• আজ ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সেলসম্যান থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক ‘গোল্ডেন মনির’

৮:২৪ অপরাহ্ন | শনিবার, নভেম্বর ২১, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ
monir

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ রাজধানীর মেরুল বাড্ডা এলাকার বাড়ি থেকে আটক স্বর্ণ চোরাকারবারি মনির হোসেন ওরফে ‘গোল্ডেন মনির’কে তার মেরুল বাড্ডার বাসায় অভিযান চালিয়ে বিদেশি পিস্তল, কয়েক রাউন্ড গুলি, ৬০০ ভরি স্বর্ণ (আট কেজি), ১০টি দেশের মুদ্রা ও এক কোটি নয় লাখ টাকাসহ আটক করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানান, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (২০ নভেম্বর) শেষ রাত থেকে মেরুল বাড্ডায় গোল্ডেন মনিরের বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব।

'অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, কয়েক রাউন্ড গুলি ও বিদেশি মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া, তার বাসা থেকে ৬০০ ভরি (আট কেজি) সোনার গহনা, ১০টি দেশের মুদ্রা জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় নয় লাখ টাকা। এছাড়া নগদ এক কোটি নয় লাখ টাকাও জব্দ করা হয়েছে।'

গোল্ডেন মনির একজন হুন্ডি ব্যবসায়ী, স্বর্ণ চোরা চালানকারী ও জমির দালাল উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার বাড়ি থেকে অনুমোদনহীন দু’টি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করা হয়েছে, যার প্রতিটির মূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা। এছাড়া, তার গাড়ির শোরুম অটো কার সিলেকশন থেকে আরও তিনটি অনুমোদনহীন বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। ‘ভূমিদস্যু’ গোল্ডেন মনির রাজউকের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে বিপুল সংখ্যক বাড়ি ও প্লট হাতিয়ে নিয়েছেন। তার বাড্ডা ডিআইটি প্রজেক্ট, নিকুঞ্জ, কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে দুই শতাধিক প্লট ও বাড়ি রয়েছে বলে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে মনির ৩০টি স্থানে প্লট ও বাড়ির কথা স্বীকার করেছেন।

গোল্ডেন মনিরের মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় এক হাজার ৫০ কোটি টাকারও বেশি। তার বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। এজন্য তার বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচারের বিষয়ে তদন্ত করতে সিআইডি, অনুমোদনহীন গাড়ির জন্য বিআরটিএ ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করবে র‌্যাব, জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, নব্বইয়ের দশকে গাউছিয়া মার্কেটের একটি কাপড়ের দোকানের সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন মনির। এরপর রাজধানীর মৌচাকের একটি ক্রোকারিজ দোকানে তিনি কাজ নেন। সে সময় এক লাগেজ ব্যবসায়ীর সঙ্গে পরিচয় হলে মনির লাগেজ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন।

আশিক বিল্লাহ বলেন, ঢাকা-সিঙ্গাপুর–ভারত, এই রুটে তিনি প্রথমে লাগেজে করে কাপড়, কসমেটিক, ইলেকট্রনিকস, কম্পিউটারসামগ্রী, মোবাইল, ঘড়িসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে আনা-নেয়া করতেন। এই কাজগুলো করতে করতে তিনি লাগেজ স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িয়ে পড়েন।

‘পরে বায়তুল মোকাররমে একটি জুয়েলারি দোকান দেন মনির। সময়ের ব্যবধানে মনির বড় ধরনের স্বর্ণ চোরাচালানকারী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তার নাম হয়ে যায় গোল্ডেন মনির।’

চোরাচালানের দায়ে ২০০৭ সাল বিশেষ ক্ষমতা আইনে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় বলে জানান র‍্যাবের এই মুখপাত্র।