কচুয়ায় স্বাস্থ্যসেবার রুগ্নদশা: প্রাইভেট হাসপাতালে নিঃস্ব উপজেলাবাসী

কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
❏ বুধবার, নভেম্বর ২৫, ২০২০ চট্টগ্রাম

চাঁদপুর প্রতিনিধি- চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স শুধু নামেই মাত্র ৫০ শয্যা বিশিষ্ঠ হাসপাতাল। মেডিসিন, সার্জারী,গাইনি, এ্যানেসথেসিয়া, ডেন্টাল সার্জন ও শিশু সহ একাধিক বিভাগ কিংবা পদ থাকলে ও নেই কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। পরীক্ষা-নীরিক্ষার কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে আছে দীর্ঘদিন। এতে প্রতিনিয়ত কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে লক্ষাধিক জনগণ।

প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল ও কাঙ্খিত যন্ত্রপাতির অভাবে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির চিকিৎসা কার্যক্রম।

সরেজমিনে গিয়ে অনুসন্ধানে উঠে আসে, রোগীদের ভোগান্তি সহ নানান হয়রানীর চিত্র। তথ্যানুসন্ধানে ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জনবল তালিকা থেকে জানা যায়, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালে চিকিৎসকের ২১টি পদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ৯ টি পদই শূণ্য। আবার ৯টি শূণ্য পদের মধ্যে ৮টিই হচ্ছে কনসালট্যান্টের পদ। এছাড়াও গাইনী কনসালট্যান্টের পদ দীর্ঘদিন শূণ্য রয়েছে। ফলে মহিলাদের জটিল রোগের চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

হাসপাতালটির সার্জিকেল কনসালট্যান্টের পদ শূণ্য থাকায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে অপারেশন থিয়েটার। অপারেশন থিয়েটারটিও বর্তমানে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। যেটি মেরামত যোগ্য নয়। ফলে সম্পূর্ণ নতুন এ্যানেসথেসিয়া মেশিন সরবরাহ করা ছাড়াও উপায় নেই।

গর্ভবতীদের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলে ভুক্তভোগীদের যেতে হয় জেলা শহরে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ চিকিৎসা সেবা নিতে আসা সালমা, রোকেয়া, আঁখি, রেহানা সহ একাধিক রোগী জানান, বিশেষজ্ঞ কোন চিকিৎসক না থাকায় বাধ্য হয়ে জেলা শহর বা অন্যত্র যেতে হয়। এতে বাহিরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে প্রচুর টাকা খরচ করতে হয় তাদের।

এক্স-রে মেশিনটি ১০ বছর যাবৎ অকেজো হয়ে পড়ে আছে। নেই রেডিওলজিস্ট ও এক্স-রে টেকনিশিয়ান। ইসিজি’র মেশিনটিও নষ্ট। এতে করে সম্ভব হচ্ছে না পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে সুষ্টুভাবে রোগ নির্ণয় করা।

শুধু তাই নয়, হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে তৃতীয় শ্রেণির মোট কর্মচারীর পদসংখ্যা ১শ ৫১ এর মধ্যে ৪৫টি পদ শূণ্য রয়েছে। শূণ্য পদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, স্বাস্থ্য সহকারির ৩০টি পদ ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের ৩ টি পদ। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ২২টি পদের মধ্যে ১১টি পদ শূণ্য। এছাড়া দারোয়ানের পদসংখ্যা ২। আর এ ২’টি পদই রয়েছে শূণ্য। ৪টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মধ্যে ৩ টি উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের পদ শূণ্য। ৪ টি ফার্মাসিস্ট পদের মধ্যে ৪ টিই শূণ্য। ৮টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে ডাক্তার ও ভিজিটরদের বসার মতো চেয়ার টেবিলের ব্যবস্থা নেই।

এমতাবস্থায় পরীক্ষা-নীরিক্ষা করার জন্য রোগীদের হাতে স্লিপ ধরিয়ে দিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে যেতে বলা হয়। স্লিপ নিয়ে টানাটানি শুরু করে দেয় বিভিন্ন প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের দালালরা। প্রাইভেট ক্লিনিকে উচ্চ মূল্যে পরীক্ষা-নীরিক্ষা করতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছেন সাধারণ রোগীরা।

সচেতন মহল মনে করছেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কাঙ্খিত সেবা না পাওয়ার কারণেই উপজেলা সদরে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে বেশকিছু প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক। এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে রোগীদের সেবার মান নিয়ে রয়েছে ভুরি ভুরি অভিযোগ।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সালাহউদ্দিন মাহমুদ চিকিৎসক সংকট ও পরীক্ষা-নীরিক্ষার যন্ত্রপাতি নষ্টের সত্যতা স্বীকার করে জানান, এসব সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

চাঁদপুরের সিভিল সার্জন সাখাওয়াত উল্যাহ জানান, কনসালট্যান্ট চিকিৎসকের খসড়া তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। তালিকা যাচাই-বাচাইয়ের কাজ চলছে। আগামী দেড় থেকে দু’মাসের মধ্যে কনসালট্যান্টে চিকিৎসকের শূণ্যপদগুলো পূরণ হয়ে যাবে বলে আশা করছি।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন