ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে শেষ হবে স্প্যান এরিয়া নির্মাণের কাজ

১০:১৬ অপরাহ্ন | শুক্রবার, নভেম্বর ২০, ২০২০ ফিচার
satu

মোঃ রুবেল ইসলাম তাহমিদ,  মুন্সিগঞ্জ  প্রতিনিধি: ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার  দৈর্ঘ্যর পদ্মা সেতু এখন স্বপ্নের খোলস থেকে বেরিয়ে রূপ নিয়েছে দৃশ্যমান বাস্তবতায়। এই পদ্মাসেতুর কাঠামোটি দেশের অন্যতম একটি কাঠামো এবং স্বাধীনতার পর সব চেয়ে বড়কাঠামোই এটি। যা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে যাচ্ছে।

প্রথম শুরু হওয়া মূল পাইলিংয়ের কাজ শেষে ৪১টি স্প্যান বসানোর কাজ হাতে নেওয়া হয় সেগুলোর মধ্যে এখন বকি ৪টিমাত্র। সেতুর মাওয়া প্রান্তের ১ ও ২ নম্বর খুঁটিতে ৩৮তম স্প্যান ও ১০ ও ১১ নম্বর খুঁটিতে ৩৯তম স্প্যান বসানোর কথা রয়েছে ২৩ নভেম্বর। গত ১১ নভেম্বর বুধবার পদ্মা সেতুতে ৩৭তম স্প্যান বসানোর ফলে দৃশ্যমান হয়েছে ৫ হাজার ৫৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু। তারও পূর্বে মাওয়া প্রান্তের ২ ও ৩ নম্বর খুঁটিতে ৩৬তম স্প্যানটি বসানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই স্প্যান এরিয়ার কাজ শেষ হবে।

এই প্রথম নিজস্ব অর্থায়নে বড় কোন  প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। যেটি হয়তো ইতিহাস হয়ে থাকবে। সরকারের ইমেজ বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে দাতা দেশগুলোর অন্যায় হস্তক্ষেপ প্রবণতা কমে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের পাশাপাশি এলাকার পর্যটন খাতে যোগ করবে নতুন মাত্রা। বিশেষ করে আধুনিক সব সুযোগ সুবিধা নিয়ে প্রকল্প এলাকায় নির্মিত সার্ভিস এরিয়াগুলোর কাজ শেষে সাধারণের জন্য খুলে দেয়া হলে তার সুফল পাবেন দেশের পর্যটনপ্রেমীরা। এ যেন ধীরে ধীরে গড়ে উঠা এক নতুন শহর। অজস্র স্বপ্নকে বুকে নিয়ে যা জেগে উঠছে উত্তাল পদ্মা নদীর উভয় পাড়ে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠার যে সুযোগ সৃষ্টি হতে যাচ্ছে তাতে ব্যবসা-ব্যানিজ্যর ব্যাপক প্রসার হবে।

পদ্মাসেতুর কাজের সুবিধার জন্য ২০১৪ সালের শুরুতেই মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুর এবং মাদারীপুরে গড়ে তোলা হয়েছিল তিনটি সার্ভিস এরিয়া। যা পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে মনেধরার মতো।

মূল সেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী ” দেওয়ান মোহাম্মদ আবদুল কাদের বলেন, এর মধ্যে এক ও দুই নম্বর সার্ভিস এরিয়ায় মূল সেতু, নদী শাসন প্রকল্প ও সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা থাকছেন। ৩ নম্বর সার্ভিস এরিয়ায় থাকার ব্যবস্থা হয়েছে সেনা কর্মকর্তাদের। আপাতত এই ৩টি সার্ভিস এরিয়া দেশি বিদেশি প্রকৌশলী, বিশেষজ্ঞদের আবাসন এবং গবেষণার কাজে ব্যবহার করা হলেও এগুলোকে ঘিরেই পদ্মার দুপাড়ে গড়ে উঠছে পর্যটন সম্ভাবনা। বিশেষ করে ২ নম্বর সার্ভিস এরিয়াটিকে পুরোপুরি গড়ে তোলা হচ্ছে পর্যটনবান্ধব করে। ৩ টি সার্ভিস এরিয়া নির্মাণে সার্বিক তদারকি করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

সেতুর কাজ শেষ হলে ৭৭ হেক্টর এলাকা জুড়ে নির্মিত ২ নম্বর সার্ভিস এরিয়ায় পর্যটকদের জন্য থাকবে আবাসনের পাশাপাশি আধুনিক সব সুবিধাই। চলতি বছরের মধ্যেই নির্মাণকাজ শতভাগ শেষ করাহলে সার্ভিস এরিয়াগুলো সেতু বিভাগের হাতে হস্তান্তর করবে সেনাবাহিনী।

এদিকে মাওয়া পয়েন্টে টোল প্লাজা, সংযোগ সড়কে থাকা ব্রিজ, সংযোগ সড়কের পাশের সার্ভিস রোড তৈরি, ড্রেজিং ও ক্ষতি গ্রস্তদের পুর্নবাসনের কাজ শেষে ভারী ভারী নির্মাণ যন্ত্র গুলো বিদায় নিচ্ছে ।