মাগুরায় হাঁস পালনে স্বাবলম্বী হচ্ছেন বেকার যুবকরা

magura
❏ শুক্রবার, নভেম্বর ২৭, ২০২০ সিলেট

মতিন রহমান, মাগুরা সংবাদদাতাঃ বাণিজ্যিক ভিত্তিতে দেশি হাঁস পালন করে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছেন মাগুরার বেকার যুবকেরা। মাছের পুকুরে, পতিত জমিতে, মাছের ঘেরে মাছ চাষের পাশাপাশি এ হাঁস পালন করছেন তারা।

তাদের এই হাঁস পালন দেখে জেলার অনেক বেকার যুবক ঝুঁকছেন হাঁসের খামার করতে। এভাবে জেলায় গড়ে উঠেছে ছোট বড় ১২০ টির বেশি হাঁসের খামার। তাই জেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তরের সহযোগিতা কামনা করছেন খামারীরা।

মাগুরা সদরের চাউলিয়া ইউনিয়নের সিরিজদিয়া বাঁওরে আর এক হাঁস চাষী সোহেল জানান, আমি ফরিদপুর রাজেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছি। নিজের পড়াশুনা পাশাপাশি বেকার না থেকে নিজের গ্রামের বাওড়ে হাঁস চাষ করি। দৌলতপুর থেকে হাঁসের বাচ্চা সংগ্রহ করে খামারে পরিচর্যা শুরু করি। বর্তমানে হাঁসের ভ্যাকসিন সংকট থাকায় এ চাষে অনেকটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছি। হাসেঁর ভ্যাকসিন দিতে পারলে হাস থাকে সুস্থ ও সবল। আমি আমার খামারে বর্তমানে ৪শ’ চাষ পালন করছি।

জেলা সদরের পারনান্দুয়ালী গ্রামের হাঁস চাষী আকিদুল ইসলাম জানান, সদরের মঘি ইউনিয়নে ৪ একর জমির একটি দীঘিতে আমি প্রথমে মাছ চাষ শুরু করি। সেখানেই মাছ চাষের পাশাপাশি দেশি ক্যাম্বেল হাঁস পালন করি। বর্তমানে আমার খামারে ১ হাজার দেশি হাঁস আছে। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত আমি তাদের নিয়মিত পরিচর্যা করি।

‘প্রতিদিন এ হাঁস খামার থেকে ৪শ’থেকে ৪শ’ ৫০টি ডিম আসছে। সামনে ডিম আরো বাড়বে। বাজারের পাইকারি ডিম ব্যবসায়ীরা খামার থেকে ডিম নিয়ে যায়। আমার খামার দেখে এলাকার অনেক বেকার যুবক এ চাষে উদ্ধুদ্ধ হচ্ছে।’

সদর উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের দুবাই ফেরত যুবক আশরাফুল বলেন, পরিবারের সহযোগিতার জন্য বিদেশ গিয়েছিলাম। সেখানে অনেক পরিশ্রম করেছি। দেশে ফিরে দেশি হাঁস পালন শুরু করি। এ হাঁস চাষে আমার পরিচর্যা কম করতে হয়। পুকুরের শামুক, লতা, পাতা ও প্রাকৃতিক খাদ্যই তারা বেশি খায়।

মাগুরা জেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তা ডা: মোহাম্মদ হাদিউজ্জামান জানান, জেলায় ছোট বড় ১২০ টির ওপরে হাঁসের খামার রয়েছে। বেকার যুবকদের উদ্ধুদ্ধ, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা জেলায় আরো খামার বাড়াতে চেষ্টা করছি।

‘পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে এ সব খামার দেখভালের জন্য কাজ করছে আমাদের মাঠকর্মীরা। বর্তমান সরকার বেকার যুবকদের স্বাবলম্বী করতে নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রাণী সম্পদ দপ্তর বেকার যুবকদের বর্তমানে ৪% হারে ঋণ দিয়ে সহযোগিতা করার চেষ্টা করছে।’

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন