সংবাদ শিরোনাম

মাস্ক পরা বাধ্য করতে বাড়তে পারে জরিমানা | সৌদি প্রিন্সের সঙ্গে ‘গোপন বৈঠকে’ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী! | শিগগির আরো দুটি বিসিএসের প্রজ্ঞাপন, নিয়োগ পাবেন ৩৮১৪ জন | বিনামূল্যে জনগণের দ্বারপ্রান্তে করোনার ভ্যাকসিন পৌছে দেওয়া হবে: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী | হাসিনা-মোদির ভার্চুয়াল বৈঠকে হতে পারে ৪ চুক্তি | যারা ভাস্কর্যের পক্ষাবলম্বন করছেন তারা মুর্খ ও জ্ঞানপাপী: ইসলামী আন্দোলন | ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশকে একীভূত করা উচিত: ভারতীয় মন্ত্রী | শান্তিকালীন পদক পেলেন ১২৩ সেনা সদস্য | একই রোল নিয়ে পরের ক্লাসে উঠবে প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা | দুই মুসলিম বিজ্ঞানী দম্পতির হাত দিয়ে করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কার |

  • আজ ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মাদারীপুরে বানরের ঘরে অসহায় মানুষের বসবাস!

১০:২১ অপরাহ্ন | রবিবার, নভেম্বর ২২, ২০২০ ঢাকা
madaripur

স্টাফ রিপোর্টার, মাদারীপুরঃ স্বামীসহ একটি ছোট চায়ের দোকান চালিয়ে কোনোমতে সংসার চালাচ্ছেন নাদিরা। জমি কিনে ঘর বানিয়ে সেখানে বসবাস করার মতো টাকা নেই নাদিরার পরিবারের। তাই আট বছরের সন্তান নিয়ে পরিত্যক্ত বানরের ঘরকেই বসবাসের উপযুক্ত করে তুলেছেন। নাদিরা মাদারীপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বৃদ্ধা আব্দুর রহমান হাওলাদার মেয়ে।

জানা যায়, ফরিদপুর বন বিভাগ বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে ১৯৯৯ সালে বানরকে খাবার দেওয়ার জন্য একটি ঘর তৈরি করে। তখন প্রচুর বানর খাবার খেতে আসত। কিন্তু এরপর বানরের জন্য সরকারিভাবে তেমন বরাদ্দ না থাকায় আস্তে আস্তে বানরগুলো বিভিন্ন এলাকায় খাবারের জন্য চলে যায়।

এরপর ২০০৬-৭ সাল থেকে আবার খাবার দেওয়া শুরু করে মাদারীপুর বন বিভাগ। তবে তাও ছিল অপ্রতুল। এ ছাড়া বানর সংরক্ষণ করে একটি পর্যটন এলাকা তৈরির জন্য ইকো পার্ক তৈরি করা হয়। কিন্তু সেই কার্যক্রমেও তেমন অগ্রগতি নেই। বানরের ঘরগুলো খালি পড়ে থাকায় অসহায় ঘরহীন সাত পরিবার সেখানে বসবাস করছে। তবে বানরের ঘরগুলো কারা তৈরি করছে সঠিকভাবে কোনো তথ্য মাদারীপুর বন বিভাগ দিতে পারেনি।

মাদারীপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কুমার নদীর পাড়ে পৌর-কলোনির পাশে কয়েকটি পরিবার পাশের জমিতে ছাপড়া ঘর নির্মাণ করে থাকছে। তবে নাদিরার ঘর নির্মাণ করার অর্থ ও না থাকায় প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে বানরের খাবারের ঘরে বসবাস করছে।

নাদিরা বলেন, আমি অসহায় হয়ে আজ বানরের ঘরে থাকি আমার থাকার কোনো স্থান নেই, যদি থাকত আমি বানরের খাবার দেওয়ার ঘরে থাকতাম না। তবে এখন আর এখানে কোনো বানর দেখা যায় না। খালিই পড়ে ছিল ঘরটি। তাই আমি আমার সন্তান ও স্বামী মনজুর আলমকে নিয়ে থাকি। পাশাপাশি এখানে একটি ছোট একটি চায়ের দোকান দিয়ে সংসারের কিছু খরচ তোলার চেষ্টা করছি।

নাদিরা বেগমের বৃদ্ধা বাবা আব্দুর রহমান হাওলাদার বলেন, আমার কোনো জমি নেই। আমার থাকার ঘর নেই। মেয়ে বা তার স্বামীকে কোথায় থাকতে দেব। তাই বাধ্য হয়ে বানরের ঘরে থাকে। সরকার যদি সহযোগিতা করে তাহলে হয়তো আর বানরের ঘরে আমার মেয়ে থাকবে না।

মাদারীপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার মো. খলিলুর রহমান ব্যাপারী বলেন, বানর খাবার না পেয়ে এখন বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। ১৯৯৯ সালে বিশেষ প্রজেক্টের মাধ্যমে বানরের খাবারের ঘর নির্মাণ করে ফরিদপুর বন-বিভাগের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। এর দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয় পৌরসভাকে। কিন্তু তাদের দেখভাল না থাকায় বানরের ঘরটি খালি পড়ে ছিল, তাই হয়তো একটি পরিবার সেখানে থাকে। যদি তাদের থাকার স্থান না থাকে তাহলে আমি সরকারি সহযোগিতা ছাড়াও নিজে আর্থিক সহযোগিতা করব।

মাদারীপুর জেলা বন কর্মকর্তা তাপস কুমার সেন গুপ্ত জানান, আমি জানতাম না বানরের কোনো খাবারের ঘর আছে। তবে এই ঘরগুলো আমাদের বন বিভাগের কি না আমি নিশ্চিত না। হয়তো জেলা পরিষদ করতে পারে। তবে আমরা ফরিদপুর যোগাযোগ করে দেখব কারা এই প্রতিষ্ঠান করেছে। এরপর বলতে পারব।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, ‘যাদের ঘর নাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তাদের আমরা ঘর করে দিচ্ছি। এ রকম যদি কেউ থাকে তাহলে আমরা বঙ্গবন্ধু পল্লিতে তাদের আমরা আশ্রয় দেব। আর বানরের ঘরে কেন মানুষ বসবাস করে, কেন এটার যত্ন করা হচ্ছে না। সেটা আমি জেলা বন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মাদারীপুর-২ আসনের সাংসদ সদস্য শাজাহান খান বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন সব গৃহহীন মানুষকে গৃহ দেবেন এবং তিনি সেটা দিচ্ছেন। আর এ রকম ঘটনা আমার জানা নেই তবে এ রকম সমস্যা যদি হয়ে থাকে তার জন্য আমরা সরকারিভাবে পুনর্বাসন করে ঘর দেওয়ার ব্যবস্থা করব। তা ছাড়া বানরের জন্য যে ইকো পার্কের কাজ শুরু হয়েছিল তার উন্নয়নের কাজের জন্য সরকারি ভাবে প্রায় ৩১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।’