মৃত নারীদের ধর্ষণ: সেই মুন্নার বিচার চাইলেন তার বাবা

১১:০৭ অপরাহ্ন | রবিবার, নভেম্বর ২২, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ
munna

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে মৃত নারীদের ধর্ষণ করার অভিযোগে গ্রেফতার মুন্নার বিচার চাইলেন তার বাবা। সে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌর এলাকার জুরান মোল্লারপাড়া এলাকার দুলাল ভক্তের ছেলে। এর আগে মুন্নাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি।

দুলাল ভক্ত জানান, মুন্না গোয়ালন্দ আইডিয়াল হাই স্কুল থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে ঢাকায় কাজে চলে যায়। এর পর মুন্নার মামা যতন কুমার লালের সঙ্গে প্রায় দেড় বছর ধরে কাজ করছিল। সে তার মামার বাসাতেই থাকত। শুক্রবার স্থানীয়দের মুখে মুখে ছেলের অপকর্মের কথা শোনা যায়। এই অন্যায়ের সঠিক বিচার চান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা স্বপন ভক্ত বলেন, মুন্নার কথাবার্তা, আচার-আচরণ আগে থেকেই খুব খারাপ ছিল। সে মাঝেমধ্যে নেশা করত।

এদিকে, মৃতদেহ ধর্ষণের অভিযোগে আটককৃত মুন্না স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ শুক্রবার (২০ নভেম্বর) এ জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

সিআইডি সূত্রে জানা যায়, সিআইডি ফরেনসিক ল্যাবের বিশ্লেষকরা 'কোডেক্স' নামে সফটওয়্যারে ডাটা বিশ্লেষণ করে দেখতে পায় ৫টি মৃতদেহে একই ব্যক্তির ডিএনএ। পাঁচ ভিক্টিমই কিশোরী।

অনুসন্ধানে নেমে সিআইডি জানতে পারে, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গের মূল ডোম রজত কুমার। তাকে সহায়তা করে আরও ৫/৬ জন। তার মধ্যে রজতের ভাগ্নে মুন্না রাতে মর্গের পাশেই একটি কক্ষে থাকে। মুন্নাকেই সন্দেহ হয় সিআইডির। গুমের শিকার হওয়া এক যুবকের স্বজন সেজে মুন্নার সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন সিআইডির দুই কর্মকর্তা।

তাদের একজন জানান, বেশ কয়েকদিন লাগাতার তারা মুন্নাকে ফলো করতে থাকেন। রাতে মুন্নাই থাকে এটি নিশ্চিত হতে তারা রাত ১টা বা ২টায়ও মর্গে গিয়েছেন। ছবি দেখিয়ে জানতে চেয়েছেন এই চেহারার কোনো লাশ মর্গে এসেছে কিনা। সম্পর্ক গাঢ় হলে, কৌশলে মুন্নার পান করা সিগারেটের ফিল্টার সংগ্রহ করেন তারা। ফিল্টার থেকে সংগ্রহ করা ডিএনএ’র সাথে মিলে যায় ওই পাঁচ কিশোরীর দেহে পাওয়া ডিএনএ’র।

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ রেজাউল হায়দার গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম ধরা পড়েছে। প্রযুক্তির কল্যাণে একটি হাসপাতাল মর্গের ঘটনা ধরা পড়েছে। সারা দেশের অন্য হাসপাতালগুলোতেও অনেক ডোম কাজ করেন। তারা যে এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে না সেটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। খুঁজলে আরো অনেক পাওয়া যেতে পারে। তাই অন্যান্য হাসপাতালে সিআইডির নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।