• আজ ২১শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

‘অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখবেন, এটাই আমরা কথা’

৩:০৬ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২৬, ২০২০ জাতীয়
প্রধানমন্ত্রী

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- অপরাধী কোন দলের সেটা বিবেচনায় না নিয়ে তাকে অপরাধী হিসেবে দেখার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ১১৬, ১১৭ এবং ১১৮তম আইন ও প্রশাসন প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এই নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কতগুলো সমস্যা দেখা দেয় যেমন হঠাৎ এই যে ধর্ষণ, তারপর নারী নির্যাতন, কিশোর গ্যাং সৃষ্টি হলে। মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপনাদের যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। সেখানে কারও মুখ চেয়ে না…যারাই অপরাধী, অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখবেন, এটাই আমরা কথা।

“সে যে দলের হোক, যে কেউ হোক, অপরাধী অপরাধীই। কাজেই অপরাধী হিসেবে দেখে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে সমাজটাকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে হবে এবং সেটাই আপনারা করবেন।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশটাকে আমরা ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। গড়ে তুলতে চাই অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ; যে বাংলাদেশে প্রত্যেক মানুষ সম্মানের সাথে বসবাস করবে। আমরা চাই, সারাবিশ্বের কাছে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে সম্মান নিয়ে চলবে। কারণ জাতির পিতা বলেছিলেন, ভিক্ষুক জাতির কোনো ইজ্জত থাকে না। আমরা কিন্তু সর্বত্র চেষ্টা করেছি। এবারও আমরা বড় বাজেট দিয়েছি। আমরা চেষ্টা করেছি, কারও কাছে হাত পেতে নয়, নিজেরা চলব।’

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে আগামী দিনে খাদ্যাভাবের কথা চিন্তা করে দেশে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে সবার প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে বিশ্বব্যাপী যেকোনো সময় মহাদুর্যোগ চলে আসতে পারে। সেই সময় বাংলাদেশের মানুষে যেন খাদ্যে কষ্ট না পায়। আমাদের জমি সীমিত, কিন্তু আমরা রিসার্চ করে আমাদের উৎপাদন বাড়িয়েছি। এটা অব্যাহত রাখতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশকে আমরা উন্নত ও সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ হিসেবেই গড়ে তুলব। আর সেটার জন্য কিন্তু আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করতে হবে। হঠাৎ করেই কতকগুলো সমস্যা দেখা দিয়েছে। যেমন: ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, কিশোর গ্যাং সৃষ্টি, মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি। এগুলো বিরুদ্ধে আপনাদের আরও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। সেখানে কারও মুখ চিনে নয়, অপরাধী যেই হোক তাকে অপরাধী হিসেবেই দেখবেন।’

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রে যথেষ্ট উন্নতি করেছে। কিন্তু আরও আমরা উন্নতি করতে চাই। এই দেশটাকে আমরা গড়ে তুলতে চাই উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে। আধুনিক জ্ঞানসম্পন্ন প্রযুক্তিনির্ভর উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।’

শেখ হাসিনা স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ, পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, কর্ণফুলী টানেল, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু, মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন এবং সারাদেশে যোগাযোগের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানান। এছাড়া করোনার মধ্যেই সরকার যে প্রকল্পগুলো নিচ্ছে এবং যেগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে সেগুলোও যাতে ভালো ও মানসম্মতভাবে সম্পন্ন হয় সে বিষয়ে সবাইকে নজর রাখার নির্দেশ দেন।

প্রশিক্ষণার্থী সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী, ‘আপনারা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের মানুষকে ভালোবেসে তাদের জন্য কাজ করবেন। এই মনোভাব নিয়েই কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করবেন।’