মির্জাপুরে এখনও দখলমুক্ত হয়নি ফুটপাত ও রাস্তা, স্থায়ী সমাধানের দাবি ব্যবসায়ীদের

◷ ৬:৪৯ অপরাহ্ন ৷ মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৪, ২০২০ দেশের খবর, ঢাকা
মির্জাপুর

মো. সানোয়ার হোসেন, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি- টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ফুটপাত ও রাস্তা দখলের ফলে জনগণের চলাচলে প্রতিনিয়তই ভোগান্তি পোহাতে হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে এর কারণে স্বচ্ছন্দে চলাচল করতে পারছেন না সাধারণ পথচারীরা। যানচলাচলে ব্যাঘাত ঘটায় দিনের অধিকাংশ সময়ই শহরের প্রধান রাস্তায় জট লেগেই থাকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মির্জাপুর পৌরসভার প্রধান বাজারসহ নতুন ও পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার রাস্তার একাংশ ও ফুটপাত ব্যবসায়ীদের দখলে। সেই স্থানগুলোতে বসেছে একাধিক ফলের দোকান, বসানো হয়েছে হোটেলের চুলা এবং বিভিন্ন গার্মেন্টস্ দোকানের সামনের অংশে রাখা হয়েছে জামা-কাপড়। আর যারা ফুটপাতে জায়গা পাচ্ছেন না তারা মালামাল নিয়ে রাস্তায়ই বসে পড়ছেন।

এদিকে শুক্রবার গম, সরিষা, গাছ, মুরগি-কবুতরের হাট থাকায় জনগণের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশিই থাকে। এদিনে পুরো শহরজুড়ে দেখা মেলে ফুটপাত ও রাস্তাদখলকারী ব্যবসায়ীদের মেলা। যেনো রাস্তায় পা ফেলারও জায়গা থাকেনা, এতে রাস্তার মাঝখান দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই চলাফেরা করতে হয় সকলকে।

এছাড়া অন্যান্য দিনেও ভ্রাম্যমাণ জুতার দোকান এবং বিভিন্ন কোম্পানীর মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের মোটরসাইকেল দিয়ে দখল থাকে রাস্তা। ফলে পথচারীরা একদিকে যেমন ফুটপাত ব্যবহার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অপরদিকে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় নানামুখী সমস্যার সম্মুখীনও হচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, ফুটপাত মানুষের হাটা-চলা করার জন্য। কিন্তু মির্জাপুরে তা ভিন্ন। দীর্ঘ বছর ধরেই এই ফুটপাতগুলো দখল করে ব্যবসা করা হচ্ছে। জনগণের সুবিধার্থে এগুলো উচ্ছেদ করা প্রয়োজন।

জানা যায়, রাস্তা যানজটমুক্ত রাখতে এবং পথচারীরা ফুটপাত যেনো সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে সেজন্য একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করলেও পরবর্তী দুই-তিন ঘন্টার ব্যবধানে রীতিমতো আবারও ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন ব্যবসায়ীরা।

বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, আমরা একটি স্থায়ী জায়গা চাই। যেখানে শান্তিমতো ব্যবসা করতে পারবো। একটাই দাবি আমাদের বসার মতো একটা জায়গা দিলেই হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক বলেন, এ বিষয়ে আমরা একাধিকবার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করেছি। তবুও ব্যবসায়ীরা দোকান-পাট করেই চলেছে। এটির সুষ্ঠু সমাধানের জন্য সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এছাড়াও নিয়মিত বাজার মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে এই কর্মকর্তা জানান, যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে অবৈধ স্থাপনাগুলো সরিয়ে না নেয়া হয় তাহলে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মির্জাপুর পৌরসভার মেয়র সালমা আক্তার বলেন, আমরা এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি, আপাতত ফল ব্যবসায়ীদের জন্য মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের পূর্ব পার্শ্বের জায়গাটা দেখা হয়েছে, অল্প সময়ের মধ্যেই ওইস্থানে মাটি ফেলে তাদের বসার ব্যবস্থা করে দেয়া হবে।

উল্লেখ করেন পরবর্তীতে যখন পৌর মার্কেট হবে তখন ওইস্থানে তাদের স্থায়ীভাবে দোকান দেয়া হবে। রাস্তা দখলের ব্যাপারে মেয়র বলেন, এ বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি, তবে পৌরসভার মাসিক সভায় বিষয়টি উত্থাপন করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।