোহাগ চন্দ্র সাহা জানান, পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে নতুন রূপে ঢেলে সাজানো শুরু হয়েছে তেঁতুলিয়াকে। দৃষ্টিনন্দন করা হচ্ছে পিকনিক কর্নার ও জেলা পরিষদ ডাকবাংলো। এছাড়াও পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে মাঝিপাড়া বাইপাসে সারস পাখি, কালান্দিগঞ্জ বাজারে বাংলাদেশের প্রথম এক টাকার নোট, ভজনপুরে শাপলা এবং তিরনইহাটে মাছসহ নানান ইতিহাস নির্ভর ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে।

পিকনিক স্পট ডাকবাংলোসহ উপজেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভাস্কর্য স্থাপনের মাধ্যমে সৌন্দর্যবর্ধন করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুবিধার্থে নির্মাণ করা হয়েছে সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ার। এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা এবং নদীর ওপারে বিস্তৃত সবুজ চা বাগানসহ দার্জিলিং শহরের নানান দৃশ্য।

এছাড়া মহানন্দার পাড়ে বসে কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শনের পর মনোমুগ্ধকর সন্ধ্যা উপভোগ করতে পারবেন পর্যটকরা। মধ্য দুপুরের মাথার উপর সূর্যের কিরণে হীরের মতো জ্বলজ্বল করে হাসতে দেখা যাবে মহানন্দার চরের একেকটি বালুকণা।