• আজ মঙ্গলবার, ৮ আষাঢ়, ১৪২৮ ৷ ২২ জুন, ২০২১ ৷

মর্গে মৃত নারীদের ধর্ষণের কথা স্বীকার করলো মুন্না

munna
❏ শুক্রবার, নভেম্বর ২০, ২০২০ ঢাকা

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে মৃত নারীদের ধর্ষণ করার অভিযোগে গ্রেফতার মুন্না ভগত আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালতের জিআর শাখার নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনির আসাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ শুক্রবার (২০ নভেম্বর) এ জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

শুক্রবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গ্রেফতার মুন্না ভগতকে আদালতে হাজির করেন। এসময় মুন্না স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি থাকায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ভগতের জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ডোম রজত কুমার লালের ভাগিনা মুন্না ভগত। তিনি মামার সঙ্গেই ওই হাসপাতাল মর্গে সহযোগি হিসেবে কাজ করত। দুই-তিন বছর ধরে মুন্না মর্গে থাকা মৃত নারীদের ধর্ষণ করে আসছিল।

সিআইডির তদন্ত প্রক্রিয়ায় উঠে আসে, প্রত্যেকটি মৃতদেহেরই ময়নাতদন্ত ওই হাসপাতালের মর্গে করা হয়েছে। সিআইডি গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানে নতুন ইঙ্গিত বা ক্লু পাওয়ায় প্রত্যেকটি মৃতদেহ মর্গে আনার পর তার কার্যধারা বিশ্লেষণ করা হয়।

এতে দেখা যায় ময়নাতদন্তের জন্য আনা লাশগুলো পরের দিনে লাশ কাটার অপেক্ষায় মর্গে রেখে দেয়া হতো। এ প্রেক্ষিতে সিআইডি কর্মকর্তারা মর্গে কর্মরত ডোমদের ওই মামলার ময়না তদন্তকালীন গতিবিধি পর্যালোচনা করে দেখেন যে, হাসপাতালের ডোম আলোচ্য পাঁচটি ঘটনার সময় রাতে লাশ পাহাড়া দেয়াসহ মর্গে ছিল।

বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্য ও গোপনে তথ্য সংগ্রহ করলে সিআইডির অনুসন্ধানে ডোম আসামী মুন্না ভগত এই অপরাধে জড়িত আছে মর্মে প্রমাণ পায়।

বিষয়টি টের পেয়ে তাৎক্ষনিত গা ঢাকা দিলে সিআইডির সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয় এবং এরই প্রেক্ষিতে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করে সিআইডি। পরে বৃহস্পতিবার রাতে সিআইডি তাকে গ্রেফতার করে।

আসামির ডিএনএ আলামত সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানোর পর ডিএনএ ল্যাব থেকে আসামি মুন্নার প্রাপ্ত ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে মৃতদেহের ডিএনএ প্রোফাইলের সাথে মিলে যায়।