চাঁদপুরের মুক্তিযোদ্ধাদের ডুবিয়ে দেয়া সেই জাহাজ সংরক্ষণের দাবি

জাহাজ
❏ বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২৬, ২০২০ চট্টগ্রাম

চাঁদপুর প্রতিনিধি- মুক্তিযুদ্ধের সময় চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদীতে মাইন দিয়ে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছিলো হানাদার বাহিনীর অস্ত্রবাহী যুদ্ধজাহাজ ‘এমভি আকরাম’ (ছদ্মনাম লোরাম)। বর্তমান প্রজন্মের কাছে পূর্বপুরুষের বীরত্বগাঁথা এই অর্জনকে সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধারা। সেই সঙ্গে দেশের নৌ জাদুঘরটিও চাঁদপুরে করার দাবি করেন তাঁরা।

স্মারকলিপি হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন বীরপ্রতীক ও নৌ-কমান্ডো মমিন উল্লাহ পাটোয়ারী, বীর প্রতীক ও নৌ-কমান্ডো শাহজাহান কবির , ফরিদগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো.আলী হোসেন ভূঁইয়া.মতলব উত্তরের মো.বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আহমদ, নৌ-কমান্ডো মো.ফজলুল কবির, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শামসুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো.সোলায়মান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো.ফজলুল করিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আল আমিন গাজী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো.জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ খান-ই-আজম, চাঁদপুর সদর বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সানাউল্লাহ প্রমুখ।

প্রায় এক যুগ আগে উদ্ধার করা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবাহী এ জাহাজটি এখনও সংরক্ষণ না হওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন মুক্তিযুদ্ধের সময় জাহাজটি ডুবিয়ে দেওয়ার নেতৃত্বে থাকা মুক্তিযোদ্ধা মমিন উল্লাহ পাটোয়ারী বীর প্রতীক।

তিনি বলেন, ‘হানাদার বাহিনী চাঁদপুরে হামলার উদ্দেশ্যে অস্ত্র বোঝাই করে জাহাজটি নিয়ে প্রবেশ করলে আমরা মুক্তিযোদ্ধারা রাতের অন্ধকারে মাইন দিয়ে এটি ডুবিয়ে দিই। ২০০৮ সালে এটি সরকার নদীর তলদেশ থেকে তুলে নিয়ে বিক্রি করে দিলে চাঁদপুরের সচেতন মহল আন্দোলন শুরু করে। তখন সরকার এটি নারায়ণগঞ্জে সংরক্ষণ করে। আমরা চাই যেখানে জাহাজটি ডুবিয়ে ছিলাম, সেখানেই জাহাজটি আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে সরকার সংরক্ষণ করবে, যাতে পরবর্তী প্রজন্ম গর্ব করে বলতে পারে ও দেখাতে পারে তাঁদের পূর্বপুরুষের বীরত্বের কথা।’

সাংসদ শফিকুর রহমান বলেন, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের পাশে ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে জাহাজটি সংরক্ষণের জন্য দাবি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে নৌ জাদুঘরটিও চাঁদপুরে করতে সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়।

প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালে জাতির ক্রান্তিকালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর বহমানের আহবানে সাড়া দিয়ে বীরমুক্তিযোদ্ধাগণ পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেন। এ দীর্ঘ নয় মাস থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম, মংলা সমুদ্র, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ ১২৬ টি পাকিস্তানী রসদবাহী জাহাজ মাইনের মাধ্যমে গভীর পানিতে ডুবিয়ে দেয়া হয়। এতে হানাদার বাহিনীর জলপথে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। চাঁদপুরের নৌ-কমান্ডদের মাধ্যমে নিমজ্জিত এমভি আকরাম (লোরাম) একটি।

দীর্ঘদিন ডাকাতিয়া নদীরনদীর পলিমাটি পরে জাহাজটির ওপর ডুবোচর সৃষ্টি হলে ২০০৮ সালে বাংলাদেশ সরকার পুনরায় জাহাজটি নিলামের মাধ্যমে বিক্রির ব্যবস্থা নিলে একটি সংস্থা নিলামের মাধ্যমে ক্রয় করে। অনেক চেষ্টা করে এবং মাটির নিচে থেকে উত্তোলন করেন এটি।

নিলামে বিক্রির কারণে হাজার হাজার জনতা তৎকালীন সরকার কর্তৃক মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত চাঁদপুরের মুক্তিযোদ্ধাসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য অনেকদিন ধরে মানববন্ধন করেন। পরে এটি নারায়ণগঞ্জে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। এটি এখন চাঁদপুরের যে কোনো স্থানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজরিত এ জাহাজটি নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুর এনে সংরক্ষণের জন্যে এ স্মারকলিপি পেশ করা হয়।