অবশেষে বাইডেনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে রাজি হলেন ট্রাম্প

◷ ১:০৪ অপরাহ্ন ৷ মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৪, ২০২০ আন্তর্জাতিক
বাইডেন_ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- নির্বাচনে জয়ী জো বাইডেনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়ে অবশেষে সম্মত হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ মঙ্গলবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন সরকারের যে সংস্থা ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়টি দেখভাল করে, তাদের যা করণীয়, তা অবশ্যই করা উচিত। তবে ট্রাম্প এখনো নির্বাচনে তাঁর পরাজয় মেনে নেননি। তিনি তাঁর লড়াই অব্যাহত রাখবেন।

যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়টি দেখভাল করে ফেডারেল এজেন্সি জেনারেল সার্ভিস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিএসএ)। জিএসএ বলেছে, ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন নির্বাচনে জয়ী বলে প্রতীয়মান হওয়ার বিষয়টি তারা স্বীকার করছে।

মিশিগান অঙ্গরাজ্যে বাইডেনের বিজয় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সার্টিফাই’ হওয়ার পরই ট্রাম্পের কাছ থেকে এমন নাটকীয় ঘোষণা এল। মিশিগানের ঘটনা ট্রাম্পের জন্য একটা বড় ধাক্কা।

এদিকে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বাইডেন টিম। এক বিবৃতিতে তারা বলছে, মহা-মারি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনীতিতে গতি আনাসহ জাতির সামনে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় আজকের এই সিদ্ধান্তটি ছিলো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।

ট্রাম্প এক টুইট বার্তায় বলেছেন, ক্ষমতা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় থাকা জিএসএ বাইডেন শিবিরকে জানিয়েছেন যে, তারা প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে। প্রশাসক এমিলি মারফি বলেছেন, তিনি নতুন প্রেসিডেন্টের জন্য ৬৩ লাখ ডলার অবমুক্ত করেছেন।

তবে ‘ভালো লড়াই’ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ট্রাম্প বলেছেন, ‘জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এমিলি ও তার টিমের করনীয় কাজটাই করা উচিৎ। এবং আমার টিমকেও তাই বলেছি।’ এমিলি মারফিকে ট্রাম্পই জিএসএ প্রধান হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছিলেন।

তিনি নির্বাচনের ফল সার্টিফিকেশন ও আইনি চ্যালেঞ্জসহ সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহকে তার সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে হোয়াইট হাউসের দিক থেকে কোনো চাপের বিষয়টি তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

এমিলি বলেন, ‘আমি পরিষ্কার করতে চাই যে আমি প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত করতে কোনো নির্দেশনা পাইনি। বাইডেনকে দেয়া তার চিঠিতে এভাবেই পুরো বিষয়টি উল্লেখ করেছেন তিনি।

তবে তিনি এও বলছেন যে, ‘অনলাইনে, ফোনে এবং ই-মেইলে হুমকি পেয়েছি যাতে আমার নিরাপত্তা, আমার পরিবার, কর্মকর্তা এমনকি আমার পোষা প্রাণীটিকে জড়ানো হয়েছে যাতে সময়ের আগেই আমি সিদ্ধান্ত নেই। এমনকি হাজার হাজার হুমকির মুখেও আমি আইনকে সর্বাগ্রে রাখতে অঙ্গীকারাবদ্ধ ছিলাম।’

নির্বাচনের পর রুটিন কাজ হিসেবে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু করতে না পারায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই রাজনৈতিক শিবির থেকেই এমিলি মারফির তুমুল সমালোচনা হচ্ছিল। ডেমোক্র্যাটরা এটি শুরু করতে তাকে গত সোমবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল।