পদত্যাগে বাধ্য হলেন আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী, চাপে প্রধানমন্ত্রী

১১:২৯ পূর্বাহ্ন | মঙ্গলবার, নভেম্বর ১৭, ২০২০ আন্তর্জাতিক
আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- নাগরনো-কারবাখ অঞ্চল নিয়ে আজারবাইজানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির জেরে আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহরাব ম্নাৎসাকানিয়ান পদত্যাগ করেছেন। আলজাজিরা জানায়, সোমবার আর্মেনীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত সপ্তাহে ওই চুক্তি স্বাক্ষরের পর নিজ দেশে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়ে আর্মেনিয়ার সরকার। পদত্যাগের জন্য দেশটির প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানের ওপর চাপ অব্যাহত আছে। এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন ম্নাৎসাকানিয়ান। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের ফলে পাশিনয়ানের উপর চাপ আরো বাড়ল বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি আজেরি ভূখণ্ড নাগরনো-কারবাখ দখল করে রেখেছিল আর্মেনিয়া। অঞ্চলটি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব গত সেপ্টেম্বরে রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে রূপ নেয়। যাতে নাগরনো-কারবাখের বেশ কিছু এলাকা জিতে নেয় আজারবাইজান।

ছয় সপ্তাহের ওই লড়াইয়ের পর রাশিয়ার মধ্যস্থতায় আজারবাইজানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করে আর্মেনিয়া। যার ফলে নাগরনো-কারবাখ ছাড়তে হচ্ছে আর্মেনীয়দের।

এদিকে চুক্তির পর থেকে সরকার বিরোধী বিক্ষোভের মুখে পড়েছে আর্মেনিয়া সরকার। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, যেভাবে আজারবাইজানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি হয়েছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। চুক্তিতে আর্মেনিয়াকে ‘ঠকানো’ হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, প্রায় আড়াই হাজার সেনা এই যুদ্ধে প্রাণ দিয়েছেন। চুক্তিতে সই করে সেই সেনাদেরও ‘অপমান’ করা হয়েছে।

শনিবার আর্মেনিয়ার নিরাপত্তার বাহিনী জানিয়েছে, সাবেক সেনাদের একটি দল প্রধানমন্ত্রী পাশিনয়ানকে হত্যা করে সরকার ফেলে দেওয়ার চক্রান্ত করেছিল। ওই দলের বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ক্ষমতা ধরে রাখতে চাননি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

লড়াই থামাতে রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব ধরনের আলোচনা চালিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্নাৎসাকানিয়ান। এর আগে তিনটি চুক্তিতেও তিনি সই করেছিলেন। কিন্তু যুদ্ধবিরতির সেই চুক্তিগুলো বাস্তবে কার্যকরী হয়নি। তবে এই যুদ্ধে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। সেই দায় স্বীকার করেই পদত্যাগ করেছেন তিনি।