করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী শীতল পাটি শিল্প

Shitol pathi pic
❏ শুক্রবার, নভেম্বর ২৭, ২০২০ ফিচার

হারুন-অর-রশীদ,ফরিদপুর প্রতিনিধি: শীতল পাটি কুঁটির শিল্পের গণ্ডি পেরিয়ে হয়েছে জাতিসংঘের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত পণ্য। দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তকমা পাওয়া এ উপকরণটি কালের বিবর্তনে ফরিদপুর থেকে ক্রমশই হারিয়ে যেতে বসেছে। দীর্ঘদিন ধরে কাঁচামাল ও পুঁজি সংকটে এতোদিন কোনোমতে চললেও করোনার ছোবলে পড়েছে অস্তিত্ব সংকটে। তবে স্থানীয় প্রশাসন বলছে, শিল্পটিকে বাঁচাতে চেষ্টা চলছে।

কারিগররা জানান, কাঁচামাল সংকট ও মূলধনের অভাব রয়েছে। পাঁশাপাশি কাঙ্খিত দাম না পাওয়া ও প্লাস্টিক পণ্যের সঙ্গে পেরে না ওঠায় অনেকেই এ পেশা ছেড়েছেন। করোনাকালে উৎপাদিত পণ্য অবিক্রিত থাকায় দেখা দিয়েছে অর্থনৈতিক সংকটও।

এমতবস্থায় এ শিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকারকে কার্যক্রম হাতে নেয়ার অনুরোধ জানালেন এ শিল্পের সাথে যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি।

উল্লেখ্য, ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় জায়গা পেয়েছে শীতল পাটি। শীতল পাটি এখন বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা ইউনেস্কো বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আবেদনক্রমে ৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের শীতল পাটি বুননের ঐতিহ্যগত হস্তশিল্পকে বিশ্বের ইনট্যানজিবল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর এ প্রস্তাবটি প্রণয়ন করেছিল ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে। বাংলাদেশ সরকারের পে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ইউনেসকোর কাছে প্রস্তাবটি দাখিল করেছিল। স্বীকৃতিদানের মূল কাজটি করে ইন্টারগভর্নমেন্টাল কমিটি ফর দ্য সেফগার্ডিং অব দ্য ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ।

যে গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ থেকে শীতল পাটি তৈরী করা হয় তার স্থানীয় নাম “মুর্তা”। স্থানভেদে একে মুসতাক, পাটিবেত ইত্যাদি নামেও অভিহিত করা হয়।

গোড়া থেকে কেটে পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয় মুর্তার কাণ্ড। দা দিয়ে চেঁছে পাতা ও ডাল-পালা ফেলে দেয়া হয়, দূর করা হয় ময়লা। এরপর মাটিতে মাছকাটার বটি ফেলে মুর্তার কাণ্ডটিকে চিড়ে লম্বালম্বি কমপক্ষে চারটি ফালি বের করা হয়। কাণ্ডের ভেতর ভাগে সাদা নরম অংশকে বলে ‘বুকা’। এই বুকা চেঁছে ফেলে দেয়া হয়। মুর্তার ছাল থেকে যতটা সম্ভব সরু ও পাতলা ‘বেতী’ তৈরী করে নেয়া।

বেতী যত সরু ও পাতলা হবে পাটি তত নরম ও মসৃণ হবে। এজন্য হাতের নখ দিয়ে ছিলে বুননযোগ্য বেতী আলাদা করা হয়ে থাকে। বেতী তৈরী হওয়ার পর এক-একটি গুচ্ছ বিড়ার আকারে বাঁধা হয়। তারপর সেই বিড়া ঢেকচিতে পানির সঙ্গে ভাতের মাড় এবং আমড়া, জারুল ও গেওলা ইত্যাদি গাছের পাতা মিশিয়ে সিদ্ধ করা হয়। এর ফলে বেতী হয় মোলায়েম, মসৃণ ও চকচকে।

রঙ্গীন নকশাদার পাটি তৈরীর জন্য সিদ্ধ করার সময় ভাতের মাড় ইত্যাদির সঙ্গে রঙের গুঁড়া মেশানো হয়। দক্ষ কারিগর একটি মুর্তা থেকে ১২টি পর্যন্ত সরু বেতি তৈরী করতে সক্ষম।