পুরুষ হয়েও আমি ঘরে নির্যাতনের শিকার, যা কাউকে বলা যায় না: মেয়র মাহফুজুল

◷ ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন ৷ সোমবার, নভেম্বর ২৩, ২০২০ চট্টগ্রাম
মেয়র মাহফুজুল

চাঁদপুর প্রতিনিধি- চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে যৌতুক ও নির্যাতনের জেরে স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় পাল্টা অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মেয়র মো: মাহফুজুল হক।

চার দিন আগে মামলা দায়ের করেছিলেন তার প্রথম স্ত্রী সোনিয়া আক্তার। সেই মামলাকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে রোববার (২২ নভেম্বর) বিকালে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মাহফুজুল হক।

গত আট বছর ধরে স্ত্রীর অমানুষিক নির্যাতনের শিকার বলে উল্টো অভিযোগ করে তিনি বলেন, আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। যখনই নির্বাচন সামনে আসে, তখনই একটি চক্র নানাভাবে হেনস্তা করার জন্য উঠে পড়ে লাগে। সেই অনুযায়ী আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে যখন নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি তখনি, আমার স্ত্রীকে দাবার ঘুঁটি হিসেবে প্রতিপক্ষরা ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পুরো বিবরণ পড়লে যে কেউ নিশ্চিত হবে এটি সাজানো।

তিনি আরো বলেন, প্রেম করে বিয়ে করেও আমি কখনো সুখি ছিলাম না। আমার স্ত্রীর অর্থ লোভী, সংসারের প্রতি উদাসিনতা এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে অশোভন আচরণ করে। প্রায়শই আমার স্ত্রীর মারমুখি আচরণের শিকার হতে হয়েছে। নারী নির্যাতন হয় আমি জানি কিন্তু আমি পুরুষ হয়েও নির্যাতনের শিকার হয়েছি। পুরুষরা এভাবেই নির্যাতনের শিকার হচ্ছে যা কাউকে বলতে পারছে না”।

‘এককথায় বলতে হয় আমার স্ত্রী সোনিয়া আক্তার মানসিকভাবে অসুস্থ। প্রায়ই সে আমার তিন সন্তানকে ফেলে রেখে ঘর থেকে বেরিয়ে যেত। ফলে বাধ্য হয়ে আমি আমার পরিবারের সদস্যদের সাতে পরামর্শ করে ছোট ছোট তিনটি সন্তানকে পালন করতে দ্বিতীয় বিয়ে করতে বাধ্য হই। তারপরও যদি আমার প্রথম স্ত্রী সোনিয়া ফিরে আসতে চায় আমি সন্তানদের দিকে তাকিয়ে তাকে ঘরে তুলে নিবো’।

সংবাদ সম্মেলনে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সম্পাদকসহ চাঁদপুর ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে পৌর মেয়র নির্বাচিত হন মাহফুজুল হক। বর্তমানে তিনি ফরিদগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

উল্লেখ্য, গত ১৭ নভেম্বর ফরিদগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহফুজুল হকের বিরুদ্ধে তার স্ত্রী সোনিয়া আক্তার বাদী হয়ে চাঁদপুর আদালতে মামলা দায়ের করেন। জানা যায় ‘আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে জুডিশিয়াল তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে এবং আগামী ১৪ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।’

মামলাটিতে সোনিয়া উল্লেখ করেন, ২০১০ সালে মো. মাহফুজুল হকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর সোনিয়ার বাবা মাহফুজুলকে স্বর্ণালংকার ও ঘরের সব আসবাবপত্র উপহার দেন। পরবর্তীতে ব্যবসার কথা বলে মাহফুজুল সোনিয়ার বাবার কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা এবং সোনিয়ার এক বোন জামাইয়ের কাছ থেকে সাড়ে সাত লাখ টাকা ধার নেন। পরে সোনিয়া জানতে পারেন মাহফুজুল মাদকসেবী এবং পরকীয়ায় আসক্ত। প্রায়ই মাদক সেবন করে এসে মাহফুজুল তাকে মারধর করতেন।

বর্তমানে তাদের এক ছেলে এবং দুই মেয়ে রয়েছে। শুধু সন্তানদের মায়ায় এতো নির্যাতন সহ্য করেও সংসার করে আসছিলেন সোনিয়া। কিন্তু মাহফুজুল আরও পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে তাকে শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে যান। এর মধ্যেই কুমিল্লার আলো নামের এক নারীর সঙ্গে মাহফুজুল পরকীয়ায় জড়িয়ে গেলে সোনিয়া আপত্তি জানান। কিন্তু এতে সোনিয়ার ওপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে কুমিল্লার ওই নারীকে বিয়ে করেন মাহফুজুল।

সোনিয়া বলেন, ‘আমাকে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য ২/৪ দিন পরপরই আমার বাবার কাছে আরও যৌতুক দাবি করতো মাহফুজুল। যৌতুক না দিতে পারায় আমার ওপর নির্যাতন বাড়তে থাকে। মাহফুজুলের বাবা এই নির্যাতন দেখেও না দেখার ভান করেন, তিনি নীরবে মাহফুজুলের পরকীয়া সমর্থন করে যান। বর্তমানে আমি প্রায় আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এমন অবস্থায়ও মাহফুজুলের নির্যাতন থেমে থাকেনি। তাকে আরও পাঁচ লাখ টাকা না দিলে ঘরে থাকতে দেবে না এবং আলোকে নিয়ে সংসার করবে বলে সাফ জানিয়ে দেয়।’

‘এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে মাহফুজুল আমাকে হত্যার জন্য গলা চেপে ধরে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি মেরে আমাকে অচেতন করে ফেলে রাখে। পরে স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। কোনো উপায় না দেখে আমি ফরিদগঞ্জ থানায় অভিযোগ দিতে গেলে তারা আমাকে চাঁদপুর আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। পরে সুবিচারের আশায় গত ১৭ নভেম্বর আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করি’, বলেন তিনি।