সংবাদ কর্মীর উপর পুলিশি হামলার ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে রংপুরের সাংবাদিক সমাজ

৩:৪১ অপরাহ্ন | বুধবার, নভেম্বর ১৮, ২০২০ দেশের খবর, রংপুর
rongpur-journalist

সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর- অবৈধ স্থাপনে উচ্ছেদ চলাকালে এক সংবাদ কর্মীর উপর পুলিশি হামলার ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে রংপুরের সাংবাদিক সমাজ। পুলিশি হামলার প্রতিবাদে টেলিভিশন ক্যামেরা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (টিসিএ), রংপুরের উদ্যোগে এক ঘন্টার কর্মবিরতি পালন, স্মারকলিপি প্রদানসহ প্রতিবাদ সভা করা হয়েছে।

এদিকে গুরুতর আহত ওই সংবাদ কর্মী রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনী আলাদা আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সাংবাদিক পেটানোর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এএসআই সায়েমকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ।

মঙ্গলবার বিকেলে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ইন্ডিপেনডেন্ট টিভি’র ক্যামেরাপার্সন লিমন রহমানের সাথে বাকবিতন্ডা এক পর্যায়ে সংঘবদ্ধ পুলিশ সদস্যরা প্রধান সড়কে লিমনকে লাঠি পেটাসহ লাথি মেরে গুরুতর আহত করে।

এ সময় লিমনের সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। মাথা, কান, ঘাড়, বুক, হাত, পা, কোমড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পাওয়ায় ৩ ঘন্টা অচেতন অবস্থায় থাকে লিমন। খবর পেয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে আসেন মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাঃ আবদুল আলীম মাহমুদ, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার শহিদুল্লাহ্ কাওসার, উত্তম প্রসাদ পাঠকসহ পুলিশের কর্মকর্তারা।

এদিকে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে থাকা কিছু পুলিশ সদস্যরা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে প্রকাশ্যে সাংবাদিককে লাঠিপেটা করায় বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে সাংবাদিক সমাজসহ সচেতনরা। তারা ভাঙ্গা মসজিদ এলাকায় প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধসহ বিক্ষোভ করে। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের আইনের আওতায় আনার দাবী জানান তারা। রাত ৮টার দিকে মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার আলতাফ হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ৭২ ঘন্টার মধ্যে দোষী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে সাংবাদিকরা সড়ক অবরোধ তুলে নেন।

এ ঘটনায় মেট্রোপুলিশ রাতেই ঘটনার সাথে অভিযুক্ত এএসআই সায়েমকে সাময়িক বরখাস্ত করে। বুধবার দুুপুরে লিমনের উপর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে রংপুর প্রেসক্লাবে সভা করে টেলিভিশন ক্যামেরা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন। এতে রংপুর প্রেসক্লাব, রিপোর্টাস্ ক্লাব, সিটি প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন রংপুর, রংপুর ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা এতে অংশ নেন।

সভায় টিসিএ’র সভাপতি শাহ নেওয়াজ জনির সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, রংপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুর রশিদ বাবু, সহ-সভাপতি আবু তালেব, সাধারণ সম্পাদক রফিক সরকার, যুগ্ম সম্পাদক মানিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পী, কার্যকরী সদস্য জাভেদ ইকবাল, প্রেসক্লাবের সদস্য মাহবুবুল ইসলাম, টিসিএ’র সহ-সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ডেমি, সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সুমন, বাংলাদেশ ফটো জর্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম রিপন, সদস্য মঈনুল হক, রংপুর ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আদর রহমান, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম জীবন, টিসিএ’র যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল ইসলাম মুকুল, কোষাধ্যক্ষ শরীফ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কাশেম, দপ্তর সম্পাদক একেএম সুমন মিয়া, সদস্য আলী হায়দার রনি, ফুয়াদ হাসান, আসাদুজ্জামান আরমান, নুর মোহাম্মদ, নাজমুল হোসেন, আলমগীর হোসেনসহ অন্যরা।

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, পুলিশের বেঁধে দেয়া ৭২ ঘন্টার মধ্যে দোষী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবে সাংবাদিক সমাজ। এরপর রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে প্রধান সড়কের ক্যামেরা রেখে ১ ঘন্টার কর্মবিরতি পালন শেষে পুলিশ কমিশনার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে টিসিএ’র নেতৃবৃন্দরা।