৩১ ঘন্টা পর সচল হতে শুরু করেছে সিলেটের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা

sylet
❏ বুধবার, নভেম্বর ১৮, ২০২০ সিলেট

আবুল হোসেন, সিলেট প্রতিনিধিঃ প্রায় ৩১ ঘন্টা বিদ্যুৎবিহীন থাকার পর সিলেট নগরীতে সচল হতে শুরু করেছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। বুধবার রাত ৬ টা ১০ মিনিট থেকে নগরের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হয়। তবে কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ফিরলেও নগরীর বেশিরভাগ এলাকাই এখন পর্যন্ত অন্ধকারে রয়েছে।

প্রায় ৩১ ঘন্টা পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম ধাপে সিলেট নগরের আম্বরখানা ও এমসি কলেজ ফিডারে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে নগরের সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন ও বিতরণ বিভাগ সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী খন্দকার মোকাম্মেল হোসেন।

তবে টানা বিদুৎহীনতার কারণে মঙ্গলবার থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় নগরবাসীকে। বিদ্যুৎহীনতার সাথে দেখা দেয় পানির সঙ্কট। ফলে নগরজুড়ে দেখা দেয় হাহাকার।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় সিলেটের কুমারগাওয়ে জাতীয় গ্রিড লাইনে আগুন লেগে যায়। এরপর থেকেই বিদ্যুহীন হয়ে পড়ে পুরো সিলেট জেলা। এছাড়া সুনামগঞ্জের কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে বিপাকে পড়েন এই দুই জেলার বিদ্যুতের প্রায় সাড়ে ৪ লাখ গ্রাহক। মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। তবে আগুনে পুড়ে যায় দুটি ট্রান্সমিটার ও একটি কন্ট্রোল প্যানেল।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরই ক্ষতিগ্রস্থ যন্ত্রপাতি মেরামতে নামেন বিদ্যুত বিভাগের প্রায় ৪শ’ কর্মী। ঢাকা থেকে নিয়ে আসা হয় ট্রান্সমিটার। টানা প্রায় ২৭ ঘন্টা মেরামত কাজের পর বুধবার সন্ধ্যা ৬টার পর বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল হতে থাকে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন ও বিতরণ বিভাগ সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী খন্দকার মোকাম্মেল হোসেন বলেন, ‘আজ সন্ধ্যা ৬টায় এমসি কলেজ ও আম্বরখানা ফিডারে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়েছে। আমাদের কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।’

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও ওই এলাকার ফিডগুলো তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে মেরামত করে এগুলো সচল করা হচ্ছে।

এর আগে আজ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী (বিক্রয় ও বিতরণ) খন্দকার মোকাম্মেল হোসেন বলেন, গতকাল রাত থেকে প্রায় ৪০০ কর্মী কাজ করছেন। আজ দুপুরের আগে মেরামত করা কিছু পিলার পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। যত দ্রুত সম্ভব বাকি এলাকাগুলো বিদ্যুতের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করা হবে।

এর আগে মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) সকাল সোয়া ১১ টার দিকে আগুন লাগার পর বিদ্যুতবিহিন হয় সিলেট শহরসহ বিভাগের বেশ কয়েকটি অঞ্চল। এর পর প্রায় ৩০ ঘণ্টা চলে গেলেও এখনো আসেনি বিদ্যুৎ। আর তাতে সময়ে সময়ে বেড়েছে ভোগান্তি।

বিশেষ করে সিলেট নগরে বাসা-বারিতে দেখা দিয়েছে পানির তীব্র সংকট। প্রয়োজন মিটাতে লোকজন বালতি, ড্রাম কিংবা কলসি কাকে ছুটে চলছেন পানির সন্ধানে। যেখানে টিউবওয়েল আছে সেখানেই ভিড় করছেন মানুষ।