ছয় কোটি ৮০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন পাচ্ছে বাংলাদেশ, প্রতি ডোজের দাম ১৩৮-১৭০ টাকা

ভ্যাকসিন

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- ৬৮ মিলিয়ন বা ৬ কোটি ৮০ লাখ ডোজ করোনার ভ্যাকসিন পাচ্ছে বাংলাদেশ। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ইমিউনাইজেশনে অর্থায়ন করা দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স-গ্যাভি সুবিধা থেকে বাংলাদেশ এ ভ্যাকসিন পাবে। প্রতিজন দুই ডোজ করে এই ভ্যাকসিন পাবেন। মোট জনসংখ্যার শতকরা ২০ শতাংশ হারে ধাপে ধাপে বাংলাদেশ এই ভ্যাকসিন পাবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদফতরে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়, কোভ্যাক্স-কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনস গ্লোবাল অ্যাকসেস ফ্যাসিলিটির উদ্যোগে ২০২১ সালে এই ভ্যাকসিন বাংলাদেশে আসবে। প্রতি ডোজের দাম পড়বে ১৩৮ থেকে ১৭০ টাকা। গ্যাভির পাশাপাশি এ উদ্যোগের যৌথ নেতৃত্বে আছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং দ্য কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস।

সংবাদ সম্মেলনের প্রধান বক্তা ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম।

এর আগে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান সেরামের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ। সেখান থেকে ৩ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে। এই ভ্যাকসিনের দাম অনেক বেশি। প্রতি ডোজ ৫ ডলার। যা বাংলাদেশি টাকায় ৪২৫ টাকা। প্রত্যেকের দুই ডোজ করে টিকা লাগবে। একটি ডোজের ২৮ দিন পর আরেকটি ডোজ দিতে হবে।

সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪ কোটি মানুষের ভ্যাকসিনের (দুই ডোজ করে) জন্য সরকার চুক্তি করেছে বলে জানা গেছে।

ভ্যাকসিন নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (জিএভিআই বা গ্যাভি-টিকা বিষয়ক আন্তর্জাতিক জোট) কাজ করছে। যখনই করোনার ভ্যাকসিন আসুক না কেন, সারা পৃথিবীর মানুষ যেন একসঙ্গে পায় সে বিষয়ে গত ৪ জুন গ্লোবাল ভ্যাকসিন সামিট হয়েছে। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় ‘কো ভ্যাক্স’ ফ্যাসিলিটির মাধ্যমে পৃথিবীর সবাই যেন সমহারে ভ্যাকসিন পায়।’

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মা, শিশু ও কৈশোর স্বাস্থ্য কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. শামসুল হক বলেন, যারা আগে জাতীয় ভ্যাকসিন বিতরণ পরিকল্পনা জমা দেবে তারাই আগে ভ্যাকসিন পাবে। গ্যাভি যখন থেকে পরিকল্পনা জমা নেয়া শুরু করবে, আশা করছি আমরা প্রথম দিনই আমাদের পরিকল্পনা জমা দিতে পারবো।’

গত জুলাই বাংলাদেশ কোভ্যাক্সে আবেদন করে এবং গ্যাভি সেটি গ্রহণ করে গত ১৪ জুলাই। বাংলাদেশ গ্যাভির কাছ থেকে ৬৮ মিলিয়ন বা ছয় কোটি ৮০ লাখ ভ্যাকসিন পাবে ( দুই ডোজ) ২০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর জন্য। আর তাতে করে জনসংখ্যার হারে হয় ৩৪ মিলিয়ন বা তিন কোটি ৪০ লাখ মানুষ আর এটা পাওয়া যাবে ২০২১ সালের মধ্যে। তবে গ্যাভি এটা বিনা পয়সায় দেবে না এর জন্য কো ফিন্যান্সিং এ যেতে হবে সরকারকে আর এটা এক দশমিক ছয় থেকে দুই ডলারের মধ্যে কিনতে পারবো। আর বাংলাদেশ এ নিয়ে কাজ করছে।

তবে ভ্যাকসিন আসার আগে জরুরি হচ্ছে ন্যাশনাল ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট প্ল্যান নিয়ে কাজ হচ্ছে যেটা একেবারেই শেষ পর্যায়ে বলে জানান ডা. শামসুল হক।

◷ ৭:০২ অপরাহ্ন ৷ বুধবার, নভেম্বর ২৫, ২০২০ জাতীয়