বাউফলের বগা লঞ্চঘাটে ডাবল ডেকার লঞ্চ নোঙ্গর না করায় যাত্রীদের দুর্ভোগ

৬:৪৭ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৯, ২০২০ দেশের খবর, বরিশাল
লঞ্চ

কৃষ্ণ কর্মকার, বাউফল প্রতিনিধি- পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার অন্যতম প্রধান নদীবন্দর বগা লঞ্চঘাটে ঢাকাগামী ডাবল ডেকার লঞ্চগুলো নোঙ্গর না করার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছে যাত্রীরা।

গত চার দিন ধরে ঘাটে লঞ্চগুলো নোঙ্গর করছে না। অভিযোগ রয়েছে, লঞ্চগুলোর চিরাচরিত সিন্ডিগেট ভেঙ্গে যাওয়ার কারণেই নির্দিষ্ট একটি লঞ্চের উপর দায় চাপিয়ে দিয়ে লঞ্চ কর্তপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জানা গেছে, পটুয়াখালী ভায়া বগা- ঢাকা নৌ রুটে প্রতিদিন জামাল-১, আসা যাওয়া-২, পুবালী-৫,বাঘেরহাট-২, সুন্দরবন-৯ সত্তার খান -১, কুয়াকাটা-১, কাজল -৭, আওলাদ-৭, সুন্দরবন -১১ জামাল-৫ নামের ১১টি ডাবলডেকার লঞ্চ চলাচল করত। অভিযোগ রয়েছে ওই ১১টি লঞ্চ মালিক কর্তৃপক্ষ সিন্ডিগেট তৈরী করে রোটেশন পদ্ধতিতে দৈনিক দুইটা করে চারটা লঞ্চ চালু রাখত। এর মধ্যে মাত্র একটি লঞ্চ বগা ঘাটে নোঙ্গর করতো। যা স্থানীয় যাত্রীদের তুলনায় অপ্রতুল।

সম্প্রতি রয়েল ক্রুজ নামের একটি বিলাস বহুল ডাবল ডেকার লঞ্চ সিন্ডিগেট ভেংগে এই রুটে চালু হলে নড়েচড়ে বসে পূর্বের ওই ১১ লঞ্চ মালিক কর্তৃপক্ষ। তারা আড়াইশ টাকা ভাড়া থেকে মাত্র কুড়ি টাকায় ঢাকা-পটুয়াখালী ঘোষনা দিয়ে বগা ঘাটে নোঙ্গর না করে যাত্রী পরিবহন শুরু করে। আর এ কারনে দুর্ভোগ বেড়ে যায় বগা ঘাটের নিত্য যাত্রীদের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক লঞ্চের দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তি বলেন, রয়েল ক্রুজ লঞ্চ এই লাইনে যুক্ত হয়েছে এর জন্য বগা ঘাটে লঞ্চ নোঙ্গর করা না করার সাথে কোন সম্পৃক্ত না। বিষয়টা হলো বগা ঘাটে পল্টন চার্য পূর্বে ছিল ১৭০০ টাকা, যা বর্তমানে ৪হাজার টাকা দাবী করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদেই বগা ঘাটে লঞ্চ নোঙ্গর করা হচ্ছে না।

এমভি ছত্তার খান লঞ্চের সুপারভাইজার নূরুল আলম জানান, বিষয়টি নিয়ে লঞ্চ মালিক সমিতি বিআইডাব্লুটিএ’র পরিচালক বরাবরে দরখাস্ত দিয়েছে। বিষয়টি সমাধান করার জন্য বাউফল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব হাওলাদার যথেষ্ট।

পটুয়াখালী বিআইডাব্লুটিএ’র সহকারি পরিচালক খাজা সাদিকুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পাইনি, তবে শুনেছি যে, লঞ্চগুলোর ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী বার্থিং চার্জ করা হয়। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে মিমাংসা করার চেষ্টা করবো।

এ বিষয়ে বগা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বর্তমান বাউফল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব হাওলাদার বলেন, অতিরিক্ত বার্থিং চার্জ চাওয়ার কথাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। মূলত: রয়েলক্রুজ লঞ্চটি চলাচল করায় অন্যান্য লঞ্চগুলো প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে বগা পল্টুনে লঞ্চগুলো ভিড়ছে না। এ বিষয়ে সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা হয়েছে।

বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, বিষয়টি জেনেছি। দুই পক্ষকে এক জায়গায় বসানোর জোর চেষ্টা চলছে।